kalerkantho


কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হোক

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সব মা-বাবাই চান তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ যেন ভালো হয়। তাঁরা যে সুযোগ-সুবিধা পাননি, তাঁদের সন্তানরা যেন সেটা পায়। তাই তাঁরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভর্তি করান, যেন তারা আরো ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে। কিন্তু কোচিং সেন্টারগুলো ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার এতই চাপ দেয় যে তাদের পক্ষে সেই চাপ নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। ফলে তারা ঘাবড়ে যায়। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও তাদের গাদা গাদা নোট বই পড়তে বাধ্য করা হয়। কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে মা-বাবা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেটা ভেবে দেখেন না। কোচিং সেন্টারগুলো ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনের তাগিদে সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলে পড়াশোনা হয় না বলে শত শত শিক্ষার্থী দল বেঁধে ছুটে চলেছে কোচিং সেন্টারগুলোতে। এই সুযোগে কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষাকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে সফল হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের কোচিংনির্ভরতা কাটাতে হলে সর্বপ্রথম পরিবর্তন আনতে হবে দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায়। শিক্ষাকে করতে হবে আধুনিক, সৃজনশীল ও যুগোপযোগী। স্কুলের পড়া স্কুলেই শেষ করতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা আর কখনো কোচিং সেন্টারমুখী হবে না। সমাজে এমনিতেই বৈষম্য আছে, তারপর শিক্ষাক্ষেত্রে যদি এভাবে কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য চলতে থাকে, তাহলে তা হবে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।

সাকিব আল হাসান, রৌমারী, কুড়িগ্রাম।


মন্তব্য