kalerkantho


সবার জন্য সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চাই

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মুখস্থ বিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। মার্কিন শিক্ষাবিদ বেনজামিন এস ব্লুম ১৯৫৬ সালে এ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। বাংলাদেশেও এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ শিক্ষক এর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি। ছাত্ররাও রয়ে যাচ্ছে আঁধারে। তাই শিক্ষকদেরও এ পদ্ধতির শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। অধিকাংশ শিক্ষার্থী সৃজনশীল পদ্ধতি একদম বোঝে না। নিজেদের ইচ্ছামতো উত্তর লিখে দেয়। তারা এখনো নোট, গাইড বা মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করে আছে। তাই তাদের জন্য সৃজনশীল পদ্ধতির চর্চা বাড়ানো দরকার। গাইড বা প্রাইভেট ছাড়াও যে সৃজনশীল উত্তর প্রদান করা যায় সে রহস্য শিক্ষার্থীদের সামনে উন্মোচন করতে হবে। অনেক অভিভাবক আছেন, যাঁরা সন্তানদের জন্য গাইড কিনে আনেন। তাঁদের ধারণা, গাইড ছাড়া ভালো ফল করা অসম্ভব। তাঁদের বুঝতে হবে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে হলে মূল বইয়ের বিকল্প কিছু নেই। ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমাদের সব শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, যদিও তার সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ। পরে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন এখনো তাঁরা কোনো প্রশিক্ষণ পাননি। তাই সবার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। আমাদের অনেক শিক্ষক প্রশ্ন কিনে সেগুলোর ওপর পরীক্ষা নেন। শিক্ষকরা যদি প্রশ্ন করতে না পারেন, তাহলে ছাত্ররা কিভাবে উত্তর দেবে? এর জন্যই প্রয়োজন প্রশিক্ষণ ও ব্যাপক প্রচারণা। দেশের ৯৮ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন। তাদের ওপর হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকায় সৃজনশীল রহস্য উদ্ঘাটন থেকে তারা বাদ পড়ছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সর্বোপরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি, সবার জন্য সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চাই।

ইয়াকুব আল মাহমুদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।


মন্তব্য