kalerkantho


রিজার্ভ চুরি ও আমাদের দায়

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংব্যবস্থা চালু হওয়ার পর আর্থিক লেনদেন যেমন সহজ ও গতি দ্রুততর হয়েছে, তেমনি ঝুঁকিও বেড়েছে। এর মধ্যেই হ্যাকাররা বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিংব্যবস্থায় সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে। সিএনএন জানিয়েছিল, ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টিরও বেশি ব্যাংকে সাইবার আক্রমণ চালিয়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার চুরি করে নিয়ে যায়। এটাই সবচেয়ে বড় সাইবার আক্রমণ হয়েছিল, যার সঙ্গে রাশিয়া, ইউক্রেন, চীন ও ইউরোপের হ্যাকাররা জড়িত ছিল এবং তাদের আক্রমণের ধারা সক্রিয় আছে বলেও সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। সাইবার আক্রমণের এসব খবর নিশ্চয়ই আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা জানতেন। তবে আমাদের ১৬ কোটি মানুষের পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত রিজার্ভ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে থেকে দুর্ভেদ্য প্রতিরোধব্যবস্থা নেয়নি। রিজার্ভ সুরক্ষায় একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, একইভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ও চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। আমাদের দেশের রিজার্ভ কতটুকু সুরক্ষিত আছে সে ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়েরও খোঁজখবর রাখা উচিত ছিল। এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা উচিত, যাতে চুরির সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানতে পারে। এ ছাড়া হ্যাকিং ঠেকানোর অনেক উপায়ও রয়েছে, যেগুলো আমাদের রিজার্ভ রক্ষায় যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না বলেই মনে হচ্ছে। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে কোনো রকম রাজনীতি করা উচিত হবে না এবং এ ব্যাপারে দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো বক্তব্য দেওয়াও উচিত নয়। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিংব্যবস্থায়ও আগে থেকেই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠানই নয়, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা আগে থেকেই নিশ্চিত করতে হবে।

বিপ্লব, ফরিদপুর


মন্তব্য