kalerkantho

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভা

রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস

ফাইল ছবি

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান, খাদ্য, শিশুদের পড়াশুনায় বাড়তি অর্থায়নের আশ্বাস দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক বহুজাতিক সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভার শেষ দিনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। রোহিঙ্গাদের জন্য এরই মধ্যে ৪২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এই টাকা অনুদান হিসেবে দিচ্ছে বহুজাতিক সংস্থাটি। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কারে আর্থিক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও এসেছে বিশ্বব্যাংক থেকে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, শরণার্থী হওয়ার কি কষ্ট তা আমরা বুঝি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশ থেকে এক কোটি মানুষ পাশের দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে যারা বাংলাদেশে এসেছে, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের এই দেশে থাকতে দিয়েছি। এখন আমাদের দায়িত্ব তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা। বসন্তকালীন সভায় আমরা মানবিক বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের সামনে তুলে ধরেছি। তারা আমাদের বলেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। ওই সব বৈঠকে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বৈঠকে আলোচনা হয়, রোহিঙ্গাদের  আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কত টাকা দরকার, তা বের করা। এদিকে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভা আনুষ্ঠানিকভাবে শনিবার শেষ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সদস্যভুক্ত ১৮৯টি দেশের প্রতিনিধিদের মিলনমেলা ভেঙেছে এদিন। এদিনও বিক্ষোভ হয়েছে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরের সামনে। তাতে ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে নিতে হলে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রাথমিক থেকে এই সংস্কার আনতে হবে। শ্রেণিকক্ষের মান বাড়ানো, পড়াশুনার মান উন্নয়ন, মাল্টিমিডিয়া, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোসহ সামগ্রিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অনেক টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছে শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে তাদের কাছে বাড়তি বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছি। বিশ্বব্যাংক আমাদের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তারা আমাদের শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কারে বিনিয়োগে রাজি হয়েছে। তারা বলেছে, সংস্কারে কত টাকা দরকার, তা বের করে তাদের জানাতে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান বড় বড় প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করতে যদি আরো টাকার প্রয়োজন হয়, প্রয়োজনে তা-ও দেওয়া হবে।

এবারের বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভার প্রথম দিন দায়িত্বভার নেন বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যাঁর সখ্য বহুদিনের এবং বিশ্বব্যাংকের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ম্যালপাস। তাই এবারের সভায় ম্যালপাসের ভূমিকা দেখতে অনেক দেশের প্রতিনিধিরা উন্মুখ হয়ে ছিলেন। অবশ্য ম্যালপাস দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছেন, আগে তিনি যা কিছু বলেছেন, তা অতীত। এখন তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। তাই বিশ্বব্যাংকের যে নীতি কৌশল, তা মেনেই তিনি কাজ করবেন। তবে তাঁর এই কথায় এখনো অনেক দেশ আশ্বস্ত হতে পারেনি। বিশেষ করে চীন। কারণ, ম্যালপাস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার আগে জানিয়েছেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পরও চীন বিশ্বব্যাংক থেকে এত টাকা ঋণ পায় কিভাবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ম্যালপাস। তাই আগামী দিনে চীনের জন্য বিশ্বব্যাংকের ঋণ কমে যায় কি না তা দেখার বিষয়। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এবারের বসন্তকালীন সভা শেষ হয়েছে সদস্যভুক্ত ১৮৯টি দেশের দারিদ্র্যের হার কমানোর পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাসের মধ্য দিয়ে। তবে বিশ্বব্যাংকের  প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেওয়া ডেভিড ম্যালপাসের ভূমিকা কি হবে সামনের দিনগুলোতে, তা দেখার অপেক্ষায় আছে অনেক উন্নয়নশীল দেশ।

মন্তব্য