kalerkantho

নিউ ইয়র্কে সিসার মারাত্মক ঝুঁকিতে বাংলাদেশি শিশুরা

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক থেকে   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিউ ইয়র্কে সিসার মারাত্মক ঝুঁকিতে বাংলাদেশি শিশুরা

নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয় বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মারাত্মক সিসার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুদের  মধ্যে এই সংকট অনেক বেশি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দৈনন্দিন জীবনাচরণের কারণে প্রতিনিয়ত অনেকের রক্তে লেড বা সিসার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন তাঁরা। এর ফলে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতিসহ হাত ও পা ঝিমঝিম করা, অবশ লাগা, বিষণ্নতা, স্মৃতিশক্তি হারানো, পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখের স্বাদ পাল্টে ধাতব স্বাদ, রক্তশূন্যতা, রক্ত ভেঙে গিয়ে রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তাঁরা।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘দি অপটিমিস্ট’-এর আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এসংক্রান্ত নানা তথ্য তুলে ধরেন। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকার, শিশু বিশেষজ্ঞ ফজলুল ইউসুফ ও নিউ ইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা। গত সোমবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে তাঁরা দেখান কিভাবে দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে সিসার মাত্রা বাড়ছে। খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনাচরণকে দায়ী করেন তাঁরা। দেশ থেকে নিয়ে আসা গুঁড়া মসলার কারণে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া কাজল, সুরমা, সিঁদুরের ব্যবহার, আয়ুর্বেদিক, হারবাল, টোটকা চিকিৎসা, খাবারের প্লেটের গ্লেজ থেকে সিসা ছড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

ড. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, সিসা বা লেড এমনই একটি পদার্থ যা মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি মারাত্মক। কিভাবে এটি ছড়ায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাবারের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। খালি পায়ে হাঁটলে কারো শরীরের ভেতর নীরবে ঢুকে পড়তে পারে এই ঘাতক পদার্থ। যেসব এলাকায় নানা ধরনের কারখানা রয়েছে, সেসব এলাকার উত্পাদিত পণ্যে সিসার মাত্রা বেশি থাকে। ওই এলাকার ধুলা ও বাতাসের মাধ্যমেও সিসা শরীরে ঢুকে যেতে পারে। শিশু যদি সেখানে হামাগুড়ি দেয় তাহলে ধুলার মাধ্যমে শিশুর রক্তে সিসা মিশে যেতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে বক্তারা জানান, স্বাভাবিকভাবে শিশুদের শরীরে সিসার পরিমাণ পাঁচ মাইক্রোগ্রামের নিচে থাকার কথা। পরিণত বয়সে রক্তে এর উপস্থিতি হওয়া উচিত ১০ মাইক্রোগ্রামের নিচে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এই মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, চিকিৎসায় হয়তো রক্তে এই ধাতবের পরিমাণ কমে, কিন্তু ব্রেন বা কোষে যে ক্ষতি হয়ে যায় তা আর ফিরে আসে না। আর সে জন্যই এটির প্রতিরোধ খুব জরুরি। 

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অপটিমিস্টের সাধারণ সম্পাদক নিশাদ হক, কার্যকরী কমিটির সদস্য মিনহাজ আহমেদ। তাঁরা জানান, ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা ‘দি অপটিমিস্ট’ মানবতার কল্যাণে কাজ করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষার কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংকটাপন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করে অপটিমিস্ট। সেই সঙ্গে কল্যাণমুখী নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত এই প্রতিষ্ঠান।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ২৫টি জেলায় এই প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য জেলার মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম। এই সংগঠনের মাধ্যমে গত দেড় দশকের বেশি সময়ে আনুমানিক দেড় মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যার অর্থে দেশের তিন হাজারেরও বেশি ছেলে-মেয়ে ও তাদের পরিবার বছরের পর বছর উপকৃত হচ্ছে। এর মধ্যে সাভারের রানা প্লাজায় পোশাকশিল্পে নিহত শ্রমিকদের স্কুল-কলেজগামী ৭৯ জন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে অপটিমিস্টের আওতায় প্রসূতি ও নবজাতক সন্তানদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা, জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য