kalerkantho

আ নিউ ফ্ল্যাগ ইজ বর্ন

আজাদুর রহমান চন্দন   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ নিউ ফ্ল্যাগ ইজ বর্ন

‘‘আজ একটি নতুন পতাকার জন্ম হয়েছে—লাল বৃত্তের মাঝখানে বাংলাদেশের সোনালি রঙের মানচিত্র বসানো গাঢ় সবুজ রঙের আয়তাকার একটি পতাকা। সমকালীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বমূলক পতাকার তালিকায় এটিই সর্বশেষ সংযোজন। এই পতাকাটি হচ্ছে ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’-এর। এই পতাকাটি হচ্ছে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মুক্তির প্রতীক।’’ ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশে সবখানে যে নতুন পতাকা ওড়ানো হয়েছিল তাকে এভাবেই চিত্রিত করেছিল পরদিন দ্য পিপল ‘আ নিউ ফ্ল্যাগ ইজ বর্ন’ অর্থাৎ একটি নতুন পতাকার জন্ম শিরোনামে।

একাত্তরের এই দিনে সারা দেশে প্রথমবারের মতো উত্তোলন করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলার পতাকা। পাশাপাশি চলমান আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উত্তোলন করা হয়েছিল কালো পতাকা। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমণ্ডিতে তাঁর বাসভবনে নিজ হাতে পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে তখন লাখো মানুষ  সম্মিলিত কণ্ঠে গেয়ে উঠেছিল ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গানটি। ওই সময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীন বাংলার পতাকা বিতরণ করা হয়। ঢাকায় সেক্রেটারিয়েট, প্রধান বিচারপতি ভবন, হাইকোর্ট, পিলখানায় ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা বেতার ও টেলিভিশন ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মুখ্য সচিবের বাসভবনসহ সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করার সময় পাকিস্তানি সেনারা বাধা দিলে তাত্ক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানায় ছাত্র-জনতা। প্রতিবাদের মুখে সেনাবাহিনী পিছু হটলে ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসব তথ্যই পরদিন প্রকাশিত হয় ঢাকার বিভিন্ন সংবাদপত্রে।

‘বাংলার পতাকা জনতা সবখানেই উড়িয়ে দিয়েছে’ শিরোনামে দৈনিক পাকিস্তানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সারা বাংলাদেশে গতকাল মঙ্গলবার তেইশে মার্চ পাকিস্তানি পতাকা ওড়েনি। শুধু সামরিক ছাউনিতে উড্ডীন ছিল ওই পতাকা। আর সর্বত্র উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা ও কালো পতাকা। স্বাধীন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বানক্রমে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন ও সোভিয়েত কনস্যুলেটে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাকিস্তান সরকারের ২৩শে মার্চের পাকিস্তান দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকার চীনা, ইরানি, ইন্দোনেশীয় ও নেপালি দূতাবাসে পাকিস্তানি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। পরে ছাত্র নেতারা ও জনতা এসব দূতাবাসে গিয়ে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে দেয়। মার্কিন দূতাবাস এদিন বিতর্ক এড়াবার নামে কোনো পতাকাই উত্তোলন করেনি।’

‘এবারের তেইশে মার্চ’ শিরোনামে সম্পাদকীয় নিবন্ধে দৈনিক ইত্তেফাক লিখেছিল, “সারা বাংলাদেশে এবারও তেইশে মার্চ উদ্যাপিত হইতেছে। কিন্তু এ এক নবতর তেইশে মার্চ। নতুন ইহার সাজ। নতুন ইহার ধ্বনি। তেইশে মার্চ বলিতে মানুষ এতদিন যাহা বুঝিত তাহা আর নাই, মানুষের সেই ধ্যান-ধারণা আমূল বদলাইয়া গিয়াছে। তদস্থলে তেইশে মার্চ নতুন আঙ্গিকে পরিগ্রহ করিয়াছে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপ, নতুন এক অর্থ। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ইহাকে ‘প্রতিরোধ দিবস’রূপে পালনের ডাক দিয়াছেন। শেখ সাহেব ইহাকে সাধারণ সরকারি ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করিয়া ‘লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন দিবস’ হিসাবে উদ্যাপনের আহ্বান জানাইয়াছেন।”

একাত্তরের এই দিনে তখনকার অন্যতম প্রধান দৈনিক সংবাদ সম্পাদকীয় নিবন্ধের শিরোনাম করেছিল ‘২৩ মার্চ—আত্মজিজ্ঞাসার দিন’।

মন্তব্য