kalerkantho


শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ

ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

শেকৃবি প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগে বেশ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া চাহিদার চেয়ে অধিক জনবল নিয়োগ, ইউজিসির আইন অমান্য করে প্রার্থীদের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা, স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দিয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো রেজাল্টধারীদের বঞ্চিত করে অন্যদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও নিয়োগপ্রত্যাশী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর শেকৃবির চারটি অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে ৭৫ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে কৃষি অনুষদে ৩০ জন, এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে ২০ জন, ফিশারিজ অনুষদে ১৮ জন এবং অ্যাগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদে সাতজন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। বিভিন্ন বিভাগের মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ১০১ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদান করা হয়, যা বিজ্ঞাপিত চাহিদার চেয়ে ২৬ জন বেশি। এর মধ্যে ২১ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রাখা হয়, যা ইউজিসি আইনের পরিপন্থী। ফলে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ অপেক্ষমাণ এই ২১ প্রার্থীর নিয়োগের অনুমোদন দিতে নারাজ।

জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউজিসির আইনে কোনো কন্ডিশনাল (শর্ত সাপেক্ষে) নিয়োগ দেওয়া যায় না। যাদের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে, তাদের নিয়োগ দিতে হলে অবশ্যই আমাদের কাছে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এটা ইউজিসির আইনে না থাকায় আমরা তাদের অনুমতি দেব না।’

এদিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ইনস্টিটিউট অব সিড টেকনোলজিতে নিয়োগ দেওয়ার কোনো উল্লেখ না থাকলেও পাঁচজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যতসংখ্যক পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা, ততটা পদেই নিয়োগ দিতে হবে। অতিরিক্ত নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়টি একসময় বাজেট ঘাটটিতে পড়বে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘অ্যাপিয়ার্ড সনদ দিয়ে আবেদন করা অনেককেই ভাইভা কার্ড দেওয়া হয়নি। কিন্তু পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পাওয়া মাকসুদা বেগম অ্যাপিয়ার্ড সনদ দিয়ে আবেদন করার পরও তাঁকে ভাইভা কার্ড দেওয়া হয়। ভাইভার আগের দিন তাঁর পিএইচডির ফল বের হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সূত্র জানায়, কৃষিতত্ত্ব বিভাগে নিয়োগ বোর্ডে এক্সপার্ট হিসেবে উপাচার্যের জামাতা, ওই বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা হাসানুজ্জামানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অভিযোগ আছে, উপাচার্য তাঁর আপন ভাগ্নে মো. মাহবুব আলমকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য জামাতাকে এক্সপার্ট হিসেবে নিয়োগ দেন। একইভাবে কৃষি অনুষদের তিনটি বিভাগে প্রভাবশালী শিক্ষকদের আরো তিন আত্মীয়কে নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, অ্যাগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল হক বেগের মেয়ে তাহরিমা হক বেগকে প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তাহরিমা হক ‘আশা ইউনিভার্সিটি’ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, শেকৃবির নিয়োগবিধিমালায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নিয়োগবিধি অনুসরণ করার কথা রয়েছে। ওই বিধির আলোকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি অটোমেটিকভাবে বাদ হয়ে যাওয়ার কথা। এর পরও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তাহরিমা হককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বিজ্ঞাপিত চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আটজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা সাক্ষাৎ করলে তিনি বলেন, ‘আমার সময় নেই। নিয়োগ নিয়ে কোনো কথা বলার দরকার নেই। আই ডোন্ট ফিল অ্যানি নিড টু টক উইথ ইউ। এই হলো কথা। আমার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।’



মন্তব্য