kalerkantho


জামায়াত নিয়ে মতভেদ বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে

শফিক সাফি   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



জামায়াত নিয়ে মতভেদ বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রাখা না রাখা নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে। কমিটির একটি অংশের মত হচ্ছে, এই মুহূর্তে জামায়াতকে ছেড়ে দিলে বিএনপির লাভ-ক্ষতি কী তা আগে খতিয়ে দেখা। অন্য অংশের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের প্রস্তাব না দিয়ে ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিলেই হয়ে যাবে। কেননা স্বাধীনতাবিরোধী দলটির সঙ্গে জোট হয়েছিল নির্বাচন ও ভোটের হিসাবে। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত বুধবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই ভিন্নমত দেখা দিলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার বিষয়ে আরো কিছু দিন কৌশলী অবস্থানে থাকবে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বরাবরই জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে। কেননা জামায়াত বিএনপির জন্য বড় দায় হয়ে পড়েছে। জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।’

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক নানা কথা হচ্ছে। এই ইস্যুতে ফায়দা নিচ্ছে ক্ষমতাসীন জোট সংসদের বাইরে থাকা কিছু দলও। দেশি-বিদেশি নানা মহলের চাপও আছে বিএনপির ওপর। আর বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবীরাও পরামর্শ দিচ্ছেন জামায়াতকে ছেড়ে দিতে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি স্থায়ী কমিটির বৈঠকের এজেন্ডায় না থাকার পরও আলোচনায় আসে।

ওই নেতারা আরো জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা, ডাকসুর নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবিসহ নানা বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র এক নেতা বলেন, জামায়াতকে ছাড়তে হবে। বিদেশিদের কাছে তাদের ব্যাপারে নানা

কথা শুনতে হয়। তাদের ছেড়ে দেওয়াই মঙ্গল। ওই সময় কমিটির এক সিনিয়র সদস্য বলেন, ডাকসু নির্বাচনে শিবির ছাত্রদলের বিরোধিতা করেছে। জামায়াতের নতুন প্রজন্ম ডাকসুতে ছাত্রদলকে ভোট দেয়নি। এর জবাবে ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত এক নেতা বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জোট হওয়ায় ভোট কমেছে। কারণ জয়বাংলা স্লোগানধারীদের সঙ্গে জোট হওয়ায় বিএনপি সমর্থকরা ক্ষুব্ধ।

বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, জামায়াতের কারণে বিএনপির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। বিএনপির উচিত হবে এই মুহূর্তে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করা।

জানা যায়, বুধবার গুলশানে ওই বৈঠকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবার কথা শুনলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এই ইস্যুতে আরো ভেবেচিন্তে সিনিয়র নেতাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন তিনি।

এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে কেউ কেউ বলেছেন, জামায়াতকে ২০ দলের বাইরে রাখা উচিত। তবে দুজন নেতার মতে, পুরো জোটই ভেঙে দিতে হবে। ২০ দলের কোনো প্রয়োজনীয়তা এখন আর নেই। ঐক্যফ্রন্ট থেকেও সরে আসার মত দেন কয়েকজন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত এক সদস্য জানান, বৈঠকে একজন বলেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জামায়াতকে ছেড়ে দিলে দলটির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক তিক্ত হতে পারে। পুরো জোট ভেঙে দিলে সম্পর্ক ততটা খারাপ হবে না। এর সঙ্গে একমত পোষণ করে কয়েকজন নেতা বলেন, জামায়াতকে ছেড়ে দিলে লাভ-ক্ষতিটা কী সেটা আগে মূল্যায়ন করতে হবে। সরকার চাইলে যেকোনো সময় জামায়াত নিষিদ্ধ করা সম্ভব, কিন্তু তারা তা করছে না। রাজনীতির প্যাঁচে যাতে বিএনপি না পড়ে, বিএনপিই যাতে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে ফেলে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।



মন্তব্য