kalerkantho

খেলনা পিস্তল তবু ‘মেরামত’?

মাসুদ রুমী   

১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খেলনা পিস্তল তবু ‘মেরামত’?

চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছিনতাইচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজটি মেরামতের জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে। বিমানটি বুধবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ। ‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাইচেষ্টার পর থেকে কর্তৃপক্ষ ঘটনায় নিহত পলাশ আহমেদের হাতে ‘খেলনা’ পিস্তল পাওয়ার কথা বলে আসছে; যদিও উড়োজাহাজটির যাত্রীরা বলছে ভিন্নকথা। এর পরও চট্টগ্রাম ও ঢাকায় উড়োজাহাজটির দুই দফা মেরামত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে যাওয়া বিশেষজ্ঞ টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কিছু মেরামতের পর উড়োজাহাজটিকে ওড়ার উপযোগী ঘোষণা করে। পরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাসংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়ার অনুমতি সাপেক্ষে উড়াল দেয় ময়ূরপঙ্খী।

শাকিল মেরাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বুধবার রাতে এয়ারক্রাফট বুঝে পেয়েছি। এটি বিমানের মেইনটেন্যান্স হ্যাঙ্গারে আছে। কেবিনে যেসব কাজের প্রয়োজন সেগুলো করা হচ্ছে। আমরা বোয়িংয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি। ঢাকায় তাদের প্রতিনিধি আছে, তারাও মেরামতের কাজে সহায়তা করছে।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানায়, ছিনতাইচেষ্টার পর অভিযানে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজটি। উড়োজাহাজটির যেসব যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো বোয়িং থেকে চলে এসেছে। সুইচ বোর্ডসহ অন্য দু-একটি জিনিসের মোরমত এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িংয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক হচ্ছে। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে এটি আবার নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খী ঢাকা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার মধ্যে সন্ধ্যার দিকে মাত্র আট মিনিটের কমান্ডো অভিযানে ছিনতাইকারী পলাশ আহমেদ নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে ছিনতাই কাণ্ডের অবসান ঘটে।

এর পর থেকে সরকারি একাধিক সংস্থার একেক রকম বক্তব্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। প্রথমে বলা হয় ছিনতাইচেষ্টাকারীর কাছে পিস্তল আছে, শরীরে বোমা বাঁধা থাকতে পারে। যাত্রীদের কেউ কেউ উড়োজাহাজ থেকে নেমে বলে, তারা দু-তিনটি গুলির আওয়াজ শুনেছে। বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর কাছে সাংবাদিকরা পরের দিন ব্রিফিংয়ে ‘আসল’ ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছিনতাইচেষ্টাকারীর হাতের পিস্তলটি ছিল ‘খেলনা’। চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার বলেছেন, তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন সেটা ‘খেলনা’ পিস্তল। ছিনতাইচেষ্টাকারীর শরীরে বোমা বাঁধা ছিল না।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান বলেন, ‘এয়ারক্রাফটে গোলাগুলি হলে তার চিহ্ন থাকত। আমরা কোনো চিহ্ন কোথাও পাইনি। খেলনা পিস্তলেও শব্দ হয়। যাত্রীরা গুলির শব্দ শোনার কথা বলেছে।’

নানাজনের নানা মত প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় একটি জায়গা থেকে বক্তব্য গণমাধ্যমে গেলে ভালো হতো। তদন্তে সব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে।’

সূত্র জানায়, ভেতরে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটি গুলি ককপিটের দরজা ভেদ করে ইলেকট্রিক প্যানেলে লেগেছে। আরেকটি বিজনেস ক্লাসের পার্টিশন ভেদ করে কেবিনেটে লেগেছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এসব গুলি এলো কী করে? জানতে চাইলে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রবিবারের মধ্যে আমরা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা চট্টগ্রাম গিয়ে এয়ারক্রাফটি পরিদর্শনসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট কাজ করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।’

এ ঘটনায় ওই সময় বিমানবন্দরে কর্মরতদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মহিবুল হক জানান, ‘যাঁরা ঘটনার দিন দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের আগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আশা করছি, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন আগামী সোমবারের মধ্যে পাব।’

মন্তব্য