kalerkantho

মেলা দুই দিন বাড়ল

নওশাদ জামিল   

১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মেলা দুই দিন বাড়ল

ঝড়বৃষ্টিতে কিছুটা ছন্দঃপতন হলেও গতকাল বিকেলে ঠিকই জমে ওঠে বইমেলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শেষ হয়েও হলো না শেষ। পূর্বনির্ধারিত সমাপনী আয়োজন হলো, গ্রন্থমেলার শেষ দিনে অনুসারে আয়োজিত হলো বিশেষ লেজার শো। অন্তিম মুহূর্তে জানানো হলো, লেখক, প্রকাশক ও পাঠক-ক্রেতার সুবিধার্থে গ্রন্থমেলার সময় দুই দিন বাড়ানোর নির্দেশ নিয়েছেন সংস্কৃতিবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার গ্রন্থমেলা খোলা থাকবে। দুই দিনই মেলার দ্বার খুলবে সকাল ১১টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায় লেখক, প্রকাশক ও পাঠকরা।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকরা গ্রন্থমেলার সময় বাড়ানোর দাবি জানায়। নিয়ম অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার মেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল। গতকাল রাতে মেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবু সময় আরো দুই দিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী খালিদ বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে প্রকাশকদের ক্ষতি হয়েছে, পাঠকরাও প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করতে পারেননি। আমরা এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’

সংস্কৃতিবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপেই মেলার সময় বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘আমাদের কাছে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি অনুরোধ করেছে মেলার সময়সীমা বাড়ানো যায় কি না। বইমেলা মূলত ফেব্রুয়ারি মাস ঘিরে। এ ছাড়া ৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠান হবে। এ বিষয়টি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের সুবিধার্থে তিনি মেলার সময়সীমা আরো দুই দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ আগামী ২ মার্চ মেলার সমাপ্তি হবে।’

মেলার দিন বাড়ানোর ঘোষণায় গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে বয়ে যায় আনন্দের ফল্গুধারা। লেখক, প্রকাশক ও পাঠকরা আনন্দ প্রকাশ করে। জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ প্রকাশকদের মনের কথা শোনার জন্য। এবারের মেলার যে প্রতিপাদ্য বায়ান্ন থেকে একাত্তর, সেটাও পূর্ণতা পেল। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা লেখক ও প্রকাশকদের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’

গ্রন্থমেলার শেষ দিন অনুসারে গতকাল ছিল বইপ্রিয় মানুষের বাঁধভাঙা উপস্থিতি। বিকেল ৩টায় মেলার দ্বার খুলতেই দলে দলে এসেছে ক্রেতা-পাঠক। সন্ধ্যার দিকে গোটা প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয় লোকারণ্যে। মেলার শেষ সময় বিক্রি ও ভিড় বেশি হয়, এটাই স্বাভাবিক। গতকালও হলো সেটি। কিন্তু সব কিছুতেই ছিল ভাঙনের ছোঁয়া। চায়ের স্টলে, ডিভাইডারে কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলেছে বিদায়বেলার আলাপচারিতা। কেউ কেউ আফসোস করে বলেন, দুই দিন মেলার সময় বাড়ালে কী এমন ক্ষতি হতো!

বই বিক্রির রেকর্ড : এবার মেলায় গতবারের তুলনায় বিক্রি বেশ বেড়েছে। গতবারের বিক্রি ছিল ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এবার ৭৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি মোট দুই কোটি ৯১ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে। আর গতকালের বিক্রি ১৫ লাখ টাকা অনুমান করে এ অঙ্ক দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

নতুন বইয়ের ছড়াছড়ি : এবার মেলায় নতুন বই এসেছে চার হাজার ৬৮৫টি। গতবারের মেলায় নতুন বই এসেছিল চার হাজার ৫৯১টি। গত বছরের চেয়ে এবার ৯৪টি বই বেশি প্রকাশিত হয়েছে।

সমাপনী আয়োজন : সন্ধ্যায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে আয়োজন করা হয় পূর্বনির্ধাতি সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সমাপনী অনুষ্ঠানে গ্রন্থমেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’-এর সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ। একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

অনুষ্ঠানে কবি নির্মলেন্দু গুণকে কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে বাংলা একাডেমির প্রবর্তিত বিভিন্ন গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিকসংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯, ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে গোলাম মুরশিদের ‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত : নজরুল-জীবনী’ গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে, মইনুদ্দীন খালেদের ‘মনোরথে শিল্পের পথে’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্সকে এবং মারুফুল ইসলামের ‘মুঠোর ভেতর রোদ’ গ্রন্থের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯ এবং ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মধ্যমা (এক ইউনিট), বাতিঘর (বহু ইউনিট) এবং পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে (প্যাভিলিয়ন) শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়।

মন্তব্য