kalerkantho


সবিশেষ

কোমা থেকে জেগেই কিশোরী দেখল নিজের সন্তান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



কোমা থেকে জেগেই কিশোরী দেখল নিজের সন্তান

ব্রিটিশ কিশোরী এবোনি স্টিভেনসন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে যাওয়ার পর যখন জ্ঞান ফিরল, তখন দেখল তার পাশেই ফুটফুটে এক কন্যাশিশু। অথচ অজ্ঞান হওয়ার আগ পর্যন্ত সে জানতই না যে সে গর্ভবতী হয়েছে। এমন কোনো ধরনের শারীরিক আলামতই তার ছিল না। ঘটনাটিকে একেবারেই অলৌকিক বলছে এই কিশোরী মা।

গতকাল মঙ্গলবার বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসকরা যখন ১৮ বছর বয়সী এবোনিকে জানালেন যে এই শিশু তারই কন্যা, তখন সে নিজেই বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে অবস্থিত ওল্ডহ্যাম শহরে সম্প্রতি এই তাক লাগানো ঘটন ঘটে।

হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবোনিকে। সেখানে তাকে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে ডাক্তাররা আবিষ্কার করেন, এবোনি সন্তানসম্ভবা এবং পেটের শিশুকে বাঁচাতে হলে তাকে তখনই পেট থেকে বের করে আনতে হবে। এবোনির মা কিছুতেই এ কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কারণ মেয়ের শরীরে গর্ভের কোনো লক্ষণই ছিল না। কিন্তু ডাক্তাররা তাঁকে স্বচক্ষে দেখান যে হঠাৎ হঠাৎ একটুর জন্য কেমন ফুলে ওঠে এবোনির পেট।

অবশেষে অস্ত্রোপচার হয়। জন্ম নেয় ফুটফুটে কন্যাশিশু। ডাক্তাররাও খুব অবাক হয়েছিলেন এটা জেনে যে গর্ভবতী নিজেই সে কথা জানত না! এমনকি গর্ভবতী নারীদের পেট যেভাবে ফুলে ওঠে তেমন কিছুও দেখা যায়নি স্টিভেনসনের শরীরে। স্টিভেনসনের মাসিকও হয়েছে নিয়মিত। তাহলে এই শিশু কিভাবে জন্ম নিল!

চিকিৎসকরা জানান, এই অবস্থাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ইউটেরাস ডিডালফিস’। স্টিভেনসনের শরীরে ছিল দুটি জরায়ু। সামনের জরায়ুটি থেকে প্রতি মাসে মাসিক হয়েছে। আর সামনের জরায়ুর পেছনে লুকিয়ে থাকা দ্বিতীয় জরায়ুতে বেড়ে উঠেছে এই শিশু।

ফলে গর্ভাবস্থায় তার পেটও বড় হয়নি। শুধু মাঝেমধ্যে সকালবেলায় স্টিভেনসনের একটু দুর্বল লাগত। এ ছাড়া আর কিছুই টের পায়নি সে। তাই সন্তানসম্ভবা হওয়ার পরও বিষয়টি থেকে গেছে স্বয়ং গর্ভবতীরই জানার বাইরে। মূলত গর্ভসংক্রান্ত জটিলতার কারণেই সে গুরুতর অসুস্থ হয়েছিল।

নিজের মেয়েকে এখন সে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে বলে জানিয়েছে এবোনি। প্রথমবার কোনো কিছু না জেনে-বুঝেই মা হওয়া এই কিশোরী তার মেয়ের নাম রেখেছে এলোডি। সে বলে, সে সন্তানকে নিয়ে শঙ্কিত। কারণ শিশুটির আগমন ঘিরে তার কোনো চিন্তা ছিল না। এবোনি বলে, ‘তবে আমি মনে করি, এটা দারুণ। এটা একেবারেই অলৌকিক।’ চলতি ফেব্রুয়ারিতেই সে লেখাপড়ায় ফিরবে বলে জানায়।



মন্তব্য