kalerkantho


আসামি নেতার হাজিরায় কর্মী

আদালতের নির্দেশে দুজনই কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



আসামি নেতার হাজিরায় কর্মী

বগুড়ায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় শহর (উত্তর) স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির হয়ে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন ওই সংগঠনের এক কর্মী। পরে মূল আসামি আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও প্রতারণার দায়ে নেতাকর্মী উভয়কেই কারাগারে যেতে হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২)-এর আদালতে। আদালতের বিচারক ইশরাত জাহান প্রতারণার অভিযোগে

অভিযুক্ত শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের (উত্তর) সভাপতি মশিউর রহমান মন্টি ও কর্মী রিফাত শেখের বিরুদ্ধে ৪২৬ ধারায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মন্টির বিরুদ্ধে চলমান বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটির জামিন বাতিল করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, বিগত ২০১৪ সালে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলার আসামি ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মন্টি। এই মামলায় মন্টি ছাড়াও আরিফ, রানা, মুরাদ ও ময়েন নামের আরো চারজন আসামি ছিলেন। আসামিরা প্রত্যেকেই জামিনে মুক্ত রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি ছিল বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২)-এর আদালতের বিচারক ইশরাত জাহানের এজলাসে। যথারীতি মামলার আইনজীবী আব্দুস সালাম মণ্ডল পাঁচজন আসামির হাজিরা বন্ডে স্বাক্ষর করে বিচারকের পেশকারের কাছে জমা করেন। এরপর দুপুরে আদালতে শুনানিকালে নিজেকে মন্টি দাবি করা যুবকের প্রতারণা বিচারক ধরে ফেলেন। কারন শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি কাজী রবিউল আলম মিঠু আদালতকে জানান যে কাঠগড়ার ব্যক্তি মন্টি নয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে মন্টির হয়ে আদালতে প্রক্সি হাজিরা দিতে আসার কথা স্বীকার করে রিফাত।

এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের (উত্তর) সভাপতি মশিউর রহমান মন্টি ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর আদালতে ছুটে যান। তাঁর হয়ে আইনজীবী রাফি বিন মমিন পুনরায় আরো একটি হাজিরা বন্ডে স্বাক্ষর করে বিচারকের পেশকারের কাছে জমা করেন। আদালতের কাঠগড়ায় আসামি দাঁড়ানোয় তিনি নিজে এবং তাঁর পক্ষে আইনজীবী ভুল স্বীকার করে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও পার পাননি। বিচারক এ ঘটনাকে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা উল্লেখ করে মূল আসামি এবং তাঁর পক্ষে প্রক্সি দেওয়া দুজনকেই কারাগারে পাঠানো এবং মামলা করার নির্দেশ দেন।

শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের (উত্তর) সভাপতি মশিউর রহমান মন্টির পক্ষে তাঁর আইনজীবী রাফি বিন মমিন জানান, এটি একটি ভুল-বোঝাবুঝি। মন্টি জানতেন না হাজিরার কথা। তাঁর হয়ে এটা কে করল সেটি দেখতে হবে। অন্যদিকে প্রথমে আসামির হাজিরা বন্ডে স্বাক্ষর করা এই মামলার আইনজীবী আব্দুস সালাম মণ্ডল জানান, মন্টি আসবেন বলেই তাঁর ছেলেরা হাজিরা বন্ড জমা দিতে বলেছিল। পরে তাঁর বদলে অন্যজন কাঠগড়ায় উঠলে বিচারক ধরে ফেলেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের (উত্তর) সভাপতি মশিউর রহমান মন্টি এবং তাঁর কর্মী রিফাত কারাগারে থাকায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। মন্টি ও রিফাতের বাড়ি বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি এলাকায়।



মন্তব্য