kalerkantho


আশুলিয়ায় পাইপলাইনে লিকেজ

সাভারসহ ঢাকার একাংশে গ্যাসের সংকটে দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



সাভারসহ ঢাকার একাংশে গ্যাসের সংকটে দুর্ভোগ

আশুলিয়ায় তিতাসের গ্যাস সরবরাহ লাইনে লিকেজ হওয়ায় সাভার ও রাজধানীর একাংশে গতকাল শনিবার বাসাবাড়ি ও ফিলিং স্টেশনে গ্যাস ছিল না। গত শুক্রবার থেকে গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকলেও গতকাল সকাল থেকে গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। অনেকেই হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও খোলাবাজার থেকে খাবার কিনে নিয়ে যায়। অনেককেই রান্নার জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক সামগ্রী কেনাবেচার দোকানে ভিড় করতে দেখা গেছে।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশুলিয়ায় গ্যাসের মেইন পাইপলাইনে একটি বড় ধরনের লিকেজ হয়েছে। সেটা মেরামতের কাজ চলছে। সেই লিকেজ থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারত। তবে বিষয়টি আমাদের নজরে আসায় দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না করে মেরামতের কাজ করা যাচ্ছিল না।’ তিনি জানান, গতকাল রাতের মধ্যেই মেরামত কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। আজ রবিবার সকাল থেকেই মানুষ পুরোদমে গ্যাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিতাস থেকে জানানো হয়, মেরামত কাজ চলমান থাকার কারণে মানিকগঞ্জ, ধামরাই, আশুলিয়া, সাভার, আমিনবাজার, গাবতলী, মিরপুর, পাইকপাড়া, পীরেরবাগ, আগারগাঁও, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মনসুরাবাদ, কাদিরাবাদ, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, ধানমণ্ডি, আজিমপুর, হাজারীবাগ—এসব এলাকার আশপাশের সংযোগে গ্যাস সরবরাহ ছিল না।

বাসায় গ্যাস না থাকায় দোকান থেকে শুকনো রুটি কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন শ্যামলী ২ নম্বর রোডের বাসিন্দা রহিমা আক্তার। হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুক্রবার থেকে গ্যাসের চাপ কম ছিল, কিন্তু শনিবার সকাল থেকেই কোনো গ্যাস আসেনি। নিরুপায় হয়ে দোকান থেকে শুকনো রুটি কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা শ্যামলী কাজী অফিস এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় হোটেলে গিয়েছিলাম খাবারের জন্য। সেখানেও কোনো খাবার পাইনি। অর্ধশত মানুষ খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে।’

শ্যামলী কাঁচালংকা হোটেলের কর্মচারী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন যে পরিমাণ কাস্টমার আসে, সেই তুলনায় শনিবার বেশ কয়েকগুণ বেশি লোক এসেছে খাবার নিতে। সিরিয়াল ধরে খাবার বিক্রি করতে হয়েছে।’

মিরপুর পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় প্রেসারকুকার কিনে নিয়ে এসেছি। গ্যাস না থাকলেও যেন বিদ্যুৎ ব্যবহার  করে অন্তত খাবার রান্না করতে পারি।’

 



মন্তব্য