kalerkantho


মানিকগঞ্জে ধর্ষণ

দুই পুলিশ কর্মকর্তা রিমান্ডে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



দুই পুলিশ কর্মকর্তা রিমান্ডে

মানিকগঞ্জের এক তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার শেষে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আসামি সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজহারুল ইসলামকে সোমবার রাতে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট-৭-এর বিচারক মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার।

পুলিশের একটি পিকআপে গতকাল দুপুর ১টার দিকে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে আনা হয়। পুলিশ পাহারায় তাঁদের সরাসরি এজলাসে তোলা হয়। এ সময় তাঁরা মুখ নিচু করে ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের দশ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। এ সময় মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রিমান্ড আবেদনের পক্ষে বক্তব্য দেন। তাঁকে সমর্থন করেন কমপক্ষে ৩০ জন আইনজীবী। অপরদিকে আসামিপক্ষে বক্তব্য দেন আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ। দুই পক্ষের বক্তব্য শেষে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামিম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সোমবার বিকেলে ভুক্তভোগীকে দিয়ে নিয়মিত মামলা করানো হয়। অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। অবশেষে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ ও পেশাদারির মাধ্যমে মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।

অভিযুক্তরা পুলিশ সদস্য হিসেবে কোনো ধরনের অন্যায় সুযোগ পাবে না। দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।’

প্রসঙ্গত সাভারের আশুলিয়া এলাকার এক নারী এসআই সেকেন্দারের কাছে জমি কেনাবেচার পাওনা টাকার জন্য বধুবার তাঁর ভাগ্নিকে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় আসেন। এসআই সেকেন্দার থানা থেকে খালা ও ভাগ্নিকে পাশের সরকারি ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে খালাকে এক কক্ষে আটকে রেখে আরেক কক্ষে ভাগ্নিকে নিয়ে যান। এরপর এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম অস্ত্রের মুখে ইয়াবা সেবন করিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাঁদের আটকে রাখা হয়। রবিবার ওই তরুণী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে ওই দিনই অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমানকে প্রধান করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায়। সোমবার বিকেলে তরুণী বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। রাতে তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এর পরপরই ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 



মন্তব্য