kalerkantho


ফুলবাড়িয়ায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা

অভিযুক্ত এসআই গ্রেপ্তার, থানা ঘেরাও

এসআইনামা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অভিযুক্ত এসআই গ্রেপ্তার, থানা ঘেরাও

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে গরুর খামারে আটক রেখে যুবক সেলিম মিয়াকে হত্যার প্রধান আসামি পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে জামালপুল সদর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ফুলবাড়িয়া থানায় নিয়ে আসা হয়। এদিকে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে গতকাল সোমবার আন্ধারিয়াপাড়া থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও করে শত শত গ্রামবাসী। উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনও করে তারা।

এদিকে সেলিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া ও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া এসআই মোহাম্মদ আলীর ছেলে রিয়াদের (২০) বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক অভিযাগ পাওয়া গেছে। নানা অপকর্মের হোতা তিনি। পুলিশের ছেলে হওয়ায় তিনি ছিলেন বেপরোয়া।

গ্রামবাসীর থানা ঘেরাও ও মানববন্ধন গতকাল সকাল ১১টায় আন্ধারিয়াপাড়া থেকে কয়েক শ গ্রামবাসী প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ বিক্ষোভ মিছিল করে ফুলবাড়িয়া থানার ভেতরে যায়। এরপর পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা দ্বিতীয় দফায় থানায় যায় এবং থানাহাজতে থাকা মোহাম্মদ আলীকে একনজর দেখার দাবিতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফুলবাড়িয়া-ময়মনসিংহ সড়কে বসে পড়ে। এ সময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে তারা গ্রামে ফিরে যায়।

সেলিম দশ বছরের এক ছেলে ও চার বছরের এক কন্যাসন্তানের জনক। কাজকর্ম করে সংসার চালাতেন। পাশাপাশি ছিলেন আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী। আওয়ামী লীগের যেকোনো মিছিল হলেই তাঁকে সামনে দেখা যেত ভ্যান-রিকশা সরাতে। তাঁকে নিজেদের কর্মী দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আ. মালেক সরকার এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সেলিমের স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাকন্যা ফাতেমা খাতুন শেফালি বলেন, ‘আমার স্বামীকে দারোগা মোহাম্মদ আলী নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন, তাঁর নির্দেশে মাদকসেবী বখাটে পুত্র রিয়াদ আমার সামনে থেকে স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা আমাকে বিধবা করেছে, দুটি শিশুসন্তানকে এতিম করেছে। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দারোগাপুত্র রিয়াদের মাদক সেবন ও মাদক বিক্রেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত রয়েছে এলাকায়। তাঁর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিল গ্রামবাসী। লেখাপড়ায় এসএসসির গণ্ডি পার হতে পরেননি। বখাটে ও মাদক সেবনকারীদের নিয়ে এলাকায় মোটরসাইকেলে দাবড়ে বেড়াতেন সারাক্ষণ।

থানায় মামলা ও গ্রেপ্তার

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন রবিবার থানায় মামলা করেন। মামলায় মোহাম্মাদ আলী, তাঁর ছেলে, সত্মাসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ওই দিন দারোগার সত্মাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খামারের পুকুরপারের গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলমত জব্দ করা হয়। রবিবার রাতে জামালপুর সদর থানা থেকে এসআই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে ফুলবাড়িয়া থানায় আনা হয়। তাঁকে ও তাঁর সত্মাকে গতকাল ময়মনসিংহ আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমান বলেন, ‘পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

গত শনিবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে এসআই মোহাম্মদ আলীর কথা বলে সেলিমকে গরুর ফার্মে ডেকে নিয়ে যান রিয়াদ। এরপর মোহাম্মদ আলী, তাঁর ভাই মোহাব্বত আলীসহ পাঁচজন রাতে সেলিমকে খামারে আটক রেখে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করে। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় গভীর রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার কথা বলে ভর্তি করে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। রবিবার সকালে সেলিমের মৃত্যু হয়।



মন্তব্য