kalerkantho


‘বই’ মেলার প্রাণস্পন্দন

তৌফিক মারুফ   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



‘বই’ মেলার প্রাণস্পন্দন

বইমেলা এলে কেন এমন হয় বুঝতে পারি না। একটা উত্তেজনা, ভেতরকার আলোড়ন ক্ষণে ক্ষণে ছুঁয়ে যায় মন। শত কাজের মধ্যেও মেলার আহ্বান এড়ানো যায় না। যাঁরা নিয়মিত লেখেন, প্রতিবছর মেলায় নিয়মিত যাঁদের বই প্রকাশিত হয়, তাঁদের মধ্যেও মেলার আগে থেকে প্রত্যক্ষ করা যায় এক ধরনের উত্তেজনা। প্রকাশকদের প্রচার-প্রচারণা ছাপিয়ে লেখকরাও নিজের

সৃষ্টিকে জানান দিতে সচেষ্ট থাকেন। এর সবই নতুন বই আর বইমেলাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। যদিও এমন হওয়া উচিত—শুধু ফেব্রুয়ারিতে মেলার এক মাস নয়, পুরো বছরই বই প্রকাশিত হবে, লেখকদের মধ্যে থাকবে লেখার আকুতি। অনেক লেখক আছেন, যাঁরা বছরজুড়ে লেখেন, অনেকে শুধু মেলার সময়।

এবার বইমেলায় আমার নতুন কোনো বই প্রকাশিত না হলেও মেলার প্রাণস্পন্দন ঠিকই টের পাচ্ছি। মানুষে মানুষে মিলেমিশে ভেতরের কোথাও প্রাণের চাঞ্চল্য খেলে যায়। বইমেলা মানে নিজেকে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলা। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, প্রচ্ছদে শিল্পীর বাহারি রঙের তুলির টান মনকে প্রসন্ন করে।

মেলা থাকবে অথচ ধুলা থাকবে না তা তো হয় না। ধুলার আবির ছড়াচ্ছে পায়ে পায়ে। আর ধুলামাখা মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে এ-মাথা ও-মাথা বইপ্রেমীদের হাঁটাহাঁটি। ঘুরে ঘুরে বই খোঁজা। মেলা প্রাঙ্গণে আলাপে-আড্ডায় ঘুরেফিরে আসে একটি প্রশ্ন, সেই প্রশ্নটি হলো বইয়ের সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানের বিষয়টি। অনেকে আবার নতুন লেখক তৈরি, লেখালেখি চর্চার খাতিরে নতুনদের শুরুতে ছাড় দিতে চান।

বইমেলায় ক্রমে প্রশস্ত হচ্ছে শিশু চত্বর। গত বছরের চেয়ে এবার আরো বিচিত্র আয়োজনে সাজানো হয়েছে এই চত্বর। অভিভাবকদের হাত ধরে সিসিমপুরেও ছুটছে শিশুরা। ঠাসাঠাসি-গাদাগাদি সেখানে। তবে পাশে শিশুদের বইয়ের স্টলগুলো অনেকটা ফাঁকা।

এবারের বইমেলা শুরুর রেশ সবেমাত্র কাটল। প্রথম ১০ দিন অতিবাহিত হয়েছে এরই মধ্যে। মেলায় নতুন বই এলেও পুরনো বইয়ের পসরাই বেশি চোখে পড়ল। পাঠকরাও খুঁজছে পুরনো লেখকদের বই-ই। নামিদামি স্টলে খোঁজ নিচ্ছে তারকা লেখকদের বইয়ের। নতুন প্রজন্মের তরুণরা এই স্টল থেকে ওই স্টলে ছুটছে প্রিয় লেখকের অটোগ্রাফ সংগ্রহের লোভে। লেখকরা মেলায় নির্দিষ্ট মঞ্চে, কেউ একটু আড়ালে, কেউ বা প্রকাশকের স্টলে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন পাঠকদের সঙ্গে। চলছে ভক্তদের সঙ্গে সেলফি, অটোগ্রাফ দেওয়া। বইমেলার সরাসরি সম্প্রচার করে গত কবছর ধরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইলেকট্রনিক মিডিয়া। এ বছরও অব্যাহত রয়েছে সেই সম্প্রচার। নতুন লেখকদের অনেকে চেষ্টা চালান মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। আবার মিডিয়াকর্মীরা খোঁজেন পুরনোদের।

প্রতিবছরের মতো এবারও স্টল ও প্যাভিলিয়ন সজ্জায় নতুনত্ব চোখে পড়েছে। বইমেলার সজ্জায় মূল ভূমিকা রাখেন আর্টিস্টরা। ফলে বইমেলা শুধু লেখকদের নয়, শিল্পীদেরও। মেলায় সবাই আসেন। বইয়ের টানে, প্রাণের টানে আসতেই হবে। 

 

 



মন্তব্য