kalerkantho


বসুন্ধরা গ্রুপের বিদায় সংবর্ধনায় শ্রিংলা

নির্বাচিত সব সদস্যের সংসদে যাওয়া উচিত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



নির্বাচিত সব সদস্যের সংসদে যাওয়া উচিত

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে গতকাল ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। অনুষ্ঠানে হাইকমিশনারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ সময় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ও তাঁর ছেলে আহমেদ ওয়ালিদ সোবহান, গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান এবং গ্রুপ চেয়ারম্যানের বড় ছেলে সাদত সোবহানের ছেলে আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান উপস্থিত ছিলেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচিত সব সদস্যের সংসদে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন ঢাকায় ভারতের বিদায়ি হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই চাই, যাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং সংসদীয় আসনে জয়ী হয়েছেন তাঁদের সংসদে যাওয়া উচিত। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের বিষয়। আমরা অবশ্যই সবাইকে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাব। এটি সরকারের অংশ হিসেবে হোক, না হয় বিরোধী দল হয়ে হোক।’

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ওয়েস্টিন হোটেলের বলরুমে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শ্রিংলা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ও ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। এ সময় বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের বড় ছেলে সাদত সোবহানের ছেলে আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান ও সায়েম সোবহানের ছেলে আহমেদ ওয়ালিদ সোবহান উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কুশল বিনিময় শেষে বিদায়ি হাইকমিশনার উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। হাইকমিশনার হিসেবে তিন বছরের দায়িত্ব পালনকালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনই সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল কি না

 জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, ‘নির্বাচন ছিল আমার ফিরে যাওয়ার আগে শেষ বড় ঘটনা। এর ফলাফল সন্তোষজনক। তৃতীয় দেশ হিসেবে আমরা এটি পর্যবেক্ষণ করেছি। ভোট দেওয়ার হার ভালো ছিল। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। ধারাবাহিকতা ও উন্নয়নের পক্ষে ভোট হয়েছে।’

নির্বাচন ছাড়াও আরো অনেক বড় ঘটনা ছিল উল্লেখ করে শ্রিংলা বলেন, ‘এ দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের মতো বড় ঘটনাও ছিল আমার মেয়াদে। মন্ত্রিপর্যায়ের অনেক সফর হয়েছে। গত তিন বছরে ৯৯টি চুক্তি সই হয়েছে। এটি একটি রেকর্ড। আমাদের সম্পর্ক মান ও মাত্রা—দুদিকেই বেড়েছে। আমরা আজ কেবল প্রতিবেশী নই। আমরা বন্ধু, অংশীদার। এটি সারা বিশ্বের জন্য, বিশেষ করে এই অঞ্চলের জন্য উদাহরণ।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘গত তিন বছরে বাংলাদেশ ও ভারত যে ধরনের বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে ও অর্জন করেছে এটি অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত। আমার মনে হয়, আমাদের মতো বন্ধুত্ব বিশ্বে আর কোথাও নেই।’

নির্বাচনের ফল নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি ঐতিহাসিক বিজয়। হ্যাটট্রিক করে টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন।’

শ্রিংলা আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্টতই বলেছেন, জনগণ উন্নয়ন এজেন্ডার পক্ষে ভোট দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত নীতির পক্ষে তারা ভোট দিয়েছে। এসব দিক থেকে আমরা বাংলাদেশের জনগণের দেওয়া রায়কে আমলে নিয়েছি।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘সন্তোষজনক কি না তা বিদেশিদের বলার কাজ নয়। এটি বাংলাদেশিরাই বিবেচনা করবে। বাংলাদেশের জনগণের রায় আমরা আমলে নিয়েছি।’

নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘এখানে বিশাল জয় এসেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ভারতেও হেরে যাওয়া দলগুলো নানা অভিযোগ করে, প্রশ্ন তোলে। এটি যথার্থ হতেও পারে, নাও পারে। এগুলো দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমি আবারও বলব, পর্যবেক্ষক বা তৃতীয় দেশ হিসেবে আমি বলতে পারি না যে এসব অভিযোগ সঠিক বা ভুল। নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা দেখার দায়িত্ব এ দেশের নির্বাচন কমিশনের। আমরা ভোটের ফল, জনগণের মনোভাব বিবেচনায় নিয়ে থাকি।’

সাংবাদিকদের শ্রিংলা বলেন, ‘আপনারা যদি মাঠের পরিস্থিতি দেখেন তাহলে জনগণের মনোভাব বুঝতে পারবেন। আমি যখন ঢাকা ও এ দেশের অন্যান্য স্থানের পরিস্থিতি দেখি, আমার কাছে মনে হয়, পরিস্থিতি ও জনগণের জীবনযাত্রা-কাজকর্ম সব স্বাভাবিক আছে।’

এবারের সংসদের বিরোধী দল সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বিজয়ী আওয়ামী লীগের চেয়ে কম ভোট পাওয়া সব দলই বিরোধী দল। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থাকবে এমন খবর দেখেছি। এটি দলটির নিজস্ব বিষয়। এ নিয়ে বিচার বিবেচনা করা আমার কাজ নয়। দলগুলোই তাদের ভূমিকা ঠিক করে। তারা যদি সরকারে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিত তবে ভিন্ন কথা ছিল। তবে তারা বিরোধী দল হওয়া ও সরকারবিরোধী ভূমিকা পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে শ্রিংলা বলেন, ‘সংসদে আলোচনা করতে পারেন। আপনারা আপনাদের ইস্যু তুলে ধরতে পারেন। সংসদই এমন একটি জায়গা যেখানে আপনারা আপনাদের অবস্থান, ভাবনা বুঝতে পারেন। সেখানেই আপনারা বড় রাজনীতির অংশ হতে পারেন।’

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া আওয়ামী লীগকে ভারত ইতিমধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে মাত্র সাতটি আসনে জয় পাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এ নির্বাচনকে প্রহসন হিসেবে অভিহিত করেছে এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না জানিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ভারত বড় ইস্যু ছিল না উল্লেখ করে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে প্রশ্ন ছিল, এটি কি শ্রিংলা ম্যাজিক? জবাবে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারগুলো যে উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো নজিরবিহীন। আমরা সম্পর্কের পুরনো অনেক ইস্যু সমাধান করেছি। স্থলসীমান্ত, সমুদ্রসীমা বিরোধ ১৯৪৭ সাল থেকে। আমরা এখন এ সমস্যা সমাধান করেছি। আমরা ভারতের বাজার বাংলাদেশি পণ্যের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিয়েছি। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। এগুলো জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচনে ভারত ইস্যু আসেনি। কারণ ভারতবিরোধী মনোভাব এখন অনেক কম। এখন সম্পর্ক অনেক টেকসই।’

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া শ্রিংলা বলেন, ‘আমি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আনন্দিত। যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমি এ সম্পর্ক দেখভাল করার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মতোই অনেক গভীর ও চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে আমি যে কাজ করেছি তা আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করেছে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার  মোশাররফ হোসেন, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর, ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন, নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. চৌকলাল ভোষাল, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগাঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, নারী উদ্যোক্তা নাসরিন আউয়াল মিন্টু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহুল আমিন হাওলাদার ও জিয়াউদ্দিন বাবলু, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার, জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ, বাসসের প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর সম্পাদক জুয়েল মাজহার প্রমুখ।

জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, ‘নির্বাচন ছিল আমার ফিরে যাওয়ার আগে শেষ বড় ঘটনা। এর ফলাফল সন্তোষজনক। তৃতীয় দেশ হিসেবে আমরা এটি পর্যবেক্ষণ করেছি। ভোট দেওয়ার হার ভালো ছিল। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। ধারাবাহিকতা ও উন্নয়নের পক্ষে ভোট হয়েছে।’

নির্বাচন ছাড়াও আরো অনেক বড় ঘটনা ছিল উল্লেখ করে শ্রিংলা বলেন, ‘এ দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের মতো বড় ঘটনাও ছিল আমার মেয়াদে। মন্ত্রিপর্যায়ের অনেক সফর হয়েছে। গত তিন বছরে ৯৯টি চুক্তি সই হয়েছে। এটি একটি রেকর্ড। আমাদের সম্পর্ক মান ও মাত্রা—দুদিকেই বেড়েছে। আমরা আজ কেবল প্রতিবেশী নই। আমরা বন্ধু, অংশীদার। এটি সারা বিশ্বের জন্য, বিশেষ করে এই অঞ্চলের জন্য উদাহরণ।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘গত তিন বছরে বাংলাদেশ ও ভারত যে ধরনের বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে ও অর্জন করেছে এটি অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত। আমার মনে হয়, আমাদের মতো বন্ধুত্ব বিশ্বে আর কোথাও নেই।’

নির্বাচনের ফল নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি ঐতিহাসিক বিজয়। হ্যাটট্রিক করে টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন।’

 

শ্রিংলা আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্টতই বলেছেন, জনগণ উন্নয়ন এজেন্ডার পক্ষে ভোট দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত নীতির পক্ষে তারা ভোট দিয়েছে। এসব দিক থেকে আমরা বাংলাদেশের জনগণের দেওয়া রায়কে আমলে নিয়েছি।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘সন্তোষজনক কি না তা বিদেশিদের বলার কাজ নয়। এটি বাংলাদেশিরাই বিবেচনা করবে। বাংলাদেশের জনগণের রায় আমরা আমলে নিয়েছি।’

নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘এখানে বিশাল জয় এসেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ভারতেও হেরে যাওয়া দলগুলো নানা অভিযোগ করে, প্রশ্ন তোলে। এটি যথার্থ হতেও পারে, নাও পারে। এগুলো দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমি আবারও বলব, পর্যবেক্ষক বা তৃতীয় দেশ হিসেবে আমি বলতে পারি না যে এসব অভিযোগ সঠিক বা ভুল। নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা দেখার দায়িত্ব এ দেশের নির্বাচন কমিশনের। আমরা ভোটের ফল, জনগণের মনোভাব বিবেচনায় নিয়ে থাকি।’

সাংবাদিকদের শ্রিংলা বলেন, ‘আপনারা যদি মাঠের পরিস্থিতি দেখেন তাহলে জনগণের মনোভাব বুঝতে পারবেন। আমি যখন ঢাকা ও এ দেশের অন্যান্য স্থানের পরিস্থিতি দেখি, আমার কাছে মনে হয়, পরিস্থিতি ও জনগণের জীবনযাত্রা-কাজকর্ম সব স্বাভাবিক আছে।’

এবারের সংসদের বিরোধী দল সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বিজয়ী আওয়ামী লীগের চেয়ে কম ভোট পাওয়া সব দলই বিরোধী দল। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থাকবে এমন খবর দেখেছি। এটি দলটির নিজস্ব বিষয়। এ নিয়ে বিচার বিবেচনা করা আমার কাজ নয়। দলগুলোই তাদের ভূমিকা ঠিক করে। তারা যদি সরকারে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিত তবে ভিন্ন কথা ছিল। তবে তারা বিরোধী দল হওয়া ও সরকারবিরোধী ভূমিকা পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে শ্রিংলা বলেন, ‘সংসদে আলোচনা করতে পারেন। আপনারা আপনাদের ইস্যু তুলে ধরতে পারেন। সংসদই এমন একটি জায়গা যেখানে আপনারা আপনাদের অবস্থান, ভাবনা বুঝতে পারেন। সেখানেই আপনারা বড় রাজনীতির অংশ হতে পারেন।’

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া আওয়ামী লীগকে ভারত ইতিমধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে মাত্র সাতটি আসনে জয় পাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এ নির্বাচনকে প্রহসন হিসেবে অভিহিত করেছে এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না জানিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ভারত বড় ইস্যু ছিল না উল্লেখ করে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে প্রশ্ন ছিল, এটি কি শ্রিংলা ম্যাজিক? জবাবে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারগুলো যে উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো নজিরবিহীন। আমরা সম্পর্কের পুরনো অনেক ইস্যু সমাধান করেছি। স্থলসীমান্ত, সমুদ্রসীমা বিরোধ ১৯৪৭ সাল থেকে। আমরা এখন এ সমস্যা সমাধান করেছি। আমরা ভারতের বাজার বাংলাদেশি পণ্যের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিয়েছি। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। এগুলো জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচনে ভারত ইস্যু আসেনি। কারণ ভারতবিরোধী মনোভাব এখন অনেক কম। এখন সম্পর্ক অনেক টেকসই।’

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া শ্রিংলা বলেন, ‘আমি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আনন্দিত। যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমি এ সম্পর্ক দেখভাল করার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মতোই অনেক গভীর ও চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে আমি যে কাজ করেছি তা আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করেছে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার  মোশাররফ হোসেন, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর, ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন, নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. চৌকলাল ভোষাল, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগাঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, নারী উদ্যোক্তা নাসরিন আউয়াল মিন্টু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহুল আমিন হাওলাদার ও জিয়াউদ্দিন বাবলু, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার, জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ, বাসসের প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর সম্পাদক জুয়েল মাজহার প্রমুখ।



মন্তব্য