kalerkantho


সড়ক ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা চায় ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সড়ক ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা চায় ভোটাররা

রাজধানীসহ সারা দেশে দিনে গড়ে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটছে সড়কে। বেপরোয়া গাড়ি চালনা, অদক্ষ চালক, সড়কের নির্মাণ ত্রুটি, গাড়ির ত্রুটি, ট্রাফিক আইন না মানাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিদিনই সড়কে প্রাণ ঝরছে। এমন প্রাণহানি বন্ধে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি জোরালো নয়। এই অবস্থায় আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল নিরাপদ সড়ক ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেবে—এমন আশাই করছেন ভোটার ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এ বছরের মাঝামাঝি রাজধানীর বিমান বন্দর সড়কে বাসচাপায় একটি কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক চাই স্লোগানে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকেই সাধারণ মানুষের এ দাবি জোরালো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মধ্যে সড়কে দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। ধীরগতির যান চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু মহাসড়ক পুলিশ, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার কোনো নির্দেশই মানা হচ্ছে না পুরোপুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন অবাধে চলছে। তাতে করে প্রাণহানি বাড়ছে এবং সড়কে শৃঙ্খলাও রক্ষা হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপদ ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিশ্রুতি থাকা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা এই আন্দোলনে নেমেছিল। রাজধানীসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে এটাই বুঝিয়েছে যে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরালো থাকা উচিত।’

অভিনয় শিল্পী, নাট্যকার, নির্দেশক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মহিলা সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা নেই। শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হলে পরিবহন শ্রমিকরাও সুফল পাবে। যাত্রী সাধারাণও চাইছে নিরাপদ সড়ক। এ জন্য আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার কী থাকবে তা আসলে এ সময়ের জরুরি বিষয়গুলোর একটি। কারণ নিরাপদ সড়কের জন্য এ বছরই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে হয়েছে।’

এবারই নতুন ভোটার কাজীপাড়ার বাসিন্দা নূরে আলম সানি। তিনি বলেন, ‘হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে সড়কে চলতে হয়। কারণ সড়কে শৃঙ্খলা নেই, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নেই। তাতে যানজটের তীব্রতা বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় ঢাকাবাসী। দেড় কোটি মানুষের মধ্যে যারা ভোটার তারা আসলে এবার দেখতে চাইবে কোন দল থেকে ইশতেহারে এ বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং কোন দলের কর্মপরিকল্পনা উত্তম।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপদ সড়কের বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে আর সেটা রাজনৈতিক দলগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বলে মনে করেন যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কের বাসিন্দা পিপাস রায়। এই ভোটার বললেন, ‘গণপরিবহনকে আধুনিক কম্পানি ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নসহ পুরো সড়ক খাতে শৃঙ্খলার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ধরে অঙ্গীকার থাকতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর।’

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সরকার সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়ন করেছে। তা কার্যকর হয়নি এখনো। কার্যকর করতে দরকার হবে বিভিন্ন বিধিবিধানের। আশা করা হচ্ছে নতুন সরকার গঠনের পর এ আইনের প্রয়োগ শুরু হবে। কিন্তু এই আইনের বিভিন্ন ধারা বাতিলের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলনে গিয়েছিল। যাত্রী ও চালকের মুখে ও গায়ে কালি লেপে দিয়েছিল তারা। সমালোচনার পর ওই আন্দোলন থেকে সরে আসে শ্রমিকরা।

গুলশান-১-এর বাসিন্দা ও নতুন ভোটার সুজান হক বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের শৃঙ্খলায় আনতে হবে প্রথমে। তবেই সড়কে শৃঙ্খলা আসবে। এ জন্য নতুন আইন কার্যকরের পাশাপাশি আর কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে তা অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ করে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এর পর রাজপথে নামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন সব শ্রেণির মানুষের সমর্থন পায়।

 



মন্তব্য