kalerkantho


টঙ্গীতে যুবায়েরপন্থীদের সংবাদ সম্মেলন

সাদপন্থীদের শাস্তিসহ সাত দফা দাবি

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাদপন্থীদের শাস্তিসহ সাত দফা দাবি

ফাইল ছবি

বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষের জন্য সাদপন্থীদের দায়ী করে তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন মাওলানা যুবায়েরপন্থী উলামারা। গতকাল বুধবার টঙ্গী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও গাজীপুর জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মুফতি মাসুদুল করীম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দেশের উলামায়ে কেরাম দায়ী নন। এ ঘটনা সাদপন্থীদের পূর্বপরিকল্পিত। সাদপন্থীরা পুরো দেশ থেকে লোক জড়ো করে ওই দিন ভোররাতে ইজতেমা ময়দান ঘেরাও করে লাঠি, লোহার রড, ইট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ চলাকালে ময়দানে অবস্থানরত তাবলিগের নিরস্ত্র সাথি, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসাছাত্রদের ওপর মাওলানা সাদের অনুসারী ওয়াসেফুল ইসলাম ও সাহাব উদ্দিন নাসিমের কর্মীরা নৃশংস হামলা চালায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ইজতেমা ময়দানে অবস্থিত মাদরাসার আসবাব, দরজা-জানালা ভাঙচুর, ছাত্রদের বইপত্র ও পবিত্র কোরআন শরিফ তছনছ করা হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু স্থানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। প্রশাসনের ব্যক্তিগণ ময়দানে দায়িত্বরত মুরব্বিদের কথা দিয়েছিলেন, ভেতরে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে এবং বাইরের অবস্থা তাঁরা দেখবেন।’

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষে হামলার ঘটনা ঘটেনি, বরং সাদপন্থীরা মাওলানা যুবায়ের সমর্থক উলামায়ে কেরামের ওপর হামলা চালিয়েছে। ময়দানে স্বেচ্ছাশ্রমে আসা বয়স্ক লোকজন ও আলেমদের অমানুষিক প্রহার ও লাঠিপেটা করা হয়েছে।

মুফতি মাসুদুল করীম আরো বলেন, শতাব্দীকাল ধরে হজরতজি  ইলিয়াস (রহ.), হজরতজি ইউসুফ (রহ.) ও হজরতজি এনামুল হাসান (রহ.)-এর নেতৃত্বে তাবলিগ জামাত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। তৃতীয় হজরতজির ইন্তেকালের পর সিদ্ধান্ত হয়, কোনো একক আমির নয়, ১০ সদস্যের শুরার মাধ্যমে তাবলিগ পরিচালিত হবে। সেই মতে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০ বছর শুরার ভিত্তিতে তাবলিগ পরিচালিত হয়ে আসছে। হঠাৎ মাওলানা সাদ কান্ধলভী নিজেকে আমির দাবি করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী তাঁর বক্তব্য দারুল উলুম দেওবন্দ ও বিশ্বের হকপন্থী আলেমদের সঙ্গে দ্বিমত সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের উলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত নেন, তাবলিগ জামাত মাওলানা সাদের ভ্রান্ত নীতিতে আর পরিচালিত হবে না। কিন্তু সাদের অনুসারী ওয়াসেকুল ইসলাম ও সাহাব উদ্দিন নাসিম এখনো সাদের ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে তাবলিগ পরিচালনা করে একটি সংকট সৃষ্টি করেছেন, যার ফলে আজকের এই অবস্থা।

মাওলানা যুবায়েরপন্থীরা দাবি করে, অবিলম্বে ওয়াসেকুল, নাসিমসহ চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দান, শুরাভিত্তিক আলেমদের নিয়ন্ত্রণে ইজতেমা পরিচালনা, কাকরাইল মসজিদের কার্যক্রম থেকে সাদপন্থীদের বহিষ্কার, দেশজুড়ে আলেমদের ওপর হামলা বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূর্বনির্ধারিত তারিখে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আগামী ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার টঙ্গীর সব মসজিদ ও এলাকা থেকে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

 

 



মন্তব্য