kalerkantho


ব্যবসার নিরাপত্তা চান ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

সায়েম টিপু   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্যবসার নিরাপত্তা চান ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

দেশে কর্মক্ষম লোকের বোনাস কাল চলছে। কিন্তু কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশই আশানুরূপ কাজ পাচ্ছে না। অনেকে বেকার। অনেকে নিজেদের উদ্যোগে ব্যবসা করে বেঁচে আছে। কিন্তু তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে। তাদের প্রত্যাশা—রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনের ইশতেহারে সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর অঙ্গীকার থাকুক। ব্যবসা বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ আর বেকারত্ব ঘোচাতে কর্মসংস্থানে কর্মসূচি নেওয়া হোক। গতকাল বুধবার রাজধানীতে বিভিন্ন পেশার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ প্রত্যাশার কথা জানা গেছে।

রাজধানীর বেইলি রোডে ঘুরে ঘুরে পান-সিগারেট বিক্রি করেন টাঙ্গাইলের মো. বাবু মিয়া (৩০)। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘মাত্র পনেরো শ টাকা পুঁজি নিয়ে গলায় পান-সিগারেটের ট্রে নিয়ে ঘুরে ঘুরে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা আয় করি। এ দিয়ে স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর মুগদায় একটি ভাড়া বাসায় থাকি। তেমন একটা স্বপ্ন নেই; নিরাপত্তা (সামাজিক) পেলে সারা জীবন এভাবেই কাটিয়ে দিতে চাই। তবে ব্যবসায় আয় বাড়াতে আরেকটু পুঁজিও চাই। এটা হলে হয়তো আরেকটু ভালো থাকতে পারতাম।’ তিনি জানান, সামান্য পুঁজি নিয়ে কাজ করলেও তাঁদের কোনো নিরাপত্তা নেই। পাড়ার মাস্তান, চাঁদা পার্টি, রাজনৈতিক কর্মী আর পুলিশের উৎপাতে সামান্য আয়ের এই ব্যবসার নিরাপত্তা নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। তাই এসব উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি সরকার, রাজনৈতিক দল ও  নেতাদের কাছে নির্বাচনী অঙ্গীকার চান।

মগবাজারে বুটিক-বাটিকের দোকান দিয়েছেন খিলগাঁও তালতলার রুকসানা বেগম। তিনিও অল্প আয় করেন। জানালেন, মোটামুটি ভালোই আছেন। তাঁর ব্যবসার আয় বাড়াতে আরো পুঁজি দরকার। দরকার ঋণ। কিন্তু ব্যাংক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে চায় না। তিনি বলেন, ‘সরকারের নীতিমালার কারণে ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে একেবারে মানা না করলেও নিয়মের প্যাঁচে ফেলে এমন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, যাতে কখনো ব্যাংকমুখী না হই। কিন্তু বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তারা নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করেই শত শত কোটি টাকা ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। সেই ঋণ ফেরত দেওয়ার বালাই নেই।’ নির্বাচনে দলগুলোর কাছে তাঁর প্রত্যাশা—ব্যাংকিং খাতে সুরক্ষা দিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ নিশ্চিত করা হোক।

তৈরি পোশাক খাতের সংযোগ শিল্পের ব্যবসা করতেন মো. কামাল উদ্দীন ভূইয়া। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, বড় বোনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে প্রিন্টিং লেবেল, হ্যান্ড ট্যাগ, বার কোড—এ ধরনের কিছু পণ্য স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করে বেশ ভালো জীবন যাপন করছিলাম। কিন্তু রানা প্লাজার ধসের পর এই ব্যবসা এখন প্রায় বন্ধ। অনেকটা বেকার হয়ে আছি। অন্য খাতে টুকটাক কিছু কাজ করে কোনো রকমে বেঁচে আছি।’ দেশের বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে ছোট ছোট কমপ্লায়েন্স কারখানা তৈরি করে তাঁর মতো লোকদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে—এমন ইশতেহার দেওয়ার দাবি তাঁর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যার বোনাস কালকে কাজে লাগাতে দরকার বাস্তবায়নযোগ্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। দরকার সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত তৎপরতা। তরুণদের আশা, যে সরকারই আসুক, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করে তোলা হোক।

জনশক্তি রপ্তানিকারদের সংগঠন বায়রার সাবেক নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশ থেকে যারা বিদেশে যায় তাদের বেশির ভাগই অদক্ষ। ফলে তাদের অপেক্ষাকৃত কম পারিশ্রমিকে কাজ করতে হয়। তাই দেশের বিশাল তরুণ গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স বাড়ানো সম্ভব হবে।’ এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ইশতেহার চান তিনি।

 



মন্তব্য