kalerkantho


পল্টন সংঘর্ষে হেলমেটধারী যুবকসহ ছয়জন রিমান্ডে

‘বিএনপি নেতাদের নির্দেশেই পরিকল্পিত হামলা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘বিএনপি নেতাদের নির্দেশেই পরিকল্পিত হামলা’

নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য নেতাদের নির্দেশে রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছিল কর্মীরা। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইমলাম।  

এদিকে গ্রেপ্তার ছয়জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ১৪ নভেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে ছয়জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁরা হলেন  ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী এইচ কে হোসেন আলী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্বাস আলী, শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ওরফে রবিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন ওরফে উজ্জ্বল ও তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম। গত সোমবার রাজধানীর সূত্রাপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা (বিএনপি) পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আগে থেকে বিএনপি অফিসে লাঠি মজুদ রাখা ছিল এবং নেতাকর্মীদের হেলমেট পরে আসতে বলা হয়েছিল। মূলত তারা চেয়েছিল পুলিশের ওপর হামলার পর পুলিশও নির্বিচারে অভিযান চালাবে। নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। আর সেই ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন মহলে দেখিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেদিন পুলিশ কোনো অ্যাকশনে যায়নি।

রিমান্ড : গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল বিকেলে আদালতে পাঠায় পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম প্রত্যেককে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাসের আদালতে শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

গতকাল রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ১৪ নভেম্বর পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড় নেতারা তাদের হেলমেট পরে যেতে বলেন, যাতে নাশকতার সময় কেউ তাদের শনাক্ত করতে না পারে। এ ছাড়া সেখানে আগে থেকেই লাঠিসোঁটা রাখা ছিল। তাই এ ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।



মন্তব্য