kalerkantho


সবিশেষ

আরশোলার দুধের পুষ্টিগুণ এত!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আরশোলার দুধের পুষ্টিগুণ এত!

সুষম তো বটেই, বরং গরু-মহিষের দুধের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ আছে আরশোলার দুধে। শুধু তাই-ই নয়, এই দুধের মধ্যে আছে প্রোটিন ক্রিস্টাল, যা মানুষের শরীরের প্রোটিন ক্রিস্টাল তৈরিরও অন্যতম সরঞ্জাম হতে পারে! এর মধ্যে আছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিডও। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব ক্রিস্টালোগ্রাফির (আইইউসিআর) সাময়িকীতে আরশোলার দুধের এমন অবাক করা গুণের কথা জানিয়েছেন গবেষকরা।

তবে তা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। কারণ এই আরশোলা খুঁজে পাওয়া যেমন দুষ্কর, তেমনি এর শরীর থেকে দুধ বের করে তা ‘আহার’ হিসেবে ব্যবহার করা বেশ অসুবিধাজনকও। অনেকের কাছেই ‘ঘিনঘিনে’ এই পতঙ্গের এক বিশেষ প্রজাতির নাড়িভুঁড়িতে ছড়িয়ে থাকা দুধে এমন জাদু দেখে তাজ্জব গবেষকরা।

ক্রিস্টাল প্রস্তুতির জন্য সহায়ক জৈব উপাদান নিয়ে গবেষণা চালাতে চালাতে আরশোলার দুধের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। অন্য যেকোনো দুগ্ধদানকারী প্রাণীর চেয়ে এদের দুধে চার গুণ পুষ্টি আছে বলে মত গবেষকদের।

গবেষকদলের অন্যতম সুব্রহ্মণ্যম রামস্বামী জানান, এই দুধ একেবারে সুষম আহার। পুষ্টিগুণে সেই দুধে প্রোটিন, ফ্যাট, সুগার তো আছেই, এর সঙ্গে আছে অপরিহার্য অ্যামিনো এসিড। তবে এ আরশোলা বাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়ানো পতঙ্গ নয়। এটি একটি বিশেষ প্রজাতির আরশোলা, যার নাম প্যাসিফিক বিটল ককরোচ। এরা ডিম পেড়ে বংশবিস্তার করে না। বরং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মতো বাচ্চা প্রসব করে। তাই এদের শরীরে দুধ উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘অস্বাভাবিক’ মনে করছেন না গবেষকরা।

তবে এখনই এই আরশোলার চাষ করতে নারাজ বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এই দুধ থেকে ক্রিস্টাল তৈরি সম্ভব হলেও চাষ করে এই পোকার সংখ্যা বাড়িয়ে তা থেকে ক্রিস্টাল উৎপন্ন করা শ্রমসাধ্য ও ব্যয়সাপেক্ষ। তাই আপাতত ইস্ট থেকেই এই ক্রিস্টাল তৈরির কাজে উৎসাহী বিজ্ঞানীরা। তবে ভবিষ্যতে দরকার বুঝলে এই পোকার শরণ নেবেন তাঁরা। সূত্র : আনন্দবাজার।

 



মন্তব্য