kalerkantho


ওবায়দুল কাদের বললেন

নির্বাচন বানচাল করতেই হামলা

ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচন বানচাল করতেই হামলা

ফাইল ছবি

বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়, বানচালের চেষ্টা করছে—অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পুলিশের ওপর হামলার মাধ্যমে বিএনপি আগের ‘সন্ত্রাসী’ চেহারায় ফিরেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য দেন। একই অভিযোগ এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, প্রাণহানি ঘটিয়ে নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যেই বিএনপির কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখা হচ্ছে। যারা গাড়ি পুড়িয়েছে এবং পুলিশের ওপর হামলা করেছে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নয়াপল্টনে হামলায় পুলিশের ২৩ সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে পাঁচজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার ও দুজন আনসার সদস্য রয়েছেন। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি এপিসি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গতকাল সকাল ১১টা থেকে ধানমণ্ডি কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার হওয়ার কথা থাকলেও সেটা স্থানান্তর করে গণভবনে নেওয়া হয়। সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকার শেষ হলে দুপুর সোয়া ২টার দিকে ধানমণ্ডি কার্যালয়ে আসেন ওবায়দুল কাদের। বিকেল ৩টায় তিনি সংবাদ সম্মেলন করে সাক্ষাৎকারের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গতকাল সংঘটিত সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় বিএনপির চেয়ে অনেক বেশিই জমায়েত হয়েছে। কিন্তু তাদের (বিএনপির) কী ভিড় হয়েছে! বিনা উসকানিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। পুলিশের ১৩ জন সদস্য গুরুতর আহত, হাসপাতালে ভর্তি। গাড়িও পোড়ানো হয়েছে। এই উসকানি কারা দিল? বিএনপি নির্বাচন পেছানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। নির্বাচন বানচালে বিএনপির যে ষড়যন্ত্রের শঙ্কা করছিলাম, সেটাই কি দেখিয়ে দিল? বিএনপি নির্বাচনে যাওয়া নয়, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তারা শেখ হাসিনাকে হটাতে চায় ঐক্যফ্রন্টের নামে একত্র হয়ে—এটাই কি তারা জানান দিল?’

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম, আপনি মিথ্যাচার করছেন। পুলিশ নীরব দর্শক ছিল। এই মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিএনপি পুরনো অভ্যাসে ফিরে গেল। আবারও ভাঙা রেকর্ড বাজাল বিএনপি। হামলা হলেও পুলিশ ধৈর্য ধরেছে, পাল্টা আক্রমণ করেনি। বিধান অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত। নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে আমরা তাকিয়ে আছি। প্রকাশ্য দিবালোকে তারা যা করল, সে বিষয়ে কমিশন কী করবে, তা আমরা দেখতে চাই, লক্ষও রাখছি।’

‘নির্বাচন হবেই’ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবেই। যতই চক্রান্ত হোক। এ নির্বাচন জনগণের অনেক প্রত্যাশার নির্বাচন। তারা আকুল প্রতীক্ষায়, ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে বসে আছে। নির্বাচন বানচাল, নাশকতা কিংবা ষড়যন্ত্র করলে জনগণই সেটা প্রতিহত করবে।’ বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির এমন কিছু নেই যে জনগণের কাছে বলে ভোট চেয়ে ফায়দা লুটবে। দেশের জনগণ শেখ হাসিনার উন্নয়নে খুশি। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারেও আমরা আশাবাদী। জনগণ আমাদের পক্ষে আছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে আবারও নির্বাচিত করবে। আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করবে। কিছু মুখোশধারী ব্যক্তির মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে, যারা মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় দিলেও সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী শিবিরে যোগ দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। বিশ্বাসঘাতকরা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে একত্র হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গাড়ি পোড়ানোর আনন্দ-উৎসব আপনারা দেখেছেন। তাদের হামলায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা বিশেষ করে মাথা, পা ও পেটে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। গুরুতর আঘাত না হলেও এর চেয়ে বেশি কিছু হলে প্রাণহানিও ঘটতে পারত। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল প্রাণহানি ঘটিয়ে নির্বাচনকে বানচাল করা।’ গত দুই দিন উৎসবমুখর পরিস্থিতিতে মনোনয়নপত্র কেনাবেচা হচ্ছিল, আজ কেন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নির্বাচন চায় তারা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে না। নিশ্চয়ই এটা ষড়যন্ত্রের অংশ। রাজারবাগে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুপুর আনুমানিক ১টার সময় বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে দুই মনোনয়ন প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও মেজর (অব.) আখতার আসেন তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করতে। এ সময় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সব সময় বলে আসছিল একটি রাস্তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে; কিন্তু সম্পূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই গ্রুপ আসার পর একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। তারা দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের ওপরও ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। পুলিশ তাদের নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। সে সময় একটা ধাক্কাধাক্কি এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ, আপনারা সবাই লক্ষ করেছেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। দুটি ভ্যান ভস্মীভূত হয়েছে। এপিসি কারে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিল। পুলিশ যতটুকু প্রয়োজন করেছে। পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে।’

 



মন্তব্য