kalerkantho


ভাসুবিহারে ১২০০ বছর আগের স্তূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভাসুবিহারে ১২০০ বছর আগের স্তূপ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ভাসুবিহারে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে ১২০০ বছর আগের বৌদ্ধদের প্রাচীন নিবেদন স্তূপের সন্ধান মিলেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে বগুড়ার ভাসুবিহারের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গেল। এবার সেখানে মিলেছে চারটি স্তূপের সন্ধান। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই স্তূপ দেখতে অনেকটা টিলার মতো; যেখানে কোনো সন্ন্যাসী বা ভিক্ষুর দেহবাশেষ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, পাল আমলের মাঝামাঝি সময়ে এসব স্তূপ নির্মাণ করা হয়। সেই হিসাবে এগুলোর বয়স এক হাজার ২০০ বছরের মতো হবে।

বগুড়ার ঐতিহাসিক পুণ্ড্রনগরী মহাস্থানগড়ের অদূরেই অবস্থিত ভাসুবিহার নামের বৌদ্ধ বিহার। সেখানকার যে স্থানে সম্রাট অশোক গৌতম বুদ্ধের পদচিহ্ন সংরক্ষণ করতে বৌদ্ধমন্দির নির্মাণ করেছিলেন, সেখানেই এবার শুরু হয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন। এ উদ্যোগের পেছনে আছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

শিবগঞ্জ উপজেলার ভাসুবিহারে ১৯৭৩ সাল থেকে কয়েক দফায় খননকাজ চলে। সেখানে পাশাপাশি দুটি বৌদ্ধ বিহার এবং উত্তরমুখী একটি বৌদ্ধমন্দিরের সন্ধান পাওয়া যায়। সেসব সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর আগের খননকাজে সেখানে মিলেছে ব্রোঞ্জের তৈরি কয়েকটি মূর্তি, পোড়া মাটির ফলক, মাটির মূর্তি, বিভিন্ন আকৃতির সিলসহ ঐতিহাসিক অনেক নিদর্শন।

খননকাজে নিযুক্ত সাত সদস্যের দলের প্রধান হিসেবে আছেন বগুড়ার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান। দলে আরো আছেন মহাস্থান জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান এস এম হাসানাত বিন ইসলাম, সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির সহকারী কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ, সিনিয়র ড্রাফটসম্যান আফজাল হোসেন, আলোকচিত্রী আবুল কালাম আজাদ ও সার্ভেয়ার (জরিপকারী) লোকমান হোসেন। আর পুরো খননপ্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করছেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সিনিয়র ড্রাফটসম্যান আফজাল হোসেন জানান, গত ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ভাসুবিহারের খননকাজ। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ কাজ চলবে। 

মোহাম্মদ যায়েদ জানান, ভাসুবিহারে এবারের খননে আলংকারিক ইট, পোড়া মাটির ফলকচিত্রের ভগ্নাংশ, মরিচাযুক্ত লোহার পেরেক, পোড়া মাটির গুটিকা, পাথরের পুঁতি ও মৃৎপাত্রও পাওয়া গেছে।

বগুড়ার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে ভাসুবিহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খননকাজ সম্পন্ন হলে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’

তালায় পুরাকীর্তির সন্ধান শুরু

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের আগৈলঝাড়া ও ডাঙ্গানলতা গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠের মধ্যে পুরনো একটি মাটির ঢিবিতে পুরাকীর্তির সন্ধানে নেমেছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। গত সোমবার থেকেই পুরাকীর্তির সন্ধানে সেখানে খননকাজ শুরু হয়। আর প্রথম দিনই ইটের তৈরি একটি দেয়ালের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী কাস্টডিয়ান শাহিন আলম বলেন, “স্থানটি ‘ঝুড়িঝাড়ার মাঠ’ নামে পরিচিত। এটি ২০১২ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় সংরক্ষিত হয়। এখানে বহু বছর আগের কোনো পুরাকীর্তি মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে কি না, তা অনুসন্ধান করতেই খনন শুরু করেছি। শুরুতেই ইটের তৈরি একটি দেয়ালের সন্ধান মিলেছে। তবে সেটি কোনো বসতবাড়ি, মসজিদ না মন্দিরের অংশ, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খননকাজ শেষ হলে বিস্তারিত বলতে পারব।’



মন্তব্য