kalerkantho


বিজয়ের লক্ষ্যে সরব আ. লীগ নীরব বিএনপিও চায় জয়

রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম ও আজিম হোসেন, বরিশাল    

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বিজয়ের লক্ষ্যে সরব আ. লীগ নীরব বিএনপিও চায় জয়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরেও রাজনীতির মাঠে আরো অন্তত চারটি দল সরব রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই ছয়টি আসনের মধ্যে দুটি আওয়ামী লীগ, দুটি বিএনপি এবং দুটিতে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামী লীগ, একটিতে ওয়ার্কার্স পার্টি এবং একটিতে জাতীয় পার্টি জয় পায়। আগামী নির্বাচনে অন্তত দুটি আসনে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। একটি আসনে আওয়ামী লীগের মিত্রদের মধ্যেও প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। তবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দুটি আসনে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও অন্যগুলোতে নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা এই জেলার সব আসনেই বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিও চাচ্ছে সব আসনে বিজয়ী হতে। ফলে দুই প্রধান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে প্রচারণায় আওয়ামী লীগের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। দলটির নেতাকর্মীরা দলীয় অভিভাবক হিসেবে তাঁকে শ্রদ্ধা করে। তিনিই আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। শুধু এ আসনে নয়, দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে রয়েছে তাঁর প্রভাব। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ব্যানার-পোস্টারে দুই উপজেলা ছেয়ে গেছে।

অন্যদিকে এ আসনে স্থানীয় বিএনপিতে রয়েছে ত্রিধাবিভক্তি। সেই বিরোধের জেরে এ আসনে বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল। জহির উদ্দিন স্বপন যখনই এলাকায় আসেন তখনই হামলা-মামলার শিকার হন। তবে সজল এলাকায় প্রায়ই আসেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। একই সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। দুই উপজেলায় তাঁর প্রচারণা চলছে বেশ জোরেশোরে। এর বাইরেও মনোনয়ন চাইছেন বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মো. ইউনুস ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০৮ সালে বিএনপির এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুকে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মনিরুল ইসলাম মনি। সংসদীয় আসন পুনর্গঠনের আগে এ আসন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির (জেপি) গোলাম ফারুক অভি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নির্বাচিত হয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস, সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি, সাবেক ছাত্রনেতা শাহে আলম, প্রবীণ নেতা মো. হাবিবুর রহমান, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আরো রয়েছেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু, বানারীপাড়ার তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, বর্তমান  মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল। এম মোয়াজ্জেম হোসেন সত্তরের দশক থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। 

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির একাধিক নেতাও মনোনয়ন চাইছেন। তাঁরা হলেন ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, অ্যাডভোকেট শাহ খসরুজ্জামান ও সাংবাদিক নেতা ইলিয়াস খান। এর বাইরে তৃণমূল থেকে প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ শহীদুল হক জামালের। এরই মধ্যে তিনি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও কোন দল থেকে তিনি মনোনয়ন চাইবেন তা নিশ্চিত নয়। দলীয় সূত্র বলছে, সাবেক হুইপ শহীদুল হক জামাল আবার দলে ফিরে যেতে পারেন। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কেউই প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না।

এ ছাড়া এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এক ধরনের গাছাড়া ভাব রয়েছে। তার পরও এ আসন থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক মিজানুর রহমান বছরের পর বছর এলাকায় নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও বেশ সক্রিয়। তৃণমূলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি একাই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছেন বাবুগঞ্জ-মুলাদীতে। এই দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তিনিই সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা রেখেছেন। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন সাবেক সচিব সিরাজউদ্দিন আহম্মেদ। তাঁর ব্যক্তি ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন হলেও দলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কম।

২০০৮ ও ২০১৪ সালে এ আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জাতীয় পার্টির হাতবদল হয়ে আসনটি এখন ওয়ার্কার্স পার্টির দখলে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টিতেও। ইতিমধ্যে এ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য শেখ টিপু সুলতানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তার পরও যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আতিকুর রহমান আতিক এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন। রাশেদ খান মেননের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও ব্যাপকভাবে পরিচিত তিনি। বছরের পর বছর এলাকায় নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, রাজনীতি ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন আলাদা ভাবমূর্তি।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও মিত্রদের মধ্যে সমঝোতা না হলে এ আসনের চিত্র পাল্টে যেতে পারে। কারণ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দশম সংসদ নির্বাচনে হাতে গোনা যে কয়টি আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল তার একটি বরিশাল-৩। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুকে হারিয়েছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ টিপু সুলতান। এর আগে বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মঙ্গু পর পর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ আসন থেকে। অবশ্য ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাস করার পর মনোনয়নবঞ্চিত হন মঙ্গু। দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মনোনয়ন নিয়ে বিরোধে জড়ান।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে বিভক্তির কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে জয়লাভ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথ। কিন্তু এ আসনে আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি পক্ষের নিয়ন্ত্রণে আছেন সংসদ সদস্য পংকজ নাথ এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুলসহ দলের অন্য নেতারা। আওয়ামী লীগের এ বিভক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গেল স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান সংসদ সদস্য পংকজ নাথ। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মহিউদ্দিন আহম্মেদের মেয়ে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ ও দলের আরেক নেতা মেজর (অব.) মহসিন সিকদার, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক লায়ন মজিবুর রহমান হাওলাদার। অবশ্য পঙ্কজ ও আফজালুল করিমের বাইরে আর কেউ প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন জেলা বিএনপির সভাপতি (উত্তর) সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন  ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, বরিশাল জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক নুর রহমান জাহাঙ্গীর, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবুল হোসাইন, খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম হেলাল উদ্দিন। এ আসনেও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে কেউ প্রচারণায় নেই।

বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনটির প্রতি সব রাজনৈতিক দলেরই বিশেষ নজর থাকে। সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তরুণ নেতৃত্ব সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর কাছে বিএনপির প্রবীণ রাজনীতিবিদ মজিবর রহমান সরোয়ার বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। সরোয়ারের পরাজয়ের পাশাপাশি টানা দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ মর্যাদার আসনটি ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে বিএনপি চাচ্ছে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে।

সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মতোই আরেক তরুণ নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন রিপন রাজনীতির মাঠ দখলে রেখেছেন। তিনিই ইতিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এসআর সমাজকল্যাণ সংস্থার’ ব্যানারে প্রায় এক লাখ নারী-পুরুষকে চিকিৎসা ও শিক্ষার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করেছেন। তাদের মধ্যে ৯০ হাজার নারী। প্রচারণা চালাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগ নেতা কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, আরেফিন মোল্লা। তাঁদের মধ্যে সালাহউদ্দিন রিপন প্রতিটি ইউনিয়নে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নারীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি দলীয় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।  

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির একচ্ছত্র অধিপতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও নগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনিই এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হবেন। তবে সিটি নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করার পর ফের সংসদ নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের কারণে ক্ষুব্ধ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ও জেলা বিএনপি সভাপতি এবায়দুল হক চান। কারণ তাঁরাও দলের মনোনয়ন চাইছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে।

বরিশাল-৬ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত। এ আসনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে জোটের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ছাড় দিচ্ছে জাতীয় পার্টিকে। স্থানীয় রাজনীতিতে এ নিয়ে সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয়  নেতাকর্মীরা আসনটি আর জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। অন্যদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিতে এ সমস্যা না থাকলেও দলটির ভেতরে বিরোধ রয়েছে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য তাঁর স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র নাসরিন জাহান রতনা আমিন। ২০১৪ সালে রুহুল আমিন আসনটি ছেড়ে দেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তাঁর স্ত্রী রতনা আমিনকে।

এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক, বাকেরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম চুন্নু, পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান হোসেন মনির, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মাসুদ রেজার স্ত্রী জেলা পরিষদের সদস্য আইরীন রেজা।

অন্যদিকে এ আসনে নির্বাচন করার কথা রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোহসীনের। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে বহু বছর ধরে তিনি এ এলাকায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রশ্নে ঝামেলা না থাকলেও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট। দলে একক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন খানের বিরুদ্ধে। বহু দিন ধরেই বাকেরগঞ্জে বিএনপির দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটির নেতৃত্বে আছেন আবুল হোসেন খান এবং অন্যটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান।

শুরু থেকেই আবুল হোসেনের লক্ষ্য ছিল সব বিরোধিতা হটিয়ে নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যে তিনি কাজও করেছেন। তবে উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষ এতে বাদ সাধে। এর পরও বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে সুশৃঙ্খল করতে আবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্র একটি কমিটি করে দেয়। এই ধারাবাহিকতায় তিনিই যে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন সেটা যেমন নিশ্চিত, তেমনি তিনি নিজেও বলেছেন এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার কথা। তবে আবুল হোসেন ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. শহীদ হাসান খান।

উন্নয়ন ধরে রাখতে নৌকার বিকল্প নেই

মানুষ জাতীয় ঐক্যের পক্ষে



মন্তব্য