kalerkantho


প্রচার-প্রচারণায় আ. লীগ, বিএনপি সংশয়ে

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



প্রচার-প্রচারণায় আ. লীগ, বিএনপি সংশয়ে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রাজনীতি বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠছে। জেলার ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্যরা ছাড়াও দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন। তবে বিএনপিতে এর উল্টো চিত্র। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগে ব্যস্ত থাকলেও বিএনপি তাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলেই তারা নির্বাচনের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপির শক্তি নেই আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার। তাদের আন্দোলন-সংগ্রামে মানুষের সাড়াও নেই। আসছে নির্বাচনেও সাধারণ মানুষ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে এরই মধ্যে ভোটের রাজনীতিতে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বর্তমান সংসদ সদস্য বিরোধী জোট নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে এ আসনের ভোটের মাঠ। এ আসনে আওয়ামী লীগের ১১ জন প্রার্থী জোট বেঁধে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ছাড়াও প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের স্ত্রী দিলশাদ আরা মিনু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সরকার, কৃষক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এম এ করিম, লন্ডন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ এহসানুল হক, নিউ ইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ কে এম আলমগীর, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. নাজির মিয়া, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইখতেশামুল কামাল, মহিলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক এম বি কানিজ, ঢাকায় নাসিরনগর উপজেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আশরাফ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নাসিরনগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আদেশ চন্দ্র দেব, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সভাপতি রাখেশ চন্দ্র সরকার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এই ১১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী এরই মধ্যে জোট বেঁধেছেন। এর বাইরে সাফি মাহমুদও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

অন্যদিকে এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় একমাত্র দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান রয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে রেজওয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোট থেকে এ কে এম আশরাফুল হক, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মো. ইসলাম উদ্দিন দুলাল মনোনয়ন চাইবেন বলে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ না জাতীয় পার্টির প্রার্থী হবেন, এ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

এ আসনটি বেশির ভাগ সময় বিএনপির দখলে থাকলেও বর্তমানে দলটি সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। আশুগঞ্জ বিএনপিতে রয়েছে দুটি গ্রুপ। সরাইলেও একই অবস্থা। আবার এই আসনে আওয়ামী লীগেরও মধ্যেও রয়েছে একাধিক গ্রুপ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, হত্যাকাণ্ডের শিকার আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম ইকবাল আজাদের স্ত্রী উম্মে ফাতেমা নাজমা আজাদ (শিউলী আজাদ), আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়া সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফরহাদ হোসেন মাক্কি, সাবেক যুগ্ম সচিব এম ইসহাক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ আইন সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান আনসারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানভীর হোসেন কাউছার, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুর রহমান সাফি, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. ছফিউল্লাহ, আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হান্নান রতন, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনপি থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শেখ মোহাম্মদ শামীম এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এর বাইরে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু আসিফ আহমেদ, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এ আসনে দলের একমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মো. আবুল হাসনাত আমিনী। জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমেদ তফসির।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া টিপু মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তবে জাতীয় পার্টি থেকে জামাল রানাও মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

২০০৮-এ উপনির্বাচনে এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বিজয়ী হলে পাল্টে যায় এ আসনের দৃশ্যপট। সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হওয়ায় জনসমর্থন বাড়তে থাকে আওয়ামী লীগের। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখেই বর্তমান সংসদ সদস্য নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।

এর বাইরে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল মনোনয়ন পাবেন ধরে নিয়েই এগোচ্ছে দলের নেতা-কর্মীরা। মূলত খালেদ মাহবুবকে ঘিরেই জেলায় দলের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মাওলানা সাজিদুর রহমান ঐক্যজোটের প্রার্থী হতে পারেন। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনও এ আসনে প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। মাস ছয়েক আগে থেকে তিনি নিজের জন্য ভোট চাইতে শুরু করেছেন। বর্তমানে তাঁর নামে পোস্টার, ব্যানার, স্টিকার ও দেয়াল লিখনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।

অন্যদিকে এই আসনে প্রচার-প্রচারণায় অনেকটা পিছিয়ে বিএনপি। এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মুশফিকুর রহমান প্রায় এক বছর পর গত ৩০ এপ্রিল এলাকায় এসে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আবার কানাডায় ফিরে যান। বিএনপির আরেক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা নাছির উদ্দিন হাজারী মাঝেমধ্যে এলাকায় এলেও রাজনৈতিকভাবে ততটা প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না।   

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনিসুল হক এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তিনি এরই মধ্যে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। এ ছাড়া একজন সৎ মানুষ হিসেবেও ঠাঁই করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের মনে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে তিনি এলাকায় সময় দিচ্ছেন। আইনমন্ত্রীর আমলে দেড় হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীর চাকরি হয়েছে। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। এই আসনে আইনমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ধরে নিয়ে এগোচ্ছে নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের পাশাপাশি কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাছির উদ্দিন হাজারী মনোনয়নপ্রত্যাশী। এলাকায় তৎপরতা না থাকলেও বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ মোহন ও শাকিল ওয়াহেদ সুমনও দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন।

কসবা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা তারেক এ আদেল এ আসনে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে মোসলেম উদ্দিন মনোনয়ন চাইতে পারেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসন ভোটের রাজনীতিতে বর্তমানে বেশ চাঙ্গা। বিশেষ করে বর্তমান সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা এবাদুল করিম বুলবুল ও মমিনুল হক সাঈদের লাগাতার গণসংযোগে এই আসনে নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে। তবে এ আসনে বিএনপির প্রচার-প্রচারণা নেই বললেই চলে।

এই আসনে ভোটের মাঠে জোটের মারপ্যাঁচ রয়েছে। বিশেষ করে মহাজোট থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি নাকি জাসদের (ইনু) কেউ মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে চলছে সরব আলোচনা। জাসদ নেতা জিকরুল আহমেদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব কাজী মামুনুর রশিদ মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় রয়েছেন।

এ আসনে বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন তাপস, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তকদির হোসেন জসীম, নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম সারওয়ার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, উপজেলা বিএনপি নেতা সায়েদুল হক সাঈদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের সহকারী মহাসচিব আলী আজ্জম জালাল, আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন আলম মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ থেকে ফয়জুর রহমান বাদল এমপি, এবাদুল করিম বুলবুল, মমিনুল হক সাঈদ ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিকের ছেলে ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দিন সিদ্দিক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ, জেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নাহার বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া টিপু, যুবলীগ নেতা আলামিনুল হক, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম নবী দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

আর ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হবেন সংগঠনটির নেতা মাওলানা মেহেদী হাসান। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলটির জোট হলে তাঁরা এ আসনটি দাবি করবেন বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জোটগত হিসাব নেই। জোট হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীই এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন, এমনটা নিশ্চিত।

এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন তিনবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম। এরই মধ্যে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তাঁর বাইরে এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহাম্মদ মহি, উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সাইদ আহমেদ বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা কামাল এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে এ আসন থেকে বিএনপির অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউদ্দিন, যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান অপু, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহসভাপতি মেজর (অব.) সাইদুল ইসলাম সাইদ, সহসভাপতি বোরহান উদ্দিন, সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম খোকন, বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান পলাশ মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

জাতীয় পার্টি নেতা আমজাদ হোসেন এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে দলটির বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সভাপতি রেজওয়ান ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

 

 



মন্তব্য