kalerkantho


ভারতে অবৈধ অভিবাসন ইস্যু

মন্তব্যগুলো সরকারি নয়, রাজনৈতিক

মেহেদী হাসান নয়াদিল্লি থেকে ফিরে   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



মন্তব্যগুলো সরকারি নয়, রাজনৈতিক

‘এরা অবৈধ অভিবাসী’, এই ‘উইপোকাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে’। কিংবা ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ না হলে বাংলাদেশ আক্রমণ করা প্রয়োজন’। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু বিতর্কিত মন্তব্য এসেছে ভারতের রাজনৈতিক মহল থেকে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধি গত সপ্তাহে নয়াদিল্লি সফরকালে ভারত সরকারের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকদের প্রশ্ন করলে তাঁরা বলেছেন, এসব মন্তব্য ভারত সরকারের ভাষ্য নয়। ভোটের রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে অনেকেই এমন মন্তব্য করে থাকে। তাদের এসব মন্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।

কালের কণ্ঠ’র প্রশ্নের জবাবে নয়াদিল্লিভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) পরিচালক হর্ষ ভি পান্ত বলেন, ‘আপনাদের দেশেও (বাংলাদেশেও) অনেক রাজনৈতিক দল ভারত নিয়ে অনেক সময় মন্তব্য করে। আমাদের দেশেও অনেকে বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করে। এটি মূলত ভোট পাওয়ার জন্য।’ তিনি বলেন, ভারতের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে অনেক কথাই বলেছিল। ক্ষমতায় আসার পর তারা দায়িত্বশীল আচরণ এবং সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টাই করেছে।

ভারতে আগামী এপ্রিল-মে মাসে সম্ভাব্য লোকসভা নির্বাচন।  নয়াদিল্লির বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনীতিকরা ভোট পাওয়ার জন্য জাতীয়তাবাদী বা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলছেন।

যেমন সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর অনেকেই মনে করেন যে অবৈধ অভিবাসীরা তাদের জীবন-জীবিকায় ভাগ বসাচ্ছে। রাজনীতিকরা হয়তো সেদিকে দৃষ্টি রেখেই কথা বলেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ভোটারদের মন জয় করা।

রাজনীতিবিদদের এমন আচরণ সমর্থন করেন না ওআরএফের সিনিয়র ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য। কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের ‘উইপোকা’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে কালের কণ্ঠ’র এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি একজন বাঙালি। এসব বক্তব্যে আমারও উদ্বেগ

আছে। বাংলাদেশকে আমরা আমাদের বন্ধু মনে করি। আমাদের বুঝতে হবে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয়, যারা এ ধরনের মন্তব্য করে বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের আরো বোঝাপড়া জরুরি। আমি মনে করি না, তাদের বক্তব্যে ভারত সরকারের অবস্থানের প্রতিফলিত হয়েছে।’ জয়িতা ভট্টাচার্য বলেন, আসামে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এরই মধ্যে আদালতের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে এনআরসির ইতিহাস অনেক পুরনো। আসামে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, নেপাল-মিয়ানমার থেকেও।

কালের কণ্ঠ’র এই প্রতিনিধি এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ভি কে সিংকে। তিনি বলেন, এনআরসি প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। যা করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ীই হয়েছে। এখানে কোনো রাজনীতি নেই। ‘আমি মনে করি না এখানে ভয় পাওয়ার কিছু আছে’—উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত সমস্যা নিষ্পত্তি তো হয়ে গেছে। অথচ এ নিয়েও বিভিন্ন মহলে অনেক উদ্বেগ ছিল।

বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন আসামে এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু নেই। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

 



মন্তব্য