kalerkantho


উন্নয়নে আত্মবিশ্বাসী আ. লীগ, কৌশলে জয় চায় বিএনপি

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



উন্নয়নে আত্মবিশ্বাসী আ. লীগ, কৌশলে জয় চায় বিএনপি

শিল্প-কারখানাসমৃদ্ধ গাজীপুর জেলা দেশের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সব কটিতে নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে উত্তাপও বইতে শুরু করেছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা প্রকাশ্যে নির্বাচনের মাঠে নামলেও নীরবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি প্রার্থীরা। গাজীপুর জেলার পাঁচটি আসনে কোন দলের কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে সরব আলোচনা চলছে ভোটারদের মধ্যে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব আলোচনা-বিশ্লেষণ তুঙ্গে উঠছে।

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে এবং বিএনপির দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও এই পাঁচটি আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আর বিএনপি চাইছে, আওয়ামী লীগের কোন্দল, জনদুর্ভোগ, লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে সব কটি আসনে জয় নিশ্চিত করতে।

গাজীপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অবস্থান বেশ মজবুত। ২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাস করে শ্রীপুর উপজেলা বাদ দিয়ে

কালিয়াকৈর উপজেলার সঙ্গে গাজীপুর মহানগরীর ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত করে নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছে কোন্দল। আর আওয়ামী লীগে রয়েছে ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত প্রার্থী তকমা’। বিএনপিতেও রয়েছে বিভক্তি।

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি ছাড়াও এ আসনে প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল শিকদার, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল, গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল এবং কালিয়াকৈর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাসেল।

আ ক ম মোজাম্মেল হক এই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা নন এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি, এমন নানা যুক্তি তুলে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাসেল ও কামাল শিকদার। একাধিক প্রার্থী থাকলেও সব দিক থেকেই এগিয়ে রয়েছেন মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচিত হয়ে সততার সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের জন্য কাজ করেছি। এবারও দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে বলে আশা করছি।’

কামরুল আহসান রাসেল বলেন, ‘দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। না পেলে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে তাঁর পক্ষে কাজ করব।’

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর কারণে একসময় কালিয়াকৈর ছিল বিএনপির ঘাঁটি। ছেলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ছয়-সাত বছর আগে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তাঁর বহিষ্কারের পর নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে কয়েক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে দল। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন চারজন। তাঁরা হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবীর খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সুরুজ আহম্মদ ও কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান। এর মধ্যে সুরুজ আহম্মদ প্রতিদিন সভা ও গণসংযোগ করছেন।

ছাইয়্যেদুল আলম জানান, দল নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি মনোনয়ন চাইবেন।

সুরুজ আহম্মদ জানান, দেশে মানুষের নিরাপত্তা নেই। গণতন্ত্র ও বিচার নেই। গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে শরিক হতে মনোনয়ন চাইবেন তিনি।

এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুস সালাম। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে কাজ করছেন তিনি।

গাজীপুর-২ আসনকে সাংগঠনিক দক্ষতা ও ভোট বিবেচনায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি মনে করা হয়।  ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাহিদ আহসান রাসেল বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর মাধ্যমে গাজীপুর শহরে ৫০০ শয্যার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, টঙ্গীতে ২৫০ শয্যার শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার হাসপাতাল ও স্টেডিয়াম, বোর্ডবাজারে নার্সিং কলেজ, পুবাইলে ১০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসক সহকারীদের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, পিটিআইতে আধুনিক শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার অডিটরিয়ামসহ বহু প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগও আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। এসব কারণে একরকম অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন জাহিদ আহসান রাসেল। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাঁর মনোনয়ন একরকম নিশ্চত বলে জানা গেছে। তিনি ছাড়া এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে আর কোনো প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন না।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপি থেকে এখনো কেউ প্রচারণা শুরু করেননি। অধ্যাপক মান্নান দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসান উদ্দিন সরকার দলীয় কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে রেখেছেন। শোনা যাচ্ছে, অধ্যাপক মান্নান অথবা হাসান উদ্দিন সরকারের যেকোনো একজনকে এ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণায় না থাকলেও দুজনই ভেতরে ভেতরে সাংগঠনিক কার্যক্রম গোছাচ্ছেন। কোনো কারণে তাঁরা দুজন নির্বাচন করতে না চাইলে মনোনয়ন পেতে পারেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শিল্পপতি সোহরাব উদ্দিন।

হাসান উদ্দিন সরকার জানান, দলের চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। তবে দল নির্বাচনে অংশ নিলে এবং তাঁকে নির্বাচন করতে বললে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। 

এ আসনে সাবেক স্বাস্থ্যসচিব এম নিয়াজ উদ্দিন মিয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। তিনি প্রতিদিনই এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন।

গাজীপুর-৩ আসনে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ছিল রহমত আলীর হাতে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রার্থী হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন সবুজ। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও এমপি নির্বাচিত হন রহমত আলী। রহমত আলী বর্তমানে বয়সের ভারে অনেকটা ন্যুব্জ। তার পরও তিনি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন, এটা নিশ্চত। তিনি ছাড়াও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। বসে নেই রহমত আলীর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয়।  তিনিও সরব হয়েছেন মাঠে। 

প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, ‘দলের জন্য কাজ করছি। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য মানুষের কাছে তুলে ধরছি। পাশাপাশি এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছি। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা কাজের মূল্যায়ন বিবেচনা করে মনোনয়ন দিলে নিশ্চিত বিজয়ী হব।’ 

অন্যদিকে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান দলের তিন নেতা। তাঁরা হলেন ওলামা দলের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পীরজাদা মাওলানা এস এম রুহুল আমিন, কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ। 

ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, শ্রীপুরের রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের লুটপাট, দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কাছে মানুষ জিম্মি। তাই নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে মানুষ বিএনপিকেই ভোট দেবে। এলাকার ও মানুষের উন্নয়নের জন্য দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। 

সাখাওয়াত হোসেন সবুজ বলেন, ‘দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। আশা করছি, দল আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। শ্রীপুরে গত ১০ বছরে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ কোন্দলে নিজেরাই বিপর্যস্ত। মানুষ দুঃশাসন থেকে মুক্তি চাইছে।’

গাজীপুর-৪ আসনে ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। ১৯৮৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টি এবং ১৯৯১ সালে প্রয়াত বিএনপি নেতা হান্নান শাহ এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ আসনের বর্তমান এমপি তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি। এর আগে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তানজিম আহমদ সোহেল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন তিনি। এরপর প্রথমে মন্ত্রিসভা এবং তারও পরে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলে উপনির্বাচনে জয়ী হন সোহেল তাজের বড় বোন সিমিন হোসেন রিমি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও নির্বাচিত হন।

সিমিন হোসেন রিমি ছাড়াও এ আসন থেকে নৌকার মাঝি হতে চান তাজউদ্দীন আহমদের ভাগিনা কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের উপদেষ্টা ও মরিয়ম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলম আহমেদ, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমানত হোসেন খান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল আলম খান বেনু। তাজউদ্দীন আহমদের পরিবারের প্রতি কাপাসিয়ার মানুষের ভালোবাসা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থার কারণে রিমি আবারও মনোনয়ন পাবেন, এটা প্রায় নিশ্চিত।

অন্যদিকে ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ সংসদ সদস্য হয়ে ১৯৯১ সালে এমপি সির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হন। ওই সময় এবং ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হান্নান শাহ কাপাসিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন। দুই বছর আগে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর মাঠ গোচ্ছাছেন তাঁরই ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি দলে একক প্রার্থী। আওয়ামী লীগের কোন্দল এবং হান্নান শাহর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে এ আসনে বিজয়ী হতে চায় বিএনপি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ‘কাপাসিয়া বিএনপিতে কোনো কোন্দল বা বিভক্তি নেই। আমরা শাহ রিয়াজুল হান্নানের জন্য ঐক্যবদ্ধ।’  

গাজীপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং সাবেক এমপি ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারউজ্জামান। এ আসন থেকে ১৯৯৬ সালে ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারউজ্জামান বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে নারী কোটায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেহের আফরোজ চুমকি। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ শহীদ ময়েজ উদ্দিনের কন্যা। তিনি ২০০৮ সালে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। মন্ত্রী হয়ে এলাকার রাস্তাঘাটসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘অবহেলিত কালীগঞ্জ আজ উন্নয়নের প্রতীক। শেখ হাসিনার হয়ে আমি কাজ করছি। কালীগঞ্জ আওয়ামী লীগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সংগঠিত। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করে চলেছি। প্রধানমন্ত্রী চাইলে আমি আবারও প্রার্থী হব।’

আখতারউজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে সৎ ও জনপ্রিয়তা দেখে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। সাধারণ মানুষ আসন্ন নির্বাচনে আমাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছে। আশা করি, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।’

অন্যদিকে বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি এ কে এম ফজলুল হক মিলন। তিনি দলের একক প্রার্থী। মিলন জেলা বিএনপির সভাপতি ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।

এ কে এম ফজলুল হক মিলন জানান, দলের চেয়ারপারসনকে জেলে রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। দল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থিতা নির্ভর করবে জোটবদ্ধ না ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তের পর। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে প্রার্থিতা হবে জোটগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। তবে মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান এবং উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি রাহেলা পারভীন শিশির।

 



মন্তব্য