kalerkantho


আবুল হোসেনের খোলা চিঠি

আমার বিরুদ্ধে প্রমাণিত মিথ্যার পুনঃপ্রচার চলছে

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



আমার বিরুদ্ধে প্রমাণিত মিথ্যার পুনঃপ্রচার চলছে

আমি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র আমার সুনামহানি করতে নতুনভাবে আবার প্রপাগ্রান্ডা শুরু করেছে। আমি ১/১১-এর সময় আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছি—আমার স্বাক্ষর সুপার ইম্পোজ করা সেই গায়েবি চিঠি আবার প্রচার করে আমার দল আওয়ামী লীগ ও জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সেই গায়েবি চিঠির ভাষা ও আঙ্গিক দেখলেই বোঝা যায়—চিঠিটি কত অসার।

ভাষা আমার ব্যক্তিজীবন, চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। আমি ওয়ান-ইলেভেনের সময় পদত্যাগ করলাম, তা জননেত্রী শেখ হাসিনা জানেন না। আমি জানি না। আওয়ামী লীগের তখনকার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ ভাই জানেন না। আওয়ামী লীগ অফিসেও এ ধরনের চিঠি জমা হয়নি। তাহলে এটাকে গায়েবি চিঠি ছাড়া কী বলা চলে। এটা তখনকার স্বার্থান্বেষী মহলের যে বানানো, তা মিথ্যা পদত্যাগের পত্রের ভাষাই প্রমাণ করে।

আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯০ সালে রাজনীতিতে এসেছি। আমি তাঁর উন্নয়ন ও আদর্শের রাজনীতি করি। সত্ভাবে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করেছি। মন্ত্রী থাকাকালীন সরকারি কাজে সততা ও স্বচ্ছতা প্রতিপালন করেছি। এলাকার শিক্ষার প্রসারে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। আমি আমার কাজে শতকরা এক শ ভাগ স্বচ্ছ। কখনো কোনো অনিয়ম করিনি, কোনো অবৈধ কাজ করিনি। আদর্শের সাথে আপস করিনি। ১৯৯০ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে জনগণের বৃহত্তর সেবায় রাজনীতিতে এসে দল ও আদর্শের সাথে কখনো বেইমানি করিনি। দলের প্রতি, নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছি। যত দিন বেঁচে থাকব, আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও কল্যাণের রাজনীতি করে যাব।

আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ছিল বায়বীয় ও ভুল ধারণাপ্রসূত। পদ্মা সেতু প্রস্তুতিপর্বে নানা মিথ্যা অভিযোগ, যোগাযোগমন্ত্রীর অফিস মেরামত, যোগাযোগমন্ত্রীর জন্য গাড়ি ক্রয়, কালকিনিতে বাড়ি নির্মাণ, সড়ক দুর্ঘটনায় যোগাযোগমন্ত্রী দায়ী, দুটি পাসপোর্টসংক্রান্ত বিষয়—সব ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার গড়া প্রতিষ্ঠান—সাকো প্রভাব বিস্তার করে ব্যবসা পাওয়া সংক্রান্ত আমার কম্পানির এক কর্মকর্তা জাল স্বাক্ষরসম্বলিত চিঠি, আমার স্বাক্ষর জাল করে ব্যবসাসংক্রান্ত জাল চিঠি প্রচার করে আমার ইমেজ নষ্টের নানা অপচেষ্টা বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। এসব অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি শ্বেতপত্রে উল্লেখ করে এসব বিষয় সম্পর্কে তদন্ত করে। বিএনপির তদন্তেই সব মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে ১/১১-এর সময় আমাকে আটক করতে না পেরে, নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়। আমার সাকো অফিস ও বাড়ি তল্লাশি করা হয়। সাকো কর্মকর্তাদের নির্যাতন করা হয়। আওয়ামী লীগ থেকে আমার গায়েবি পদত্যাগপত্র আমার স্বাক্ষর সুপার ইম্পোজ করে প্রচার করে। সত্যের জয় হয়ই। Truth Shall Prevail. আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত মিথ্যা অভিযোগ, ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারও শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দুদক, বিদেশি তদন্ত ও কানাডার আদালতের রায়ে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।

আমি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ করব—এ ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকুন। মিথ্যা প্রমাণিত বিষয় পুনঃপ্রচার বন্ধ করুন। আমার আয়-ব্যয়, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের গ্লোবালি তদন্ত হয়েছে। সব তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। কাজেই কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ, যা বারবার করা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত, তা আবার টেনে এনে আমাকে বিব্রত, আমার মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করছি। সবার মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।



মন্তব্য