kalerkantho


ঢাকায় ৫,০০০ অটোরিকশা নামানোসহ ১০ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকায় ৫,০০০ অটোরিকশা নামানোসহ ১০ দাবি

রাজধানী ঢাকায় পাঁচ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালুর জন্য প্রজ্ঞাপন জারিসহ ১০ দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামী এক মাসের মধ্যে সরকার দাবি না মানলে সংগঠনটি রাজধানীসহ দেশজুড়ে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

জানা গেছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিলেও প্রায় ১১ বছর ধরে ঢাকা মহানগরীতে নতুন পাঁচ হাজার অটোরিকশা নামানো হচ্ছে না। আইনি জটিলতা নিরসনের পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ সিদ্ধান্ত আটকে আছে। এ অবস্থায় গতকাল বুধবার ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে।

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগরীতে বসবাসকারী থ্রি-হুইলার লাইসেন্সধারীদের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার অটোরিকশা বিতরণের প্রজ্ঞাপন

প্রকাশ করে তা বিতরণের ব্যবস্থা করা; পাঁচ হাজার অটোরিকশার মধ্যে অবশিষ্ট (৫০০০-৩১৯৬) এক হাজার ৮০৪টি হালনাগাদ থ্রি-হুইলার লাইসেন্সধারীর মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা; সরকারি আদেশ অমান্য করে ৯০০ টাকার অতিরিক্ত দৈনিক জমা আদায়কারী মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় নিবন্ধনকৃত অটোরিকশা ঢাকা মহানগরীতে চলাচল বন্ধ ও স্থায়ী ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা; দুর্ঘটনার অজুহাতে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের আদেশ প্রত্যাহার করা; অবৈধভাবে চলাচল করা উবার, রাইডার ও চলো নামের প্রাইভেট কার ঢাকা মহানগরীতে বাণিজ্যিক চলাচল বন্ধ করা; পেশাজীবী ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নকালে ব্যবহারিক পরীক্ষা বন্ধ এবং ফেডারেশনভুক্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীদের প্রত্যয়নপত্র প্রথা বাতিল করা; অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এ ট্যাক্সি ক্যাবকে (থ্রি-হুইলার) হালকা যানের অন্তর্ভুক্ত করা; যাত্রীসাধারণ ও চালকদের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাস্তার পাশে পার্কিং বোর্ড স্থাপন করে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা; সিএনজি/পেট্রলচালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলার সার্ভিস নীতিমালা ২০০৭-এর ঙ(৫) অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নার্থে ইউনিয়নের পরিচয়পত্রবিহীন অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা এবং অটোরিকশা চুরি, ছিনতাই ও চালক হত্যা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সরদার মো. সোবহান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ (খোকন)। মোহাম্মদ হানিফ (খোকন) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সরকারকে এক মাস সময় দেব। এর মধ্যে দাবিগুলোর বাস্তবায়ন চাই। অন্যথায় আমরা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হব।’

সংগঠনের নেতারা জানান, পরিবেশদূষণ রোধে সরকার ২০০২ সালে ঢাকা মহানগর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টু স্ট্রোক থ্রি-হুইলার অটোরিকশা উচ্ছেদ করে প্রায় ১৩ হাজার ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলার অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেয়। চাহিদার তুলনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা কম হওয়ায় সরকার দৈনিক জমা নির্ধারণ করা সত্ত্বেও মালিকরা ইচ্ছামাফিক দৈনিক জমা বাড়াতে থাকে। এ অবস্থায় ২০০৭ সালে ঢাকা মহানগরীতে বসবাসকারী থ্রি-হুইলার লাইসেন্সধারীদের অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিআরটিএ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চাইলে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। চূড়ান্ত শুনানির পর হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে রায় দেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সভাপতিত্বে ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় লিভ টু আপিল ২০০৬/২০১২ প্রত্যাহার সাপেক্ষে বিআরটিএ সব বিধি অনুসরণ করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পাঁচ হাজার অটোরিকশা বিতরণে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। যথাসময়ে আপিল প্রত্যাহার করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং চেয়ারম্যান বিআরটিএ বরাবর সার্টিফিকেট কপি জমা দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী, সহসভাপতি আ. মান্নান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রেজাউল করিম, কার্যকরী সদস্য বাদল মুন্সি প্রমুখ।

 

 



মন্তব্য