kalerkantho


আদালতের আশপাশে ছিল কড়া নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



আদালতের আশপাশে ছিল কড়া নিরাপত্তা

বুধবার সকাল ৯টা। চানখাঁরপুল এলাকায় নাজিমুদ্দীন রোডের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে ছিলেন শতাধিক পুলিশ সদস্য। তাঁরা কোনো গাড়ি ভেতরের দিকে ঢুকতে দিতে চাননি। তবে ওই এলাকার যারা বাসিন্দা এবং যাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়। নাজিমুদ্দীন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেওয়া উপলক্ষে ছিল এই কড়াকড়ি। সময় বাড়ার সঙ্গে নিরাপত্তার কড়াকড়িও বাড়তে থাকে।

পুরনো কারাগারের পাশে মাকুশা মাজারের কাছে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এখান থেকে লোকজনকে সামনে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। তবে ওই এলাকার বাড়ির লোকজনের দেহতল্লাশি করে যেতে দেওয়া হয়।

সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে দলের বেশ কিছু কর্মী মিছিল করে। তারা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, তারেক রহমানের ফাঁসি চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। কিছুক্ষণ পর মিছিলটি কারাগারের কাছে পুলিশের ব্যারিকেডের পাশ থেকে ফিরে যায়।

গতকাল রায় উপলক্ষে অনেক উত্সুক মানুষকে আসতে দেখা যায় কারাগারের ব্যারিকেডের পাশে। তেমনি একজন চান মিয়া। তাঁর বাসা কাছেই। বৃদ্ধ চান মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, সকালেই তিনি এসেছেন এখানে। তাঁর ইচ্ছা ছিল আদালতের সামনে যাওয়ার। কিন্তু পুলিশ যেতে দেয়নি। কেন এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি। আমার নেত্রীকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক রহমান। তাঁর ফাঁসির রায় হয় কি না তা শোনার জন্য এসেছি।’ গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কারাগারের পাশে উত্সুক লোকের ভিড় ছিল। 

ওই নারকীয় গ্রেনেড হামলায় আহত অনেকে এসেছিলেন আদালত প্রাঙ্গণে।

রায় চলাকালে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ২১ আগস্টের ওই হামলার ঘটনার বর্ণনা দেন তাঁরা। তুলে ধরেন সেদিনের বীভৎসতা। তাঁদের অনেকে এই মামলায় তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীকে আসামি না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আসামিদের সর্বোচ্চ ফাঁসির সাজা প্রত্যাশা করেন। রায় শোনার পর তাঁরা তারেক রহমানের ফাঁসির দণ্ড না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।

নাজিমুদ্দীন রোডের বাসিন্দা শান্ত জানান, রায় উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিক থেকেই পুলিশ আসতে শুরু করে। রাত ১টার দিকে ব্যারিকেড বসানো হয়। সকাল থেকে যারা ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায় তাদের দেহ তল্লাশি করেই যেতে দেওয়া হয়।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাজিমুদ্দীন রোডের অস্থায়ী আদালত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। পরে ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, ‘২১ আগস্ট হামলা মামলার রায় ঘিরে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বরদাশত করা হবে না। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে কিংবা আইনের ব্যত্যয় ঘটালে চলমান আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরী ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে যা যা করণীয় তার সব কিছুই করা হয়েছে।’

আসামিদের নিয়ে আসা হয় সকালে : পুলিশের তরফ থেকে জানা যায়, গতকাল আসামিদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে তুলে ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে পুলিশ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামিদের বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসার পাশের অস্থায়ী আদালতের হাজতে রাখা হয়। সকাল সোয়া ১১টার দিকে আসামিদের আইজি প্রিজন্সের অফিসের পাশের রাস্তা দিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় প্রিজন ভ্যানের সামনে পেছনে ছিল পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েকটি গাড়ি।

 



মন্তব্য