kalerkantho


কিশোরগঞ্জ

নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট বিপ্লব হবে

মো. মাজহারুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট বিপ্লব হবে

কালের কণ্ঠ : জেলা বিএনপি সামনের নির্বাচন নিয়ে সাংগঠনিকভাবে কতটুকু সংগঠিত? দলগতভাবে এই শক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করা কি সম্ভব?

মাজহারুল ইসলাম : ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের উপস্থিতিতে সম্মেলনের পর দলে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ের চেয়ে বিএনপি এখন অনেক সংগঠিত ও শক্তিশালী। সরকারের গায়েবি মামলা ও হামলার কারণে দলের নেতাকর্মী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ওইভাবে মাঠে না থাকলেও আমাদের কাজ হচ্ছে। নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে দেখা যাবে কার শক্তি কতটুকু। বিএনপিকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

কালের কণ্ঠ : সামনের নির্বাচনকে ঘিরে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?

মাজহারুল ইসলাম : নির্বাচনের পরিবেশই নেই দেশে। আর কিশোরগঞ্জও দেশের বাইরে নয়। সব জায়গায় দমবন্ধ অবস্থা। পরিবেশ না হলে এ নির্বাচনে গিয়ে তো লাভ নেই। তার পরও দলের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে অনেক জরিপ হয়েছে। নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতিও রয়েছে দলে। তা ছাড়া আন্দোলনেরও প্রস্তুতি আছে। বর্তমান সরকার যেভাবে দেশটা ধ্বংস করে দিচ্ছে এতে মানুষ ক্ষুব্ধ। তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছে। এ মুহূর্তে আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছি।

কালের কণ্ঠ : নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা যেভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে; ওইভাবে তো বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দেখা যাচ্ছে না, কেন?

মাজহারুল ইসলাম : প্রার্থীরা মাঠে যাবে কিভাবে? ছাত্র আন্দোলনের পর জেলা বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে ঢাকায় পাঁচটি ‘ভৌতিক’ মামলা হয়েছে। আগের হাজার হাজার মামলা তো আছেই। সাম্প্রতিক সময়েও সারা দেশে এমন মামলা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জেই তো শতাধিক মামলা আছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একটা ভীতিকর পরিস্থিতিতে রয়েছি আমরা। স্বাভাবিক জীবন যাপনই করতে পারছে না নেতাকর্মীরা সেখানে নির্বাচন তো অনেক দূরের ব্যাপার।

কালের কণ্ঠ : দলীয় কর্মসূচিগুলো ঠিকঠাক পালিত হয় এখানে? সামনে যদি আন্দোলন হয় সে ক্ষেত্রে প্রস্তুতি কেমন?

মাজহারুল ইসলাম : আগেই আপনাকে বলেছি বর্তমানে জেলা বিএনপির শক্তি যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। কিশোরগঞ্জ শহরে এ ঘণ্টার নোটিশে হাজার দেড় হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়। পুলিশের বাধা ও চাপ উপেক্ষা করেও নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিগুলো পালন করছি আমরা। আর আন্দোলন হলে তার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে নেতাকর্মীরা।  

কালের কণ্ঠ : বিএনপি নির্বাচনে গেলে কিশোরগঞ্জে ছয়টি আসনে জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটুকু আশাবাদী?

মাজহারুল ইসলাম : ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার সাতটি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে জয়ী হয়েছিল বিএনপি। পুনর্গঠিত হওয়ার পর আসন হয়েছে ছয়টি। জেলায় বিএনপি শক্তিশালী দল। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির বাক্সে ভোট বিপ্লব হবে।

কালের কণ্ঠ : অনেকে বলছেন, মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির দলাদলি, কোন্দল ও বিভেদ বাড়ছে?

মাজহারুল ইসলাম : আমাদের চেয়ে এ সমস্যা আওয়ামী লীগে বেশি। বড় দলগুলোতে এসব থাকেই। মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের ভাবনা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনটি করা। এখানে দলাদলি করলে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে কারও সুবিধা হবে না। তাই আমি মনে করি মনোনয়ন দলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না। কিশোরগঞ্জ-৩, ৪ ও ৬ আসনের প্রার্থীর নাম সবাই জানে। বাকি তিনটি আসনেও আশা করি যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীরা মনোনয়ন পাবেন।

কালের কণ্ঠ : বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাবনা কী?

মাজহারুল ইসলাম : বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়ে গেছে। এ সরকারের অধীনে বড় নির্বাচনগুলো কেমন হয়েছে তা দেশবাসীর পাশাপাশি বিএনপিও জানে। কাজেই যে নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকা না-থাকার প্রশ্ন জড়িত, সেখানে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন কোনোভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। কাজেই এ বিষয়ে কেন্দ্রের মনোভাবই আমাদের মনোভাব।

কালের কণ্ঠ : জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আসন ভাগাভাগিতে আপনারা স্থানীয়ভাবে  কতটুকু প্রস্তুত।

মাজহারুল ইসলাম : শুধু বিএনপি নয়, সারা দেশের মানুষ চাইছে পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের স্বার্থে দেশের স্বার্থে দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে নেতাকর্মীরা।



মন্তব্য