kalerkantho


জয়পুরহাট

আমাদেরই ভোট দেবে মানুষ

মমতাজ উদ্দিন মণ্ডল
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জেলা বিএনপি

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আমাদেরই ভোট দেবে মানুষ

কালের কণ্ঠ : আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতি কেমন? 

মমতাজ মণ্ডল : বিএনপি নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক দল। নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত। কারণ জনগণই আমাদের মূল শক্তি। বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ জনগণ নির্বাচনে আমাদের ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। তবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আগে আমরা অন্য কিছু ভাবছি না। কেন্দ্রের নির্দেশমতো আমরা জেলা বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করব।

কালের কণ্ঠ : নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন কেমন?

মমতাজ মণ্ডল : দেখুন, এই জেলায় সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি। অতীত রেকর্ড হচ্ছে, জয়পুরহাটে কোনো সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আগের মতোই জেলার দুটি আসনে বিএনপি জয়লাভ করবে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে আমার এমনটাই মনে হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : আপনারা তো ক্ষমতায় নেই। তাহলে মানুষ কেন আপনাদের ভোট দেবে?

মমতাজ মণ্ডল : বর্তমান সরকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কোটা আন্দোলন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বলেন, সব কিছুতেই ছলচাতুরী। মানুষ সেটা বুঝে গেছে। এ জন্য তাদের বর্জন করতে হলে বিএনপির বিকল্প নেই। আমরা মনে করি মানুষ আমাদেরই ভোট দেবে।  

কালের কণ্ঠ : জেলায় বিএনপির কর্মসূচি পালন হয় কিভাবে?

মমতাজ মণ্ডল : দেশে তো এখন গণতন্ত্র নেই। আমরা কোনো কর্মসূচি পালন করতে গেলেই পুলিশ বাধা দেয়। মাত্র দশ গজের মধ্যে আমাদের কর্মসূচি পালন করতে হয়। এটা গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। সরকারের এই দমন-পীড়নের কারণে আমাদের নেতাকর্মীরা নয় শুধু, সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ।

কালের কণ্ঠ : অনেকে বলছেন জয়পুরহাটে বিএনপির জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে।

মমতাজ মণ্ডল : যাঁরা এসব কথা বলছেন তাঁরা পাগলের রাজ্যে বাস করছেন। বরং বর্তমান সরকার উন্নয়ন উন্নয়ন বলে মুখে যে ফেনা তুলেছে, খোঁজ নিয়ে দেখুন জনপ্রিয়তা তাদেরই হ্রাস পেয়েছে।

কালের কণ্ঠ : বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী কতজন? মনোনয়ন নিয়ে দলে কোনো কোন্দল আছে?

মমতাজ মণ্ডল : আমাদের দলে পাঁচ থেকে ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন। আর যে কোন্দলের কথা বলছেন, সেটি কোন্দল নয়। বিএনপি একটি বৃহৎ দল। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। তবে দলীয় আদর্শের দিক থেকে আমরা সবাই এক। ফলে এসব বিষয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি না। 

কালের কণ্ঠ : এই সরকারের অধীনে বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটা আশাবাদী? 

মমতাজ মণ্ডল : বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচন হলে সেটা হবে পাতানো নির্বাচন। কাজেই সেই নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। জয়-পরাজয় তো পরের কথা। আমার মনে হয় বিষয়টি কেন্দ্রই ভালো বুঝবে।

কালের কণ্ঠ : জোটগত নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

মমতাজ মণ্ডল : বিষয়টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে। তবে জয়পুরহাটের দুটি আসনেই বিএনপির ঘাঁটি।

কালের কণ্ঠ : আসন্ন নির্বাচনে আপনি কি মনোনয়ন চাইবেন? 

মমতাজ মণ্ডল : দলকে সংগঠিত করতে আমার ওপর কেন্দ্র থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এই মুহূর্তে সেই দায়িত্ব পালনের বাইরে আমি কিছু ভাবছি না। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, অবশ্যই সেই দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছি।



মন্তব্য