kalerkantho


জয়পুরহাট

উন্নয়নের কারণেই জয়ী হবে আ. লীগ

সামছুল আলম দুদু
সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগ

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



উন্নয়নের কারণেই জয়ী হবে আ. লীগ

কালের কণ্ঠ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন?

সামছুল আলম দুদু : দেখুন, জয়পুরহাট জেলা একটি অনুন্নত জেলা। বিগত সময়ে জেলার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ যা-ই বলুন, আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকারের গত পাঁচ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিটি গ্রামে গেছি। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। উন্নয়ন করেছি। বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি।  আওয়ামী লীগের এই সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে, বিগত কোনো সরকারের আমলে এত উন্নয়ন হয়নি। কাজেই নির্বাচন নিয়ে আমার ভাবনা একটাই, জয়লাভ করা। মানুষ বুঝে গেছে আওয়ামী লীগ ছাড়া এলাকার উন্নয়ন হবে না।

কালের কণ্ঠ : তার মানে আসন্ন নির্বাচনে আপনি মনোনয়ন চাইবেন?

সামছুল আলম দুদু : অবশ্যই মনোনয়ন চাইব। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় পড়ে আছি মানুষের সেবা করার জন্য। আমি জানি, মানুষকে সেবা করার ফল অবশ্যই পাব।

কালের কণ্ঠ : দলে তো সম্ভাব্য অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী। বিষয়টি দলের জন্য কতটা স্বস্তির?

সামছুল আলম দুদু : আওয়ামী লীগ বড় একটি গণতান্ত্রিক দল। এ দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, আমরা সবাই তাঁর পক্ষে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য একটাই, নৌকাকে জয়ী করা।

কালের কণ্ঠ : জেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা কেমন?

সামছুল আলম দুদু : অতীতের চেয়ে আওয়ামী লীগ এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে জয়পুরহাট আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। দলে কোনো কোন্দল নেই। দলীয় কর্মকাণ্ডও ভালোভাবে চলছে।

কালের কণ্ঠ : আপনি তো বলছেন কোন্দল নেই, তাহলে জেলায় আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করা হয় কেন?

সামছুল আলম দুদু : কোন্দল নেই এই অর্থে, সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বেই জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সব কর্মসূচি পালন করা হয়। অন্য যারা পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে, তারা তো জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে করে না। আমরা সব সদস্যকে চিঠি পাঠাই। এখন কেউ যদি না আসে, তাহলে আমাদের কী করার আছে? তবে দল থেকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর এই কোন্দল আর থাকবে না।

কালের কণ্ঠ : বর্তমান সরকারের সময়ে জয়পুরহাটে কী কী উন্নয়ন হয়েছে?  

সামছুল আলম দুদু : জয়পুরহাটের তিনটি উপজেলায় ছয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি হয়েছে। ৩১ কোটি টাকায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান। জেলার বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। কারিগরি কলেজ, জেলা মৎস্য অফিস, যুব উন্নয়ন কমপ্লেক্স, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ ছাড়াও কয়েক শ কোটি টাকার কাজ প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, হিজড়া ভাতা, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা মায়েদের অ্যাকাউন্টে বিতরণ, মসজিদ, মন্দির ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ব্যাপকভাবে হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন এসব উন্নয়নের কারণে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জেলার দুটি আসনেই জয়লাভ করবে? 

সামছুল আলম দুদু : অবশ্যই। জয়পুরহাটের ইতিহাসে কখনো যে উন্নয়ন হয়নি, বর্তমান সরকারের আমলে তা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আগে এ জেলার মানুষদের আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছিল। এখন মানুষের সেই ভুল ধারণা ভেঙে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে আমি বিশ্বাস করি, মানুষ আর ভুল করবে না। আগামী নির্বাচনে জয়পুরহাটের দুটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।



মন্তব্য