kalerkantho


মানুষের মুখ বন্ধ করতেই ডিজিটাল আইন : বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মানুষের মুখ বন্ধ করতেই ডিজিটাল আইন : বিএনপি

ফাইল ছবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের মুখ বন্ধ করতে এবং গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলতে গতকাল (বুধবার) ভোটারবিহীন সংসদে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হলো। এটি সংবিধানবিরোধী একটি আইন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

এই আইনকে বাকশালের প্রেতাত্মা আখ্যা দিয়ে বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘গণমাধ্যমে অথবা যেকোনো মাধ্যমেই যাতে দুর্নীতির কোনো খবর প্রকাশিত না হয় অথবা প্রকাশ করতে না পারে সে জন্যই এ ন্যক্কারজনক কালো আইন তৈরি করা হয়েছে। এই আইনের কারণে দেশের মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ল।’

বিচারপতি এস কে সিনহার বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘আরো পরিষ্কার হলো বন্দুকের নলের মুখে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। এটি করে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় রায় দিয়ে কারাবন্দি করে এক নম্বর মিশন কার্যকর করার পর এখন দুই নম্বর মিশন কার্যকর করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আগামী ১০ অক্টোবর রায় দেওয়া হবে।’

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট পল্টনের মুক্তাঙ্গনে সভা করতে চেয়েছিল। পুলিশ ১৯ আগস্ট তাদের লিখিত অনুমতি দেয়। সভার দিন মুক্তাঙ্গনের আশপাশে যথারীতি ব্যাপক পুলিশ নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ওই দিন দুপুর ১টায় সভাস্থল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্থানান্তরিত করা হয়।

এ ছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে গ্রেপ্তার এবং শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ কয়েক নেতার বাসায় পুলিশের তল্লাশির ঘটনায় নিন্দা জানান রিজভী। নাটোরের সাত নেতাকে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁদের জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানান তিনি।

কয়েকটি গণমাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সংবাদকে ‘বানোয়াট ও আজগুবি’ বলে অভিহিত করে এ ধরনের সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, তৈমূর আলম খন্দকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ৭ দফা ১২ লক্ষ্য চূড়ান্ত

জাতীয় বৃহত্তর ঐক্য গড়তে বিএনপি সাত দফা ও ১২ লক্ষ্য চূড়ান্ত করেছে। কয়েক দফায় দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে গতকাল রাতে এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। এ নিয়ে আজ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে পারেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

বিএনপির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের সাত দিন আগে সেনা মোতায়েন, নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও গ্রেপ্তার হয়রানি বন্ধ রাখা।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ প্রমুখ।



মন্তব্য