kalerkantho


রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ

আইসিসির প্রাথমিক তদন্ত শুরু

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আইসিসির প্রাথমিক তদন্ত শুরু

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়নের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। মঙ্গলবার রাতে নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিসির কৌঁসুলি ফেতু বেনসুদা এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। তিনি আরো জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান কোনো ‘তদন্ত’ নয়। বরং এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোম সংবিধির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শর্তগুলোর মাধ্যমে তদন্তের যৌক্তিক ভিত্তি আছে কি না তা যাচাই করা হয়।

বাংলাদেশ আইসিসির রোম সংবিধি সমর্থন করলেও মিয়ানমার করেনি। আইসিসির পক্ষ (সদস্য) না হওয়ায় ওই আদালত মিয়ানমারের ওপর আইসিসি বিচারিক এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে না বলে সু চির সরকার দাবি করে আসছে। ফেতু বেনসুদা বলেন, বাংলাদেশ আইসিসির পক্ষ; অপরাধের যে অংশবিশেষ এখানে সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর ওপরই আইসিসি বিচারিক এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক তদন্তে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে দমনমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যেমন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা, হত্যা, যৌন সহিংসতা, জোরপূর্বক নিরুদ্দেশ (গুম), ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটের ঘটনা আমলে নিতে পারে।

ফেতু বেনসুদা আরো বলেন, ‘রোম সংবিধির সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত অন্যান্য অপরাধ যেমন নিপীড়ন ও অমানবিক আচরণ করার মতো অপরাধও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না (আইসিসির বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়বে কি না) তাও আমার দপ্তর খতিয়ে দেখবে।’

গত ৬ সেপ্টেম্বর আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১ ঐতিহাসিক রায়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা বিতাড়নের ক্ষেত্রে আইসিসির বিচার এখতিয়ার আছে বলে ঘোষণা করেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। কারণ আইসিসি স্বপ্রণোদিত হয়ে দৃশ্যত একটি দেশের বা দেশের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা বিচার করতে যাচ্ছে, যারা আইসিসির পক্ষ নয়। তবে আইসিসির যুক্তি হলো, তারা এমন কিছু অপরাধের বিচার করবে যার একটি অংশ সংঘটিত হয়েছে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রে।

এ প্রসঙ্গে ফেতু বেনসুদা বলেন, প্রি-ট্রায়াল চেম্বার-১ আদালত বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়নের অভিযোগের পাশাপাশি রোম সংবিধির সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত সম্ভাব্য অন্য অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে আইসিসি অবশ্যই বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এর সুবাদেই প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান আইসিসি কৌঁসুলি। বেনসুদা জানান, এটি তাঁদের প্রাথমিক অনুসন্ধানর দ্বিতীয় পর্যায়। ২০১৭ সালের শেষ দিকেই তাঁর দপ্তর রোহিঙ্গা নির্যাতনসংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন ও বার্তা পায়।



মন্তব্য