kalerkantho


‘শান্তিতে বিজয়’ প্রচারাভিযান

অহিংস নির্বাচনের শপথ নিলেন ৪০০ রাজনীতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অহিংস নির্বাচনের শপথ নিলেন ৪০০ রাজনীতিক

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রিটি হলে গতকাল ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) আয়োজিত ‘শান্তিতে বিজয়’ প্রচারাভিযান কর্মসূচিতে শপথ নেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৪০ জেলা থেকে আসা ৪০০ রাজনীতিক। ছবি : কালের কণ্ঠ

সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের শপথ নিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ দেশের ৪০ জেলা থেকে আগত ৪০০ রাজনীতিক। তাঁরা নির্বাচনী প্রচার ও নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে ভূমিকা রাখার শপথ নিয়েছেন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) আয়োজিত ‘শান্তিতে বিজয়’ প্রচারাভিযান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁরা এ শপথ নেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ওই শপথ অনুষ্ঠান হয়েছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রিটি হলে।

শপথ গ্রহণের আগে এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু, অবাধ, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা আশা করি, আমাদের দলের এবং আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে আমরা কখনো পিছপা হব না। অতীতেও হইনি, ভবিষ্যতেও হব না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ চাই, সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ এমন একটি দেশ চাই যেটি সারা বিশ্বের আদর্শ হবে। এটিই আমাদের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ সব সময়ই আক্রান্ত হয়েছে। আমি সেই সব ঘটনা বলতে চাই না। কিন্তু আমরা কখনো কাউকে পাল্টা আক্রমণ করিনি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, ‘আমরা রাজনীতিতে শান্তির কথা বলছি। শান্তি খুব প্রয়োজন। কিন্তু সুবিচার ছাড়া শান্তি সম্ভব নয়। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। শুধু তাই নয়, আমরা একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ চাই। এটাই তো আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘উন্নয়ন না হলে গণতন্ত্র হয় না। আর গণতন্ত্র না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা এ কথাই বলতে এসেছি। আমরা সামাজিক সুবিচার, রাজনৈতিক সুবিচার দাবি করি। এগুলো ছাড়া মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের কথা ভাবা যায় না।’ মঈন খান বক্তব্য দেন ইংরেজিতে।

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ’ : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বলেন, ‘বাংলাদেশিদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পর্যায়ে—নির্বাচনের আগে, চলাকালে ও পরে, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে অহিংস আচরণ করার আহ্বান জানাতে হবে। সহিংসতা শুধু তাদেরই কাজে আসে যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ ও তার নাগরিকদের স্বার্থহানি করতে চায়।’

বার্নিকাট আরো বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে থাকা একটি রাষ্ট্রের জন্য। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির জন্য নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পরিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা থাকা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের অবশ্যই নিজেদের মতামত প্রকাশ, প্রচার চালানো এবং ভয়ভীতি, প্রতিশোধ বা জবরদস্তিমূলক বিধিনিষেধ ছাড়া শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতা থাকতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেন, ‘বিশ্বে গণতন্ত্র এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। এ জন্য আমরা বিভিন্ন উপায়ে গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি। গণতন্ত্রকে অংশগ্রহণমূলক করা ও এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠ যুক্ত হওয়া জরুরি। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য সহযোগিতা করে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভেতরে নিয়মিত নির্বাচন একটি প্রয়োজনীয় অংশ। এতে সবার ভোট প্রদানের অবাধ সুযোগ থাকতে হবে।’

বক্তব্য শেষে উপস্থিত রাজনীতিকরা দাঁড়িয়ে একযোগে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ভূমিকা রাখার শপথ পাঠ করেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহনশীল রাজনীতির চর্চা বাড়াতে, ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশের সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে। এতে অর্থায়ন করেছে ইউএসএআইডি এবং ইউকেএআইডি।



মন্তব্য