kalerkantho


নাজিমের নামে এখনো ‘খাত’ আসছে দেশে

এবার জব্দ হলো ১২০ কেজি
ফের রিমান্ডের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নাজিমের নামে এখনো ‘খাত’ আসছে দেশে

রাজধানীর শান্তিনগরের নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজের নাজিমের নামে এখনো নিউ সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবসটেনসেস (এনপিএস) জাতীয় মাদকদ্রব্য ‘খাতের’ চালান পাঠাচ্ছে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা এলাকার মাদক কারবারি জিয়াদ মোহাম্মাদ ইউসুফ। গত ৩০ আগস্ট ৮৬০ কেজি খাতসহ নাজিমকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দারা। এর পরও নাজিমের নামে এসেছে চালান। গতকাল শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জিপিও পার্সেল শাখা থেকে ছয় কার্টনে ১২০ কেজি খাত জব্দ করেছে ডিএনসি।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এক মাসের মধ্যে নাজিমের কাছে তিন হাজার কেজি খাত পাঠানোর কথা আছে ইউসুফের। তবে বাংলাদেশে অভিযানের তথ্য সে জেনে গেছে। এর আগেই পাঠানো চালানটি গতকাল পৌঁছায়। অন্য চালান এবং এর সঙ্গে জড়িতদের ধরতে সক্রিয় আছে গোয়েন্দারা। এদিকে খাত কারবারে জড়িতদের মধ্যে একমাত্র আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার নাজিমকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে উপস্থাপন করা হয়। চতুর এ ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার ফের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএনসির সহকারী পরিচালক (গোয়েন্দা) মেহেদী হাসান বলেন, মাদকের এই চালানটিও ইথিওপিয়া থেকে জিয়াদ মোহাম্মাদ ইউসুফ ঢাকায় পাঠিয়েছে। ইত্তেহাদ এয়ারলাইনসের একটি বিমানে চালানটি পাঠানো হয়েছে। এর আগে ডিএনসির অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া নাজিমের প্রতিষ্ঠানের নামেই চালানটি এসেছে। তার নামে একই মাদকের আরো তিনটি চালান এসেছে। তিনি আরো বলেন, তিন দিনের রিমান্ডের পরে নাজিম আদালতে স্বীকারোক্তি দেবে বলেছিল। কিন্তু আদালতে গিয়ে চতুর নাজিম ভোল পাল্টে ফেলে। ১২০ কেজির চালানটিও আগের মামলায় জব্দ দেখানো হচ্ছে। নাজিমকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ৩০ আগস্ট নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার নামে আসা এক হাজার কেজি খাত জব্দ করা হয়েছে। তবে ইউসুফকে নাজিম তিন হাজার কেজি পাঠানোর ফরমায়েশ দিয়েছে। এরই মধ্যে ইউসুফ বাংলাদেশে অভিযানের ব্যাপারে জেনে গেছে। গতকাল আসা চালানটি এ তথ্য জানার আগেই সে পাঠিয়েছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।

গত ৩১ আগস্ট বিমানবন্দরে দেশের ইতিহাসে প্রথম খাত চালান আটক করে ডিএনসির গোয়েন্দারা। সেদিন বিমানবন্দর ও শান্তিনগর প্লাজা থেকে ৮৬০ কেজি খাতসহ নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে ২০ কেজি, ৮ সেপ্টেম্বর ১৬০ কেজি এবং ১০ সেপ্টেম্বর ১৪৫ কেজি খাত জব্দ করা হয়। এসব অভিযানের মধ্যেই গত ৯ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের জিপিওর বৈদেশিক পার্সেল শাখা থেকে ৯৬টি কার্টনে ২০টি ঠিকানায় ‘গ্রিন টি’ নামে আসা এক হাজার ৫৮৬ কেজি ৩৬০ গ্রাম খাত জব্দ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চালান। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে জিপিও পার্সেল বিভাগ থেকে আরো ১৯৩ কেজি খাত জব্দ করে ডিএনসি। এই হিসাবে গত ১৫ দিনে তিন হাজার ৮৪ কেজি খাত জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশে খাত আনার সঙ্গে জড়িত ২২ জনের ব্যাপারে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত আছে।

ডিএনসির কর্মকর্তারা বলছেন, আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া ছাড়াও কেনিয়া থেকে খাত আসছে। এ ছাড়া জিবুতি, উগান্ডা, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে খাত চাষ করা হয়। এনপিএস বা নতুন উদ্দীপক মাদক ‘খাত’ অনেকটা চা পাতার গুঁড়ার মতো দেখতে। এ মাদক সেবনে আসক্তিটা অনেকটা ইয়াবার মতো। সেবন করলে অনিদ্রা, অবসাদ, ক্ষুধামান্দ্যসহ মানবদেহে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে ফেলে আসক্ত হওয়া ব্যক্তি।



মন্তব্য