kalerkantho


দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পানির তোড়ে ভেসে গেল সংযোগ সড়কসহ ব্রিজের একাংশ

রংপুর অফিস ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি    

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পানির তোড়ে ভেসে গেল সংযোগ সড়কসহ ব্রিজের একাংশ

কালীগঞ্জ-গঙ্গাচড়া সড়কের ৪০ ফুটসহ সেতুর একাংশ গতকাল ভোরে তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

আগামীকাল রবিবার উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর একটি ব্রিজের একাংশসহ কালীগঞ্জ-গঙ্গাচড়া উপজেলা সড়কের (কাকিনা-মহিপুর) অন্তত ৪০ ফুট ধসে গেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ইচলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে নির্মিত হয়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। এই সড়ক সেতু উপজেলা দুটিকে সড়কপথে একীভূত করে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ চার উপজেলার সঙ্গে রংপুর এবং সারা দেশের অন্তত ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে এনেছে। ১৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৮৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি কাল রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাত্র দুই দিন আগে সেতুটি ধসে পড়ার ঘটনায় একদিকে যেমন বিব্রত হয়েছে নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডিসহ উভয় জেলা প্রশাসন, তেমনি মূল সেতুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সড়ক ও ছোট ছোট একাধিক ব্রিজ নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে অবকাঠামোগুলো নির্মাণের শুরু থেকেই তদারকির দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ছিল। এর আগে মূল সেতুর একাধিক গার্ডার ভেঙে পড়াসহ নানা ঘটনা ঘটেছিল।

স্থানীয় লোকজন ও এলজিইডি সূত্র জানায়, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় এবং গত বছরের বন্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় মূল নদী থেকে গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পানি ঢুকে ওই এলাকার একটি বাঁধ ভেঙে যায়। যে কারণে পানি ঢুকতে থাকে কালীগঞ্জ-গঙ্গাচড়া উপজেলা সড়কের দিকেও। এবার ওই পথ দিয়ে পানির চাপ আরো বাড়তে থাকে। ফলে পানির স্রোত গিয়ে আঘাত হানতে থাকে গতকাল একাংশ ধসে যাওয়া ব্রিজ এলাকায়। এর আগে কয়েক দিন ধরে সেখানে বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু গতকাল ভোরে আর শেষ রক্ষা হয়নি, সড়কটির ৪০ ফুটসহ ৪৮ মিটার ব্রিজটির ‘অ্যাপ্রোচ স্লাভ’ ভেঙে যায়। ফলে বন্ধ হয়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ। মাস চারেক আগে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর সাধারণের চলাচলের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে হু হু করে তিস্তার পানি যাচ্ছে ভাটির দিকে। রাস্তা-ব্রিজের ধসে পড়া অংশ দেখতে সেখানে ভিড় করেছে নানা বয়সী শত শত মানুষ। সেই ভিড় সামলাতে পুলিশ হিমশিম হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের অনেককে ওই পথে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অবশ্য এর পাশে নৌকা দিয়ে সীমিত আকারে লোকজনকে পারাপার করতে দেখা গেছে।

এদিকে গতকাল দুপুর থেকে ভাঙা অংশে বালুর বস্তা ফেলে সড়ক যোগাযোগ চালু করার চেষ্টা করা হয়। দায়িত্বরত একজন প্রকৌশলী কালের কণ্ঠকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর রবিবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাতে লোকজন মোটরসাইকেলের মতো যানবাহন নিয়ে যেতে পারে, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নদীর পানি প্রায় না শুকানো পর্যন্ত পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা সম্ভব নয়।

সেখানে উপস্থিত লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম জাকিউর রহমান বলেন, যখন ৪৮ মিটার ব্রিজটি তৈরি করা হয়, তখন এর নিচে ছিল একটি ছোট্ট খাল ও সমতল জমি। কিন্তু আকস্মিক মূল নদী থেকে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ব্রিজ ও সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সাময়িকভাবে সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনী ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালু করার কথা রয়েছে। এ জন্য সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে মঞ্চ নির্মাণসহ সব প্রস্তুতি নিয়েছে রংপুর জেলা প্রশাসন।



মন্তব্য