kalerkantho


ওএমএস দুর্নীতির প্রতিবেদন দুদকে, হোতাদের ছাড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ওএমএস দুর্নীতির প্রতিবেদন দুদকে, হোতাদের ছাড়!

সিএসডির ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির, ইনচার্জ মনিয়ার হোসেন ও আটার কালোবাজারির নিয়ন্ত্রক সোহাগকে বাইরে রেখেই গতকাল বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কালোবাজারি সিন্ডিকেটের প্রতিবেদন দিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ আছে তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা রিপোর্টে লেখা হয়েছে। আর কেউ জড়িত থাকলে তা তদন্তে ধরা পড়বে।’ দুদক সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে র‌্যাবের আইন কর্মকর্তা সারওয়ার আলম দুদকে গিয়ে প্রতিবেদনটি জমা দিয়ে আসেন। আজ থেকে ওই প্রতিবেদন গ্রহণের পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ‘দুদকে দেওয়া প্রতিবেদনে গুদাম থেকে কালোবাজারে চাল ও আটা যাওয়া প্রক্রিয়া এবং জড়িত শ্রমিকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েকজন কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এর নেপথ্যে কারা আছে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই।’

খাদ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) একাধিক কর্মী ও শ্রমিক অভিযোগ করেন, ব্যবস্থাপক ও ইনচার্জের অগোচরে কোনো কাজই হতে পারে না। গত শনিবার রাতে সিএসডি থেকে পাচার হওয়ার সময় আট ট্রাক এবং মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ১১টি আড়ত থেকে ২১৫ টন চাল ও আটা জব্দ করে র‌্যাব। হুমায়ুন কবির এবং মনিয়ার হোসেনকে আটক করা হলেও এক দিন পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব। এই মামলার এজাহারে অভিযোগ আনা হয়েছে, সরকারি ওএমএসের চাল ও আটা অবৈধভাবে বিক্রি করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করছিলেন অভিযুক্তরা। তবে গতকাল পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আব্দুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘র‌্যাব বাদী হয়ে যে মামলাটি করেছে সে মামলার আসামি হিসেবে ২৩ জনের নাম আছে। এখন পর্যন্ত আমরাই তদন্ত করছি। তবে কোনো গ্রেপ্তার নেই। আসামি গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান শুরু করেছি।’

এক হিসাবে দেখা গেছে, কালোবাজারি চক্র দুই মাসে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে ওই চাল ও আটায় দেওয়া ভর্তুকি হিসাব করলে সরকারের গচ্চা গেছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

জানা যায়, ঢাকার সিএসডি খাদ্যগুদামের অধীনে ৩৪০ জন ডিলার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ১৪১ জন ট্রাকে চাল ও আটা বিক্রি করেন। তবে অনেক ডিলারই জানেন না কার ট্রাক কখন খাদ্যশস্য নিয়ে বের হচ্ছে। আলমগীর ও সোহাগ সেসব ডিলারকে প্রতি টনে পাঁচ হাজার টাকা হিসাব করে টাকা দিয়ে দেন। এরপর ২৮ থেকে ৩০টি ট্রাক খোলাবাজারে দিয়ে বাকি খাদ্যশস্য দেন কালোবাজারে। অপেশাদার ও তদবিরের মাধ্যমে ডিলারশিপ পাওয়া ব্যক্তিরা ওই টাকা নিয়েই সন্তুষ্ট। একজন কর্মী বলেন, ‘ডিলারদের টাকা দিয়ে চাল ও আটা সিএসডি থেকেই ওরাই ছাড়িয়ে নেয়। ২ নাম্বার ডিলাররা এটা নিয়ে মাথাই ঘামায় না। তারা বসে বসে টাকা পায়। এ কারণে অনিয়ম হলেও কেউ টুঁ শব্দও করে না।’

আরেকটি সূত্র জানায়, ডিএসডি গুদামের চাল পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এবং কচুক্ষেতের একটি মার্কেটে বেশি বিক্রি হতো। এ ছাড়া গাজীপুর, সিলেট, চুয়াডাঙ্গাসহ কয়েকটি জেলায়ও পাঠানো হতো। গত শনিবার রাতে র‌্যাব যে আটটি ট্রাক জব্দ করে সেগুলোর খাদ্যশস্য যাচ্ছিল চুয়াডাঙ্গা, শ্রীমঙ্গল ও গাজীপুরের মাওনায়। কালোবাজারি সিন্ডিকেটের ট্রাকের চালকরাই আড়তে যোগাযোগ করে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েক মাস আগে একজন ট্রাক ড্রাইভার আমার কাছে আসে। তবে আমি ওই চাল নিইনি। আমার পাশের আড়তদার নিয়েছেন। নিয়মিত বিক্রি করতেন। এবার তিনি ধরা পড়েছেন। এখন মামলার আসামি।’

গতকাল তেজগাঁওয়ের সিএসডিতে গিয়ে দেখা যায়, অভিযানের পর থেকে সেখানে খাদ্যশস্য বিক্রির জন্য বের করার কাজে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।



মন্তব্য