kalerkantho


টাঙ্গাইল-৩ আসন

আ. লীগের মনোনয়ন চান ড. নূরুল আলম তালুকদার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগের মনোনয়ন চান ড. নূরুল আলম তালুকদার

এক ব্যতিক্রমধর্মী পরিবারের সন্তান ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার। একই পরিবারের মা-বাবা ও তিন ভাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার তালুকদারবাড়ি হয়ে উঠেছিল স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল। মুক্তিযোদ্ধারা নূরুল আলমের মাকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘মাদার অব ফ্রিডম ফাইটার্স’ বলে। সেই পরিবারের সন্তান নূরুল আলম মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালন করে কর্মজীবনে পেয়েছেন অসামান্য সাফল্য। পাশাপাশি জনসেবায়ও ব্রতী হন। এবার তিনি নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন, এমন প্রত্যাশার কথাও জানা গেছে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে।

কর্মদক্ষ এই মানুষটির উঠে আসাও অনন্য। সময়টা ১৯৬৯ সাল। মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্ন। গোটা দেশ তখন উত্তাল। বঙ্গবন্ধু তখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগারে, তাঁর মুক্তির দাবিতে তীব্রতর হতে থাকে আন্দোলন। আন্দোলনের ঢেউ পৌঁছে যায় ঘাটাইলেও। নেতার মুক্তির সেই মিছিলে শামিল হন ঘাটাইলের সিংগুরিয়া স্কুলের ছাত্র নুরুল আলম। শুরু হয় তাঁর রাজনীতির পথচলা। সে বছরই কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন তিনি। কলেজে ভর্তির আগেই শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। মা-বাবা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন নূরুল আলমও। দেশ শত্রুমুক্ত হয়।

বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরেন, ছাত্রদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র জমা দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে ফেরেন নূরুল আলমও। ১৯৭২ সালে ভূঞাপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ এমএ পাস করেন।

১৯৮০ সালে কর্মজীবন শুরু করেন কৃষি ব্যাংকে অফিসার পদে যোগ দিয়ে। মননে-মগজে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা নূরুল আলম দেশের কুষককুলের ভাগ্য পরিবর্তনে অবদান রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যান। এ লক্ষ্যে ব্যাংকক থেকে মাস্টার্স করেন কৃষি অর্থনীতিতে। ২০০৭ সালে অর্জন করেন পিএইচডি ডিগ্রি। আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ডিজিএম পদে পদোন্নতি পান। এরপর ডিএমডি পদে যোগ দেন অগ্রণী ব্যাংকে। ২০১৭ সালে সরকার তাঁকে সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। এখনো সেই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি।

কর্মজীবনের পাশাপাশি সমাজসেবা ও নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন নূরুল আলম তালুকদার। তিনি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ উন্নয়ন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, টাঙ্গাইল জেলা সমিতির আজীবন সদস্য, ঢাকায় ঘাটাইল কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য তিনি। 

ড. নূরুল আলম একজন নিষ্ঠাবান বঙ্গবন্ধু প্রেমিক হিসেবেও পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাঁর আত্মনিবেদনের কথা বলতে গিয়ে ড. নূরুল আলম তালুকদার বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জে হাউস বিল্ডিং করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সে অফিসটি যশোরে নিয়ে যান। আমি সে অফিসটি আবার গোপালগঞ্জে ফিরিয়ে আনি। অফিসটি উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার প্রশংসা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে এ নিয়ে আমি গর্ববোধ করি। আমি কাজটি করতে পেরেছি।’

একজন সফল ও কর্মদক্ষ মানুষ ড. নূরুল আলম তালুকদার ঘাটাইলবাসীর কাছে পরিচিত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে। এলাকার মানুষ মনে করে, তাঁর মতো কর্মবীরের এলাকার জনপ্রতিনিধি হওয়া দরকার। তাই মানুষের অনুপ্রেরণায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. নূরুল আলম টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসন থেকে এমপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাতে মানুষ সাড়া দিচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবার কাজের পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ করছি। এলাকার মানুষজন আমাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে টাঙ্গাইল-৩ আসনে মনোনয়ন দিলে জনতার বিপুল সমর্থন পেয়ে আমি জয়লাভ করতে পারব।’



মন্তব্য