kalerkantho


সবিশেষ

ক্যান্সার প্রতিরোধী কোষ হাতির শরীরে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ক্যান্সার প্রতিরোধী কোষ হাতির শরীরে!

প্রাণিদেহে বিশেষ ধরনের সুপ্ত জিন আছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরে ফেলতে পারে। হাতি এ জিন কাজে লাগাচ্ছে ক্যান্সার প্রতিরোধে। এ কারণে ক্যান্সারে সমবয়সী মানুষের চেয়ে হাতির মৃত্যুহার অনেক কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাতিও মানুষের মতোই গড়ে ৭০ বছরের কাছাকাছি বাঁচে। বিশ্বের ১৭ শতাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। হাতির ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৫ শতাংশ। অথচ ক্যান্সার সৃষ্টিতে যেসব কোষ ভূমিকা রাখে, হাতির শরীরে সেসব কোষের সংখ্যা মানুষের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি। অবাক হওয়া স্বাভাবিক, কী আছে হাতির শরীরে?

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিনসেন্ট লিঞ্চের নেতৃত্বে উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু জেনেটিকস গবেষক ধারণা করছেন, এই ঘটনায় জড়িত একটি বিশেষ জিন পি৫৩। মানুষসহ প্রায় সব স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে এই জিন একটি করে রয়েছে। এই জিনের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ চিহ্নিত করে তাকে ধ্বংস করে ফেলা। শরীরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতোই কাজ করে এ জিন।

গবেষকরা একটি তথ্য জেনে অবাক হয়েছেন যে হাতির শরীরে এই বিশেষ জিন আছে ২০টি। এর ফলে হাতির শরীরে এই ব্যবস্থা আরো দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করে। ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সময়মতো ধ্বংস করতে না পারলে তা একসময় টিউমারে রূপ নেয়।

তবে গবেষকদের মূল আবিষ্কার অবশ্য অন্য জায়গায়। লিঞ্চ বলেন, ‘জিন সব সময়ই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে থাকে। কখনো কখনো তারা ভুলও করে, ফলে তৈরি হয় জিনের কিছু অকার্যকর ছদ্মজিন।’

পি৫৩ নিয়ে গবেষণার সময় গবেষকরা আরেক জিনের খোঁজ পান, যার নাম লিউকোমিয়া ইনহিবিশন ফ্যাক্টর ৬, সংক্ষেপে এলআইএফ৬। মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকলেও হাতির শরীরে হঠাৎ করে কাজ করা শুরু করেছে এই জিন। হাতির শরীর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সরিয়ে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই এলআইএফ৬ জিন। কোষের শক্তিকেন্দ্র বলে পরিচিত মাইটোকন্ড্রিয়ায় ছিদ্র করে কোষকে মেরে ফেলে এই জিন।

লিঞ্চ বলেন, ‘এটা অসাধারণ, কারণ যখনই ক্যান্সারের কোষ তৈরি হওয়া শুরু করে, তখনই তা সরিয়ে ফেললে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় নির্মূল হয়ে যায়।’

হাতির শরীরের এই ক্যান্সারবিধ্বংসী পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য ক্যান্সারের ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন লিঞ্চ ও তাঁর সহকর্মীরা। সূত্র : ডয়চে ভেলে।



মন্তব্য