kalerkantho


আ. লীগে মনোনয়ন উত্তাপ স্বস্তিতে বিএনপি

ভূবন রায় নিখিল, নীলফামারী, তোফাজ্জল হোসেন লুতু, সৈয়দপুর ও আসাদুজ্জামান স্টালিন, জলঢাকা    

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগে মনোনয়ন উত্তাপ স্বস্তিতে বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে আর বাড়ছে নীলফামারীর রাজনীতির মাঠের উত্তাপ। বড় দুই দলের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ছুটছেন আসনের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। গত নির্বাচনে তিনটিতেই নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। নীলফামারী-২ (সদর উপজেলা) আসন থেকে নির্বাচিত হন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এরপর দুর্গটি আরো দুর্ভেদ্য হয়েছে তাঁর নেতৃত্বে। মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকা ভারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। দলের বর্তমান তিন এমপির পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন আরো কয়েকজন নবীন-প্রবীণ নেতা। তবে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলে মনোনয়নপ্রত্যাশী মুখ হাতে গোনা। এ ক্ষেত্রে চিত্র অন্য রকম সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-২ আসনে। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের আসন হওয়ায় আওয়ামী লীগে নেই একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী।

আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আসাদুজ্জামান নূরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উন্নয়ন হয়েছে অনেক। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জানায়, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ছয় উপজেলার মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ জয় পায়। একটিতে জাতীয় পার্টি এবং আরেকটিতে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জিতেছেন। ওই দুই উপজেলায় সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন দলের প্রার্থী। ফলে সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনেই সুফল আসবে বলে আত্মবিশ্বাসী নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ উন্নয়ন এবং আদর্শের রাজনীতি করে। আগামী সংসদ নির্বাচনে আমরাই জয়ী হব।’

বসে নেই ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিও। বারবার কমিটি বদলের দ্বন্দ্বে অনেকটাই অগোছালো এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতারাও নিজ নিজ এলাকা গোছাতে শুরু করেছেন। মামলায় নাজেহাল হয়ে পড়া জামায়াতের কার্যক্রম নেই প্রকাশ্যে। তবে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনকেন্দ্রিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন গোপনে। বাম দলগুলোর কার্যক্রমও অনেকটাই নির্বাচনমুখী।

এবার নীলফামারী-৩ ও ৪ আসনের নতুন বিন্যাস হয়েছে। নীলফামারী-৩ আসনটি ছিল জলঢাকা উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে। সীমানা পুনর্নির্ধারণে কিশোরগঞ্জ উপজেলার তিন  ইউনিয়ন যুক্ত হয়েছে নীলফামারী-৪ আসনে। জেলায় দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৭২৬। হালনাগাদ তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৯ জন। সব মিলিয়ে এবারের ভোটারসংখ্যা ১৩ লাখ ২৫ হাজার ২০৫।

জলঢাকা আ. লীগে গ্রুপিং : জলঢাকা উপজেলায় আওয়ামী লীগে রয়েছে ত্রিধারার কোন্দল, যা নিয়ে অস্বস্তিতে জেলা নেতারা। একটি অংশে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টুসহ সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন রুবেল। অপর অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক নেতা আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর। ওই দুই অংশেরই প্রকাশ্য অবস্থান বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার বিপক্ষে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন এবং একে অপরকে প্রকাশ্যে গালমন্দের ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।

সহিদ হোসেন রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে আমাদের সাংগঠনিক বিরোধ নেই। আমরা বিরোধিতা করি তাঁর জামায়াতপ্রীতিকে। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর জামায়াতের নেতাকর্মীকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে চাকরি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’ একই মন্তব্য করেন আনছার আলী মিন্টু। তবে তাঁদের অভিযোগ নাকচ করেছেন অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা এমপি। তিনি বলেন, ‘আমি জলঢাকা ডিগ্রি কলেজ কমিটির সভাপতি ছিলাম, তাঁরাও কমিটিতে রয়েছেন। এ সময়ে ওই কলেজে যাদের চাকরি হয়েছে সেসব কাগজপত্রে তাঁরাও স্বাক্ষর করেছেন। আর সেখানে বেশির ভাগ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের। তারা কী করে জামায়াতের লোক হতে পারে?’ তিনি আরো বলেন, ‘২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জলঢাকা আইডিয়াল কলেজের সভাপতি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু। কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আজিজুল ইসলাম। মিন্টু সভাপতি থাকাকালে যেসব নিয়োগ দিয়েছেন সবই জামায়াতের। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সে কাজটি আদতে তিনিই করেছেন।’

গোলাম মোস্তফা এমপি আরো বলেন, ‘২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সভাপতি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু। এ সময়ে কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আজিজুল ইসলাম। তিনি সভাপতি থাকাকালে যেসব নিয়োগ দিয়েছেন সবই জামায়াতের। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সে কাজটি তিনিই করেছেন।’

গোলাম মোস্তফা আরো বলেন, ‘আনছার আলী মিন্টু গত নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন এবং নির্বাচনে আমার বিরোধিতা করেন। ফলে তাঁর কেন্দ্রে নৌকা মার্কা হেরে যায়। গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে তিনি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নিজের ভাইকে দাঁড় করিয়ে দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সে সময় অভিযোগটি করেছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতার কারণে তিনি বহিষ্কৃত হয়ে তিন বছর দলের বাইরে ছিলেন। এখন সাধারণ সম্পাদককে সঙ্গে নিয়ে আমার বিরোধিতা করছেন। সব সময় দলের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটাই সভাপতির স্বভাব।’

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সহসভাপতি মখলেছুর রহমান শাহ্ বলেন,‘ এমপি আমাদের সঙ্গে আছেন। সব কাজে আমরা তাঁকে কাছে পাচ্ছি। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে স্বার্থান্বেষী কিছু নেতা অভিযোগ করছেন এমপির বিরুদ্ধে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের পদে থেকে কেউ বহিষ্কৃত হয়ে পুনরায় দলে ফিরে এলে সদস্য পদ পাবেন, দায়িত্ব পাবেন না। সেখানে আনছার আলী মিন্টু বহিষ্কৃত হওয়ার পর দলে ফিরে এসে সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অবৈধ।’

বিএনপি : অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষণার জের ধরে বিএনপিতে রয়েছে বিভাজন। সম্প্রতি যুবদলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে পাঁচ সদস্যের যুবদলের কমিটি ঘোষণা, ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাদে তিনজনের পদত্যাগ করার বিষয়টি উল্লেখ করেন তাঁরা। এ কারণে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে বিএনপি। বঞ্চিত যুবদলের নেতাকর্মীরা বিরত রয়েছে বিএনপির কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে। বিভিন্ন সময়ে ওই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আহ্বান এবং কর্মসূচি ভণ্ডুল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি ছাত্রদলের সঙ্গেও বিএনপির সম্পর্কের অবনতি রয়েছে।

কোন্দলের জন্য জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুজ্জামানকে দায়ী করে যুবদল নেতা ও খালেদা জিয়া মুক্তি আন্দোলন জেলা কমিটির সদস্যসচিব আল নোমান পারভেজ কল্লোল বলেন, ‘ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাঁর আস্থাভাজন অযোগ্য নেতাদের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। এ কারণে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’

এর পরও বিগত নির্বাচনের বঞ্চনার ছাপ মুছে ফেলে আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বেড়েছে ব্যস্ততা। জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা রঞ্জু বলেন, ‘সদরসহ অন্যান্য আসনে আমাদের নেতাকর্মীরা জোটের পক্ষে বিএনপির প্রার্থী দাবি করে আসছে। দলের প্রার্থী হলে কোনো নেতাকর্মীই নিষ্ক্রিয় থাকবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে জয়ের লক্ষ্যে কাজ করব।’

দলটির নেতাকর্মীরা বলছে, জেলায় বেড়েছে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি। জোটগত নির্বাচনে আগে আসন ভাগাভাগি হতো। শরিক জামায়াত জোটের অংশে ভাগ বসিয়ে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এবার জেলার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থী দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

জাতীয় পার্টি : জাতীয় পার্টি বারবার কমিটি বদলের পালায় ঝিমিয়ে পড়েছে। তবে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দলটির কর্মী, সমর্থক এবং ভোটার রয়েছে। নেতাকর্মীরা জানায়, দলের ইমেজ ধরে রেখেছেন একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও একজন বর্তমান সংসদ সদস্য। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন জেলা কমিটির বর্তমান সদস্যসচিব। ওই সাবেক এবং বর্তমান সংসদ সদস্য নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। জেলা কমিটি নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়া জাতীয় পার্টিতেও চলছে নির্বাচনী আনাগোনা। কে কোন আসনের প্রার্থী হবেন তা নিয়ে চলছে জোর লবিং।

নবম সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনের মধ্যে দুটি ছিল জাতীয় পার্টির ভাগে। সে সময় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নীলফামারী-১ আসনে জাফর ইকবাল সিদ্দিকী এবং নীলফামারী-৩ আসনে কাজী ফারুক কাদের। দশম নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তাঁরা। সে নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির জেলা আহ্বায়ক শওকত চৌধুরী। বর্তমানে নীলফামারী-১ আসনে জাফর ইকবাল সিদ্দিকী এবং নীলফামারী-৪ আসনে শওকত চৌধুরী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকলেও নীলফামারী-৩ আসনে কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি কাজী ফারুক কাদেরের।

জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব এ কে এম সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, ‘আমাদের জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কমিটি সক্রিয় আছে। আমরা চেষ্টা করছি দলটির শক্তি পুনরুদ্ধারের।’

জামায়াত : বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত জামায়াতের নেতাকর্মীদের এখন আর প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কাজে দেখা যায় না। তবে নীরবে নির্বাচনী প্রস্তুতির কার্যক্রম চলার কথা জানিয়েছে নেতাকর্মীরা।

জেলায় জামায়াতের ঘাঁটি বলে পরিচিত জলঢাকা উপজেলা। সেখানে জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন একাধিবার। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ওই উপজেলায় জামায়াতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এ সময় সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে দুই জামায়াত-শিবিরকর্মীর মৃত্যুও হয়েছে। এ ছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলের সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে অপর এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা জানায়।

বাম দল : জেলায় একমাত্র সিপিবি ছাড়া দুই জোটভুক্ত ও জোটের বাইরে থাকা বাম দলগুলোর চোখে পড়ার মতো কার্যক্রম নেই। তবে মাঝে মধ্যে ওয়ার্কর্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, বাসদ, জাসদসহ বিভিন্ন বাম দলের কিছু কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। আগামী নির্বাচনে এসব দলের দু-একটি আসনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে বিএনপি জোটের শরিক ন্যাপ এবং একই আসনে বাসদ (খালেকুজ্জামান) থেকে অপর এক প্রার্থী রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শ্রীদাম দাস বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। আমরা চাই নির্বাচনের পরিবেশ, কালো টাকা এবং পেশিশক্তির অবসান।’

মনোনয়নপ্রত্যাশী

ডোমার-ডিমলা :  সংসদীয় আসন ১২, নীলফামারী-১। ডোমারের একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং  ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। দশটি সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন প্রথম, পঞ্চম, অষ্টম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন দ্বিতীয়, ষষ্ঠ (১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন তৃতীয়, চতুর্থ, সপ্তম ও নবম (মহাজোটের হয়ে) নির্বাচনে।

বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের ডিমলা উপজেলার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার। এবারও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ড. হামিদা বানু শোভা, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হোসেন সরকার, ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি, সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন, সাবেক এমএলএ মরহুম আব্দুর রহমান চৌধুরীর নাতি ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী জনি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) তছলিম উদ্দিন।

সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিন এ আসনে দলের পক্ষে চূড়ান্ত প্রার্থী। তাঁর বাবা দুর্নীতির মামলায় পলাতক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।

বিএনপি জোটের শরিক ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি মনোনয়ন চান আসনটিতে।

বাম মোর্চার প্রার্থী বাসদের (খালেকুজ্জামান) নেতা মো. আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী লাকু দলের সিদ্ধান্ত হলে আসনটিতে প্রার্থী হবেন।

সদর : সংসদীয় আসন ১৩, নীলফামারী-২। আসনটিতে রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা। আওয়ামী লীগ প্রথম, দ্বিতীয়, অষ্টম, নবম, দশম নির্বাচনে, সিপিবি পঞ্চম নির্বাচনে (আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে), জাতীয় পার্টি তৃতীয়, চতুর্থ, সপ্তম নির্বাচন ও বিএনপি ষষ্ঠ নির্বাচনে (১৫ ফেব্রুয়ারি ’৯৬) নির্বাচিত হয়। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। পর পর তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন তিনি।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক শিল্পপতি মো. সামসুজ্জামান। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জোটের পক্ষে আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী ছিল। জামায়াতের প্রার্থী পরপর তিনবার পরাজিত হওয়ায় আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থীর জোর দাবি করছে নেতাকর্মীরা। জোটের পক্ষে এ আসনের মনোনয়ন চাইছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু।

জলঢাকা : সংসদীয় আসন ১৪, নীলফামারী-৩। ১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা রয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রথম, পঞ্চম এবং দশম নির্বাচনে, জাতীয় পার্টি চতুর্থ এবং মহাজোটের হয়ে নবম নির্বাচনে, বিএনপি ষষ্ঠ (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে ও স্বাধীনতাবিরোধী মুসলীম লীগ দ্বিতীয়, জামায়াত তৃতীয়, সপ্তম এবং অষ্টম সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। এবারেও মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনি। সেখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরো আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন রুবেল, যুবলীগ নেতা আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর।

বিএনপির জোরালো কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী নেই। আসনটিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের পক্ষে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আজিজুল হক রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে।

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন দলটির জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব এ কে এম সাজ্জাদ পারভেজ।

সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ : সংসদীয় আসন-১৫, নীলফামারী-৪। সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। বিগত ১০টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রথম ও নবম সংসদে, বিএনপি দ্বিতীয়, ষষ্ঠ (১৫ ফেব্রুয়ারি) ও অষ্টম সংসদে, জাপা (এ) তৃতীয়, সপ্তম ও দশম সংসদে, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) পঞ্চম সংসদে (আওয়ামী লীগের সমর্থনে) এবং চতুর্থ সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য ও  বিরোধীদলীয় হুইপ জাতীয় পার্টির নীলফামারী জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত চৌধুরী। তিনি এবারও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ভাগ্নে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আসাদুর রহমানের ছেলে আহসান আদেলুর রহমান আদেল। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা কমিটির সভাপতি নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সাবেক মেয়র আকতার হোসেন বাদল, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেলওয়ে শ্রমিক নেতা মোকছেদুল মোমিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমেনা কোহিনুর, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক নাফিউল করিম, আওয়ামী লীগ সদস্য ব্যারিস্টার মকছেদুল ইসলাম, আওয়ামী কর আইনজীবী পরিষদের প্রকাশনা সম্পাদক আমির উল ইসলাম, প্রকৌশলী সেকেন্দার আলী, কিশোরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার ভজে, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ও কেন্দ্রীয় নেত্রী বিলকিস ইসলাম। জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই এ আসনটিতে।



মন্তব্য