kalerkantho


বিমানবন্দরে আবারও মাদক ‘খাত’ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিমানবন্দরে আবারও মাদক ‘খাত’ আটক

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আফ্রিকান মাদক ‘খাত’-এর আরো দুটি চালান জব্দ করা হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল শনিবার দুপুরে কার্গো ইউনিটের অভ্যন্তরে অবস্থিত ‘ফরেইন পোস্ট অফিসের’ মাধ্যমে ১৬০ কেজির একটি চালান জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। গত বুধবার ২০ কেজির আরেকটি চালান জব্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দারা। চা পাতার মতো গুঁড়া নিউ সাইকোট্রফিক সাবস্টেনসেস (এনপিএস) জাতীয় এই মাদক বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাচার হচ্ছিল বলে দাবি করে সংশ্লিষ্টরা। তবে শেষ দুটি চালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি তারা।

গতকাল ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) সহযোগিতায় জানা যায়, ৬ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে আসা জেট এয়ারওয়েজের ৯ ডাব্লিউ ২৭৬ ফ্লাইটে ৯টি এনপিএস চালান আসবে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে নজরদারি শুরু করেন বিমানবন্দর কাস্টমস কর্মকর্তারা। গত বৃহস্পতিবার ৯টি সন্দেহজনক কার্টন আসে, যা ফরেইন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আটক করা হয় এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। গতকাল দুপুরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে কার্টনগুলো খোলা হলে ভেতরে ‘গ্রিন টির’ মতো দেখতে পণ্যগুলো আটক করা হয়। তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এগুলো এনপিএস বা খাত বলে ধারণা করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় একজন ফরেনসিক এক্সপার্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, জব্দকৃত ওই কার্টনের পণ্যগুলো এনপিএস। ওজনে ১৬০ কেজি।’

কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী আরো বলেন, ‘এ চালানের রপ্তানিকারকের নামও জিয়াদ মুহাম্মদ ইউসুফ, ঠিকানা আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া। আর আমদানিকারক এশা এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে ঢাকার তুরাগ থানাধীন ব্লক-ডি, সড়ক-২, হাউস নম্বর-২৮।’

ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘এ চালানটি আমরা বুঝে নিয়েছি। প্রাপকের ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়েছে। ঠিকানাটি ভুয়া। তবে একটি গ্রিন টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা গেছে। কারবারিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত বুধবারও তল্লাশি চালিয়ে একই ধরনের ২০ কেজি মাদক জব্দ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। একই চক্র খাত বা এনপিএস জাতীয় মাদকগুলো পাঠালেও এখানে গ্রহণকারী চক্র ভিন্ন। এদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।’

নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, ‘খাত’ পপিগাছের মতো একটি মাদকের গাছ। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে এই গাছের গুঁড়া খাত নামেই পরিচিত। এটি ইয়াবার কাঁচামাল এমফিটামিনের মতোই উদ্দীপক। স্বাস্থ্যের জন্য এটি প্রচণ্ড রকমের ক্ষতিকর। পণ্যটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ‘খ’ তফসিলে ২ নম্বর ক্রমিকভুক্ত, যা একই আইনের ১৯(১) টেবিলের ১০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি মূলত চিবিয়ে বা পানিতে গুলিয়ে চায়ের মতো খাওয়া হয়। খাওয়ার পর ইয়াবার মতোই ক্লান্তি না আসা, ঘুম না হওয়াসহ শারীরিক বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এনপিএস আসক্ত ব্যক্তি মানসিক বৈকল্যে ভোগে। সামাজিকভাবে নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করে। কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলে। বেঁচে থাকা তার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে পারে।



মন্তব্য