kalerkantho


ধরলার ডলফিন মাতাচ্ছে রংপুর চিড়িয়াখানা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর    

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ধরলার ডলফিন মাতাচ্ছে রংপুর চিড়িয়াখানা

রংপুর চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি ডলফিন। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ধরলা নদীতে ধরা পড়া ডলফিনটির ঠাঁই মিলেছে রংপুর চিড়িয়াখানায়। খবর পেয়ে ডলফিনটি দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে লোকজন। বাংলাদেশে আবদ্ধ পরিবেশে ডলফিন সংরক্ষণ ও প্রদর্শন এটাই প্রথম। রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের বড়গ্রাম এলাকায় জেলেদের জালে গত মঙ্গলবার বিকেলে আড়াই মণ ওজনের ডলফিনটি উঠে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জেলেরা একটু বেশি আয়ের আশায় ডলফিনটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে জাল থেকে তুলে ভ্যানগাড়িতে উঠিয়ে রশি দিয়ে বাঁধা হয় ডলফিনটি। কিছু দূর যাওয়ার পর এটি নজরে আসে কয়েকজন যুবকের। ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা কিনে নেয় সেই ডলফিন। তারা সেটি ছিনাই বাজারে নিয়ে যায়। পানি ছাড়া তখনো বেঁচে ছিল ডলফিনটি। ধরলায় ধরা পড়া ডলফিন বাজারে প্রদর্শিত হচ্ছে এমন খবরে ছুটে যান রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশেদুল হক প্রধান। এর পরই শুরু হয় ডলফিনটি বাঁচানোর প্রক্রিয়া।

প্রথমে গর্ত করে পলিথিন বিছিয়ে পানিতে রাখা হয় ডলফিনটি। প্রায় তিন ঘণ্টা পানির বাইরে থেকে নেতিয়ে পড়া ডলফিনটি প্রাণ ফিরে পায়। এরই মধ্যে ইউএনও যোগাযোগ করেন রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। গাড়ি ও জনবল নিয়ে চলে আসেন চিড়িয়াখানার লোকজন। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে স্থানীয় ওই যুবকরাই ডলফিনটি কোলে করে রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের গাড়িতে তুলে দেয়।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিশু পার্কের লেকে ডলফিনটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সেখানে ভিড় করেছে। শিশুদের ডলফিন দেখানোর জন্য চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসেছে অনেকে। নগরের মুন্সীপাড়া এলাকার বিলকিছ বেগম তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে এসেছেন ডলফিন দেখানোর জন্য। তিনি বলেন, ‘টেলিভিশনে ডলফিন দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে দেখা হয়নি। তাই

সন্তানদের নিয়ে এসেছি।’ জুম্মাপাড়া এলাকার আরমান, শিরিন ও হনুমানতলা এলাকার আদৃতা বলেন, রংপুর চিড়িয়াখানায় দীর্ঘদিন ধরে একই পশুপাখি বিরাজ করছিল। নতুন অতিথি যুক্ত হওয়ায় অনেকটা সমৃদ্ধ হলো এই চিড়িয়াখানা।

রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ পানির বাইরে থাকা এবং ভ্যানগাড়িতে করে বেঁধে পরিবহনের ফলে ডলফিনটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সর্বোচ্চ চেষ্টায় এটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’ তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে বিচরণ করা এই ইরাবতি ডলফিনের গড় আয়ু ৩০ বছর। ৮ থেকে ৯ বছরে পূর্ণতা পেয়ে ডলফিন একটি বাচ্চা দেয়। মাছ ও শামুক এর প্রধান খাদ্য। বাংলাদেশে আবদ্ধ পরিবেশে ডলফিন সংরক্ষণ ও প্রদর্শন এটাই প্রথম।



মন্তব্য