kalerkantho


‘হরিলুটের চমৎকার আয়োজন’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত করবে

গঠিত প্যানেলের সদস্যরা জানেন না!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত করবে

মাস দেড়েক আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক ড. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন যাঁদের নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট প্যানেল করেছিলেন, সেই সদস্যরাই প্যানেল সম্পর্কে কিছু জানেন না। এমনকি প্যানেল গঠনের আগে সদস্যদের কিংবা তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষেরও অনুমতি নেওয়া হয়নি। গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠে ‘হরিলুটের চমৎকার আয়োজন’ শীর্ষক খবর প্রকাশের পর বিষয়টি বিভিন্ন মহলের নজরে আসে। খবরে গত ২৬ জুলাই গঠিত প্যানেলের সদস্যদের পরিচয়-পদবি প্রকাশের পর কোনো কোনো সদস্য ও কর্তৃপক্ষ বিস্ময় প্রকাশ করে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেশের বাইরে থাকায় গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় এটি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি। আর এ জন্যই মহাপরিচালক না আসা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি কবে করা হবে তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। আর আইনের লঙ্ঘন, চুক্তির লঙ্ঘন আর আর্থিক বিষয়গুলোকেই তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

ইনডিপেনডেন্ট প্যানেলে দুই নম্বরেই রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদের পদ-পদবি। তিনি একই সঙ্গে ঢামেকের অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে গতকাল যোগাযোগ করলে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’

গতকাল এসংক্রান্ত খবর দেখে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানকে নিকডুর ডায়ালিসিস সেন্টার পরিদর্শনের জন্য গঠিত ইনডিপেনডেন্ট প্যানেলের সদস্য করার কথা জানতে পেরেছি। তাৎক্ষণিক আমি আমার হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছি। তিনিও ওই প্যানেলে তাঁর পরিচয় ও পদবি থাকার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ওই প্যানেলের সদস্য করার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কেউ কোনো আলোচনা বা অনুমতি নেননি বলেও তিনি জানিয়েছেন। আর আমাকেও কেউ কিছু জানায়নি।’

গত ২৬ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। তিনি প্রথম কমিটির (নিকডু, ঢাকা) পরিদর্শনের জন্য গঠিত ইনডিপেনডেন্ট প্যানেলের চেয়ারপারসন হিসেবে নিজেকে (পরিচালক, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা) রেখে সদস্য করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপরিচালককে (হাসপাতাল-১)। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের একই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শনে গঠিত ইনডিপেনডেন্ট প্যানেলের চেয়ারপারসন হিসেবেও তিনি নিজেকে (পরিচালক, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা) রেখে সদস্য করেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন, সার্জারি ও নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (তিনজন) এবং চট্টগ্রামের গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপরিচালককে (হাসপাতাল-১)।

ওই দিনই পৃথক নোটিশ ইস্যু করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন; যেখানে তিনি নিজেরসহ ওই দুই কমিটির প্রতি সদস্যের জন্য পরিদর্শন ফি নির্ধারণ করেন। এ ক্ষেত্রে নিজের জন্য (ঢাকায়) ১৩ হাজার টাকা করে ৩৮ বারে চার লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রামে পরিদর্শনের জন্য চার লাখ ৯৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন। সব মিলিয়ে তিন বছরে তিনি একই কার্যক্রমে পরিদর্শন থেকে সম্মানী নির্ধারণ করেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

সেই সঙ্গে কাজী জাহাঙ্গীর হোসেনের অধীন একজন উপপরিচালক একইভাবে পাবেন প্রতিবার ১০ হাজার টাকা করে তিন বছরে ছয় লাখ টাকা। একই হারে টাকা পাবেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিরা। গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলীরা পাবেন ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতিবার পাঁচ হাজার টাকা করে তিন বছরে ৫৪টি পরিদর্শন থেকে ঢাকায় দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তিন বছরে পরিদর্শন ফি বাবদ ৩৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



মন্তব্য