kalerkantho


মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালে অ্যাটর্নি জেনারেলের মত

এম বদি-উজ-জামান   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালে অ্যাটর্নি জেনারেলের মত

ফাইল ছবি

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সরকারি ও আধাসরকারি চাকরিতে প্রচলিত শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিমত আজ সোমবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক দুটি রায়ের আলোকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ অভিমত দেন বলে জানা গেছে। মাহবুবে আলম গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) সরকারের কাছে (অভিমত) পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

সরকারি চাকরিতে বর্তমানে শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা রয়েছে। এ ছাড়া জেলা কোটা, পোষ্য কোটা, নারী কোটা, উপজাতি কোটা পদ্ধতি চালু রয়েছে। এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে তাদের দাবি মেনে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আলটিমেটাম দিয়েছে তারা।

সরকার গত ২ জুলাই কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদসচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি করে। কমিটি কোটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিমত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত সপ্তাহে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠানোও হয়। জানা যায়, চিঠি পাওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুটি রায় পর্যালোচনা করেন। এরপর তাঁর মতামতের একটি খসড়া তৈরি করা হয়। গতকাল এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

খাদ্য অধিদপ্তরে খাদ্য পরিদর্শক, উপপরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শক পদে চাকরির ক্ষেত্রে শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ না করে অন্যদের চাকরি দেওয়ায় ২০১০ সালে গাজী মো. শফিকুলসহ সাতজন চাকরিপ্রার্থী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনে হাইকোর্ট ওই বছরই রুল জারি করেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট রিট আবেদনকারীদের চাকরি দিতে নির্দেশ দেন। রায়ে বলা হয়, সরকারের সব চাকরিতে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল আবেদন দাখিল করে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করা না হয়ে থাকে তবে হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবিলম্বে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া চাকরিতে সরকারের আইন অনুযায়ী শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ করতে হবে।

এদিকে চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সালে রিট আবেদন করেন খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মো. জামাল উদ্দিন শিকদার। এ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। এ রায়েও মুক্তিযোদ্ধা পোষ্যদের ক্ষেত্রে শতকরা ৩০ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করতে বলা হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল আবেদন করে সরকার। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট রায় দেন। আপিল বিভাগের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, চাকরিতে শতকরা ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করা হচ্ছে। এই রায়েও আগের রায়ের কথা (গাজী মো. শফিকুলের রিট আবেদনে দেওয়া রায়) উল্লেখ করা হয়।



মন্তব্য