kalerkantho


শিবপুরে বরযাত্রার গাড়ি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত

নরসিংদী প্রতিনিধি    

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



শিবপুরে বরযাত্রার গাড়ি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত

নরসিংদীর শিবপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরের কোন্দারপাড়া (সোনাইমুড়ি পার্ক) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে বর-কনেসহ কমপক্ষে ১৩ জন। হতাহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিল। তারা নরসিংদীর রায়পুরায় বিয়ে শেষে চাঁদপুর ফিরছিল।

নিহতরা হলো নরসিংদীর রায়পুরার নবোয়ার চর এলাকার সুবল বর্মণের মেয়ে প্রান্তিকা বর্মণ (৬), চাঁদপুরের মতলবের ষাটনল এলাকার সুজন বর্মণ (৩৫), তাঁর স্ত্রী ভুলু বর্মণ (২৫) ও মেয়ে স্নিগ্ধা বর্মণ (৫), একই এলাকার কার্তিক চন্দ্র বর্মণের ছেলে শুভ বর্মণ (২৫), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের দুপতারা এলাকার নির্মল বর্মণের মেয়ে বৃষ্টি বর্মণ (৬), একই এলাকার নির্মল বর্মণের ছেলে সৌরভ বর্মণ (১০) এবং শরীয়তপুরের নড়িয়া এলাকার ভিডিওম্যান সজল (২০)।

আহতরা হলো নরসিংদীর রায়পুরার ভূঞাপুর এলাকার আমজাদ হোসেন (৩৮), নবোয়ার চর এলাকার কনে রুমা বর্মণ (২০), একই এলাকার সুমা বর্মণ (২৫), সায়ন্তিকা (৩), ঢাকার ডেমরার দেলোয়ার হোসেন (২৪), আড়াইহাজারের শামসুজ্জামান (৩৫), মতলবের নিলতা বর্মণ (৩২), অনিক চন্দ্র বর্মণ (১২), বিক্রম চন্দ্র বর্মণ (৪০), বর রাজু বর্মণ (২৫), মুন্সীগঞ্জের সোহাগ (২৮), কিশোরগঞ্জের জমশেদ (৩০) এবং নরসিংদীর ভেলানগর এলাকার বেনু মিয়া (৩৮)।

নিহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে চাঁদপুরের মতলবের রাজু বর্মণের সঙ্গে নরসিংদীর রায়পুরার রুমা বর্মণের বিয়ে হয়। বিয়ে শেষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রায়পুরা থেকে চাঁদপুর ফেরার পথে বর-কনেকে বহন করা মাইক্রোবাসটি কোন্দারপাড়া এলাকায় সোনাইমুড়ি পার্কের সামনে পৌঁছলে সিলেটগামী মিতালী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই স্নিগ্ধা, বৃষ্টি ও প্রান্তিকা মারা যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্নিগ্ধার বাবা সুজন বর্মণ মারা যান। আহতদের মধ্যে বেশির ভাগ গুরুতর আহত হওয়ায় দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাকি সবাইকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হয়। ঢাকা নেওয়ার পথে সৌরভ, শুভ, ভুলু ও সজল মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতদের আত্মীয় নরসিংদীর বীরপুর এলাকার লক্ষণ বর্মণ।

বর রাজু বর্মণের বড় বোন শুভা রানী বর্মণ বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০ জন বিয়েতে গিয়েছিল। বরযাত্রী সকালে ফেরার পথে প্রথমে তিনটি মাইক্রোবাস ও পরে বর-কনেকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাস রায়পুরা থেকে বাড়ি ফিরছিল। সেটিই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।’  

ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মিতালী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটির সামনের চাকা ফেটে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসের চারজন নিহত হয়। আহত হয়েছে ১৭ জন। এ ঘটনায় ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। একটি মামলার প্রস্তুতিও চলছে। ঢাকা নেওয়ার পথে আরো চারজন নিহত হয়েছেন বলে শুনতে পেয়েছি।’

শেরপুরের নকলায় ট্রাকচালক নিহত : এদিকে শেরপুর প্রতিনিধি জানান, নকলায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকালে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাইশকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রাকচালক নাহিদ মিয়া (২৫) শেরপুর সদরের বাজিতখিলা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার মৃত ফকির মিয়ার ছেলে। দুর্ঘটনার পর শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ ও দমকল বিভাগের উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।

নওগাঁর মহাদেবপুরে ফাজিল পরীক্ষার্থী নিহত : এদিকে নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, মহাদেবপুরের মগলিশপুর নামক স্থানে গতকাল সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় আতিক হোসেন (১৯) নামের এক মাদরাসা ছাত্র নিহত হয়েছেন। আতিক হোসেন উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের তিলক গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াহেবের ছেলে এবং উপজেলার জুয়ানপুর ফাজিল মাদরাসার ছাত্র।



মন্তব্য