kalerkantho


ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে নাশকতা করতে চেয়েছিল শিবির

অর্ধশতাধিক গ্রেপ্তার বহু আইডিতে নজর

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে নাশকতা করতে চেয়েছিল শিবির

ছাত্র আন্দোলনের সময় ফেসবুকে গুজব ও অপপ্রচার চালানোর ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট সূত্র জানায়, রিমান্ডে আসা সবাই ফেসবুকে গুজব রটনার কথা স্বীকার করেছে। আরো অর্ধশতাধিক ফেসবুক আইডি তাদের নিবিড় নজরদারির মধ্যে আছে। তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল জামায়াত-শিবির। তাদের প্রথম টার্গেট ছিল ঢাকার কোনো একটি সড়কে, সেটা ব্যর্থ হলে ঢাকার বাইরের কোনো একটি শিক্ষার্থী সমাবেশে। হামলার পর সে দৃশ্য ফেসবুকসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে বলা হতো সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠন এ কাজ করেছে। কয়েক দিনের অভিযানে তিন শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার হওয়ায় আপাতত তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিন শিবিরকর্মীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এমন তথ্য জানতে পেরেছে র‌্যাব।

তিন শিবিরকর্মীর মধ্যে রাতুল সরকার ও আসাদুল গালিব নামে দুজন সরাসরি শিবিরের ক্যাডার হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করে র‌্যাবকে জানিয়েছে, তারা শিবিরের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশমতো বিভিন্ন নাশকতায় জড়িত থাকত। তাদের ঘনিষ্ঠরা এখনো সুযোগ খুঁজছে। নির্বাচনের আগে তারা নাশকতার পরিকল্পনা করেই সংগঠিত হচ্ছে। তাদের পাশাপাশি আরো কিছু ইসলামী দলের সদস্যরাও সংগঠিত হচ্ছে।

সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জয়পুরহাট থেকে শিবিরের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এক র‌্যাব কর্মকর্তা। তাদের কাছ থেকে পাওয়া আরো কিছু ফেসবুক আইডি ‘ভেরিফাই’ করা হচ্ছে বলেও র‌্যাব সূত্র জানায়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া তিন শিবিরকর্মী সাম্প্রতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে নাশকতার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে। তাদের সঙ্গে আরো অনেকে আছে। যাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। সূত্র মতে, মেসেঞ্জারে ব্যাপক গুজব ছড়ায় জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আলোড়ন শিল্পগোষ্ঠীর আব্বাস উদ্দিন আল আজাদ নামের এক শিবির নেতা। তাঁকে এখনো ধরতে পারেননি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

র‌্যাব ছাড়াও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগ গোয়েন্দা পুলিশসহ (ডিবি), অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তেও ধরা পড়েছে ফেসবুকে নানা গুজবের তথ্য। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপকমিশনার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তদন্তে এরই মধ্যে ছাত্র আন্দোলনের সময় গুজব প্রচারকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক ফেসবুক আইডি যাচাই-বাছাই করে নানা অপপ্রচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবির ছাত্র আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে। বাকি

জারা জড়িত রয়েছে, ইন্ধনদাতা আছে তাদেরও শিগগিরই আটক করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই করে গুজবকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, তথ্য যাচাই শেষে ২৯ ফেসবুক ব্যবহারকারী বা পেজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে রমনা থানায় করা মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই মামলার তদন্ত করছে। এ ছাড়া ৫৭ ধারায় দায়ের করা মামলার তদন্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গতকাল পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছেন। তাদের মধ্যে অভিনেত্রী নওশাবাসহ ১১ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

 



মন্তব্য