kalerkantho


মানসিক নির্যাতন হয়েছে কি না পরীক্ষার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মানসিক নির্যাতন হয়েছে কি না পরীক্ষার নির্দেশ

শহিদুল আলম

আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে মানসিক অবস্থা পরীক্ষার মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন না—ব্যারিস্টার সারাহ হোসেনের এই বক্তব্যের পর হাইকোর্ট এ সিদ্ধান্ত দেন। ১৩ আগস্টের মধ্যে এ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’-২০১৩ এর ২(৬) ধারা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শহিদুল আলমকে রিমান্ডে নেওয়ার বৈধতা চালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে ও তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্ট যে আদেশ দেন, তা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন ১৩ আগস্ট পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে।

রিমান্ডে নেওয়ার বৈধতা চালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন। এ পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। শুনানির আগেই শহিদুল আলমের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডের দেওয়া প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছিল। প্রতিবেদন দেখার পর আদালত বলেন, ‘রিপোর্ট তো ভালো। প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু নেই।’ এর পর স্বাস্থ্য প্রতিবেদনটি ব্যারিস্টার সারাহ হোসেনকে দেখতে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন দেখে ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন বলেন, এ প্রতিবেদন শুধু অসুস্থতাসংক্রান্ত, মানসিক নির্যাতনের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শহিদুল আলমের বক্তব্য শুনেছেন। শহিদুল আলম সেখানে বলেছেন যে তাঁর মুখে ঘুষি মারা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের কোনো কথাই আদেশে লিপিবদ্ধ করেননি।

এ আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রিট আবেদনটি চলতেই পারে না, কারণ শহিদুল আলমকে বেআইনিভাবে নয়, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশের ভিত্তিতে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রিট আবেদনে শহিদুল আলমকে ভিকটিম বলা হয়েছে। এই ভিকটিম শব্দ তাঁর ক্ষেত্রে (শহিদুল আলম) প্রযোজ্য নয়। কারণ তিনি আসামি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করেছেন। তাই এ আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে যাওয়ার কথা, সরাসরি হাইকোর্টে নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, এই আসামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি আলজাজিরা টিভিতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করেছেন। এ কাজে কে তাঁকে উৎসাহিত করেছে তা বের করার জন্যই তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। অ্যাটর্নি জেনারেল একটি মোবাইল ফোন বিচারপতির হাতে দিয়ে বলেন, ‘দেখুন, ডিবি অফিসে শহিদুল আলম কিভাবে হাঁটছেন। তিনি যেভাবে হাঁটছেন তাতে কোনোভাবেই বলা যাবে না যে তিনি অসুস্থ।’

শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, পুলিশ আটকের পর কোনো আসামিকে হ্যান্ডকাপ পরাবে এটাই স্বাভাবিক। এ সময় আদালত একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি নিজে দেখেছি যে পুলিশ তিনটি মেয়েকে পেছনে হাত নিয়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে উপুড় করে ফেলে রেখেছে। এটাই হলো মানসিক নির্যাতন।’ শুনানি শেষে আদালত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এ দুটোর কোনোটি হয়েছে কি না তা দেখার আদেশ দেন। হাইকোর্টে শুনানির আগেই চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানি হয়। আবেদন দেখে প্রধান বিচারপতি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ তো ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়ে গেছে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা ঠিক। তবে হাইকোর্টে রিট আবেদন বিচারাধীন। এরপর আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেন এবং বলেন, হাইকোর্টে শুনানি করে আসুন।

খারাপ আচরণ হয়নি : এদিকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দাবি করেছে, শহিদুল আলমকে নির্যাতনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ডিবির উপকমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, ‘ওনাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করা হয়নি।’

 



মন্তব্য